ডেস্ক নিউজ : ট্রেডিং করপোরেশন অব বাংলাদেশ (টিসিবি) থেকে সাশ্রয়ী দামে কারা পণ্য পাবেন, তা সুনির্দিষ্ট করে দিয়েছে সরকার। এত দিন নিয়ম ছিল নিম্নআয়ের মানুষেরা পণ্য কিনতে পারবেন। নতুন নির্দেশিকায় সুবিধাভোগীদের তালিকা ও যোগ্যতা স্পষ্ট করা হয়েছে।
মঙ্গলবার ‘সমগ্র বাংলাদেশে টিসিবির উপকারভোগী নির্বাচন এবং ভর্তুকি/সাশ্রয়ীমূল্যে নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্য বিক্রয় কার্যক্রম বাস্তবায়ন নির্দেশিকা-২০২৬’ জারি করেছে বাণিজ্য মন্ত্রণালয়।
এতে উপকারভোগী নির্বাচন, কার্ড বিতরণ, ডিলারের পণ্য বিক্রি, হিসাব সংরক্ষণ এবং মাঠপর্যায়ে নজরদারির দায়িত্ব নির্দিষ্ট করে দেওয়া হয়েছে।
নির্দেশিকায় বলা হয়েছে, হতদরিদ্র পরিবার, নিম্নআয়ের ব্যক্তি, ভূমিহীন, কৃষিশ্রমিক, দিনমজুর, চা–শ্রমিক, চাতালশ্রমিক, কারখানার শ্রমিক ও উপার্জনে অক্ষম ব্যক্তিরা টিসিবির কার্ডধারী হবেন।
এ ছাড়া বিধবা, তালাকপ্রাপ্ত, স্বামী পরিত্যক্ত ও অসচ্ছল বয়স্ক নারীপ্রধান পরিবার অগ্রাধিকার পাবে। পাশাপাশি যেসব দুস্থ পরিবারে শিশু বা প্রতিবন্ধী রয়েছে, তাদের অগ্রাধিকার দেওয়া হবে। তবে একই পরিবারের একাধিক ব্যক্তি উপকারভোগী হতে পারবেন না।
কার্ড পাওয়ার জন্য উপকারভোগীর জাতীয় পরিচয়পত্র, প্রযোজ্য ক্ষেত্রে স্বামী বা স্ত্রীর জাতীয় পরিচয়পত্র এবং উপকারভোগীর জাতীয় পরিচয়পত্র দিয়ে নিজের নামে নিবন্ধিত সচল মোবাইল নম্বরের প্রয়োজন হবে।
নির্দেশিকায় সিটি করপোরেশন, জেলা, উপজেলা, পৌরসভা ও ইউনিয়ন পর্যায়ে আলাদা তদারক কমিটি গঠনের কথা বলা হয়েছে। এসব কমিটির মাধ্যমে উপকারভোগী নির্বাচন, তথ্যভান্ডার তৈরি, কার্ড বিতরণ ও পণ্য বিক্রির কার্যক্রম তদারক করা হবে।
কতটুকু ও কী কী পণ্য মিলবে
টিসিবির ফ্যামিলি কার্ডধারী প্রতিটি পরিবার নিয়মিতভাবে পাবে ২ লিটার ভোজ্যতেল (প্রতি লিটার ১০০ টাকা), মসুর ডাল ২ কেজি (প্রতি কেজি ৬০ টাকা), চিনি ১ কেজি (প্রতি কেজি ৭০ টাকা), চাল খাদ্য মন্ত্রণালয়ের বরাদ্দ সাপেক্ষে ৫ কেজি।
পবিত্র রমজান ও ঈদুল আজহা উপলক্ষে সাধারণ মানুষের জন্য ভ্রাম্যমাণ ট্রাকসেলের মাধ্যমেও পণ্য বিক্রি করতে পারবে টিসিবি।
চলতি ২০২৬-২৭ অর্থবছরে ২ লাখ টন ভোজ্যতেল, ২ লাখ ২০ হাজার টন মসুর ডাল ও ১ লাখ ১০ হাজার টন চিনি বিক্রির লক্ষ্যমাত্রা রাখা হয়েছে।
ডিলারের দোকানে সিসিটিভি ও মাঠ পর্যায়ে কঠোর নজরদারি স্বচ্ছতা ও জবাবদিহি নিশ্চিতে প্রতিটি স্তরে মনিটরিং কমিটি ও নতুন শর্ত যুক্ত করা হয়েছে।
১. নিরাপত্তা ও জালিয়াতি রোধে ডিলারকে তাঁর নিজস্ব দোকানে বাধ্যতামূলক সিসিটিভি ক্যামেরা স্থাপন করতে হবে। সামনে টাঙাতে হবে মূল্যতালিকা।
২. জেলা পর্যায়ে জেলা প্রশাসককে সভাপতি ও স্থানীয় সংসদ সদস্যদের উপদেষ্টা করে কমিটি গঠন করা হবে, যেখানে পুলিশ সুপার, ইউএনও, মেয়র, খাদ্য ও সমাজসেবা কর্মকর্তারা থাকবেন।
৩. সব উপকারভোগীর তথ্য ‘টিসিবি সেবা অ্যাপ’-এর মাধ্যমে সেন্ট্রাল ডেটাবেইস সংরক্ষণ করা হবে।
উল্লেখ্য, সম্প্রতি অনিয়মের অভিযোগে ভূয়া বা ভুয়া প্রক্রিয়ায় সংগৃহীত প্রায় ৫৯ লাখ কার্ড বাতিল করা হয়েছে বলে জানিয়েছেন বাণিজ্যমন্ত্রী খন্দকার আবদুল মুক্তাদির। এসব কার্ড নতুন ডিজিটাল পদ্ধতিতে প্রকৃত সুবিধাভোগীদের হাতে তুলে দেওয়া হচ্ছে।
বিগত অর্থবছরে টিসিবিকে ২,৭০০ কোটি টাকা ভর্তুকি দিতে হলেও চলতি ২০২৬-২৭ অর্থবছরে তা কমে ২,৪০০ কোটি টাকা হবে বলে আশা করা হচ্ছে।
কিউটিভি/অনিমা/৩০ সেপ্টেম্বর ২০২৬,/সকাল ১০:৩৮
