চট্টগ্রামে পুলিশ পরিচয়ে প্রতারণার মূলহোতা গ্রেফতার

Ayesha Siddika | আপডেট: ২৬ সেপ্টেম্বর ২০২৬ - ১০:৩৩:০১ পিএম

ডেস্ক নিউজ : চট্টগ্রামে পুলিশ কর্মকর্তা পরিচয়ে মামলার বাদীর কাছ থেকে টাকা হাতিয়ে নেওয়া চক্রের মূলহোতাকে গ্রেফতার করেছে পুলিশ ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশন (পিবিআই)। তার নাম মোজাম্মেল হক ওরফে কবির। মোজাম্মেল হক কখনও পিবিআই, সিআইডি কিংবা ডিবি পুলিশের কর্মকর্তা সেজে মামলার বাদীদের কাছে ফোন দিতেন। বলতেন, ‘আমি আপনার মামলার তদন্ত কর্মকর্তা (আইও), তদন্তে মাঠে যেতে হবে, গাড়িভাড়া ও নাশতার খরচ লাগবে।’

খরচের বিনিময়ে তদন্ত প্রতিবেদন বাদীর পক্ষে দেওয়ার প্রলোভন দিতেন। তার শেষ রক্ষা হয়নি। শুক্রবার রাতে নোয়াখালীর সুধারামে অভিযান চালিয়ে মোজাম্মেলকে গ্রেফতার করা হয়। একইসঙ্গে উদ্ধার করা হয় প্রতারণায় ব্যবহৃত একাধিক মোবাইল ফোন ও ডিভাইস। শনিবার দুপুরে চট্টগ্রাম মেট্রো কার্যালয়ে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে পিবিআই চট্টগ্রামের পুলিশ সুপার এম কে এইচ মো. জাহাঙ্গীর হোসেন গ্রেফতারের বিস্তারিত তথ্য তুলে ধরেন। গ্রেফতার মোজাম্মেল হক চট্টগ্রাম আদালতের একজন আইনজীবীর সহকারী হিসেবে কাজ করতেন।

সংবাদ সম্মেলনে জানানো হয়— মোজাম্মেলক হক পেশাদার প্রতারক চক্রের সদস্য। বিশ্বাস অর্জনে তুলে ধরতেন মামলার এমন সব গোপন তথ্য, যা বাদী ছাড়া আর কারো জানার কথা নয়। সিআর (কোর্ট রেজিস্ট্রেশন) মামলার বাদীর কাছ থেকে বিকাশ ও নগদের মাধ্যমে নানা কৌশলে টাকা হাতিয়ে নিতেন। সংবাদ সম্মেলনের একটি ঘটনার বিবরণ তুলে ধরে জানানো হয়— ফটিকছড়ির এক মামলার বাদীকে ফোন করে পিবিআইয়ের এসআই আবু সুফিয়ানের পরিচয় দেওয়া হয়।

ফোনে বলা হয়, ২ হাজার টাকা পাঠালে ফটিকছড়িতে না গিয়েই দূর থেকে তদন্ত শেষ করে আদালতে প্রতিবেদন জমা দেওয়া হবে।  বাদী পিবিআই চট্টগ্রাম কার্যালয়ে গিয়ে সরাসরি এসআই আবু সুফিয়ানের খোঁজ করেন। প্রতারক বলেছিলেন, ‘তিনি অফিসের বাইরে রয়েছেন’। অথচ এসআই আবু সুফিয়ান তখন কার্যালয়েই উপস্থিত ছিলেন। বাদী যখন টাকা পাঠানোর বিষয়টি তুলে ধরেন, তখন এসআই আবু সুফিয়ান স্পষ্ট জানান, তিনি কোনো টাকা চাননি এবং যে নম্বর থেকে ফোন গেছে, সেটি তার নয়।

বিষয়টি বুঝতে পেরে ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের অবহিত করেন এসআই আবু সুফিয়ান। এরপর বুধবার চট্টগ্রামের রাউজান থানায় মামলা করা হয়। মামলা হওয়ার পর তদন্তভার নেয় পিবিআই। পিবিআই’র একটি তদন্ত দল নোয়াখালীর সুধারামে অভিযান চালিয়ে মোজাম্মেলকে গ্রেফতার করে। একইসঙ্গে উদ্ধার করা হয় প্রতারণায় ব্যবহৃত একাধিক মোবাইল ফোন ও ডিভাইস। মোজাম্মেল পুলিশ কর্মকর্তা পরিচয় দিয়ে মামলার বাদীদের টার্গেট করে প্রতারণা করতেন। প্রতারণার অভিযোগে এর আগে ইউনিলিভারে চাকরি করতেন।

কয়েক মাস আগে চাকরিচ্যুত হন। চাকরি হারানোর পর গত প্রায় দুই মাস ধরে চট্টগ্রাম আদালতে একজন আইনজীবীর সহকারী বা মুহুরি হিসেবে কাজ শুরু করেন। এরপর তিনি জড়িয়ে পড়েন প্রতারণা কাজে। পুলিশ সুপার এম কে এইচ মো. জাহাঙ্গীর হোসেন বলেন, মোজাম্মেল হক পেশাদার প্রতারক চক্রের সদস্য। ‘কোনো তদন্তকারী সংস্থা ফোন করে এভাবে টাকা দাবি করে না। কেউ যদি পিবিআই, সিআইডি বা ডিবির পরিচয় দিয়ে টাকা চায়, তবে নিকটস্থ থানা বা সংশ্লিষ্ট কার্যালয়ে সরাসরি যোগাযোগ করে নিশ্চিত হতে হবে। তদন্ত প্রতিবেদন পক্ষে দেওয়ার কথা বলে টাকা চাওয়াটাই একটি বড় প্রতারণার লক্ষণ।’

 

 

আয়শা/২৬ সেপ্টেম্বর ২০২৬,/রাত ১০:৩০

▎সর্বশেষ

ad