মো আসাদুজ্জামান আসাদ দিনাজপুর প্রতিনিধি : বিদ্যমান জ্বালানি সঙ্কট মোকাবিলা ও ভবিষ্যৎ জ্বালানি নিরাপত্তায় প্রাথমিক জ্বালানি বহুমুখীকরণের পরিকল্পনা করেছে সরকার। জাতীয় সংসদে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের স্পষ্ট বক্তব্য ছাড়াও মিডিয়া ও ব্যবসায়ীদের নিয়ে সরকারের উচ্চপর্যায়ের বৈঠকে পথনকশাও উপস্থাপন করা হয়েছে। অর্থমন্ত্রী আমেরিকান চেম্বারের অনুষ্ঠানে বক্তব্য দিয়ে কয়লা বা স্থানীয় সম্পদ ব্যবহারের বিকল্প নেই বলে মতামত দিয়েছেন। দেশের চলমান জ্বালানি সম্পদ ও সরবরাহ পরিস্থিতি বিবেচনায় দেশীয় সম্পদ বিশেষ করে উত্তরাঞ্চলের কয়লা ব্যবহারের কথা স্পষ্ট করেই বলেছেন।
বিশ্বের বড় বড় দেশ বিশেষ করে প্রতিবেশী ভারত, চীন, অস্ট্রেলিয়া, আমেরিকা, কানাডা ও রাশিয়ার অনুসরণে কয়লাভিত্তিক বিদ্যুৎ কেন্দ্রের ওপর জোর দেয়ার পরিকল্পনা করা হয়েছে। বর্তমানে কয়লাভিত্তিক বিদ্যুৎ উৎপাদন ক্ষমতা গড়ে ৭ হাজার মেগাওয়াটের ওপর আরও নতুন প্ল্যান্ট করার পরিকল্পনা করা হয়েছে। দেশী সম্পদ উত্তোলন ও ব্যবহারের মাধ্যমে আমদানি কমানো গেলে বিপুল বৈদেশিক মুদ্রা সাশ্রয়ের চেয়ে বড় জাতীয় স্বার্থে আর কিছু নেই বলে ভাবা হচ্ছে।
এদিকে সরকারের এই পথনকশা বাস্তবায়নের বিরোধিতাও ক্রমশ স্পষ্ট হচ্ছে। সরকারের পথনকশায় মধ্য থেকে দেশি সম্পদ আহরণ বিশেষ করে কয়লা উত্তোলনের বিরুদ্ধে প্রকাশ্যে বক্তব্য এসেছে। এমনকি ফুলবাড়িতে উন্মুক্ত পদ্ধতিতে কয়লা উত্তোলনকে রুখে দেয়ার জন্য ছোট খাটো সভা মিছিল হয়েছে। এই কয়লা মজুদ এলাকার বড়পুকুরিয়া, পার্বতীপুর, বিরামপুর নবাবগঞ্জে কোন প্রতিবাদের কথা এ্রখন পর্যন্ত জানা যায়নি। জাতীয় স্তরে জাতীয় দৈনিকে কলাম, সাক্ষাৎকার ও প্রবন্ধের মাধ্যমে সরকারের পথ নকশায় অন্তর্ভূক্ত স্থানীয় সম্পদ বা কয়লা ব্যবহারের বিরুদ্ধে তীব্র সমালোচনা আসা শুরু হয়েছে।
দেশের নিরপক্ষে জ্বালানি বিশেষজ্ঞরা প্রায় সবাই জ্বালানি বহুমুখীকরণের ওপর গত বিশবছর ধরে মতামত দিয়ে আসছেন। দীর্ঘমেয়াদী জ্বালানি নিরাপত্তায় প্রাথমিক জ্বালানির একক উৎসের ওপর নির্ভর কোন দেশই করে না। বাংলাদেশের বিপুল গ্যাস মজুদের দিন এখন শেষ। বর্তমানে যে গ্যাস আছে, তা আগামী ৭ থেকে ১০ বছর চলতে পারে বলা হচ্ছে। নীতিনির্ধারকরা তাই বহুমুখী জ্বালানি উৎসের অনুসন্ধান করে বেড়ােচ্ছন। তাদের সামনে সহজ, সস্তা ও সহজলভ্য সমাধান হিসাবে দেশীয় কয়লার বিষয়টি সামনে এসেছে।
একই বিবেচনায় সরকার গ্যাস অনুসন্ধান জোরদার করা, নবায়নযোগ্য জ্বালানির ওপর জোর দেয়ার কাজ শুরু করেছে। উন্মুক্ত পদ্ধতি হোক বা আন্ডারগ্রাউন্ড পদ্ধতি- সবক্ষেত্রেই কয়লা উত্তোলনে পুনর্বাসনের, চাকরি ও স্থানীয় মানুষের উন্নত জীবনযাপনের ব্যবস্থার বিষয়টি সামনে আসবে। এ চ্যালেঞ্জের কথা চিন্তা করেই প্রধানমন্ত্রী জাতীয় সংসদের ঘোষণা দিয়েছেন স্থানীয়দের পুনর্বাসনের মাধ্যমে কয়লা তোলা হবে। এদিকে সরকারের পথনকশায় অন্যান্য ক্ষেত্রে বিরোধিতা জোরালো না হলেও স্থানীয় সম্পদের ব্যবহার বা কয়লা উত্তোলনের বিরোধিতা ক্রমেই স্পষ্ট হয়ে উঠছে।
যুক্তি হচ্ছে, উন্মুক্ত খনি হলেও পুরো উত্তরাঞ্চলের পানি সম্পদ, প্রকৃতি ও কৃষি ব্যবস্থা ধ্বংস হবে। যদিও বিশেষজ্ঞরা বলেন, উত্তরাঞ্চলের দেড়শ’কিলোমিটারের মধ্যেই ভারতের ঝাড়খন্ডের হাজারীবাগ জেলায় শত শত উন্মুক্ত খনি পরিচালিত হচ্ছে। একদিকে জাতীয় ও স্থানীয় কিছু মানুষের বিরোধিতা, অন্যদিকে স্থানীয় মানুষের পুনর্বাসন, পানি ও কৃষি ব্যবস্থাপনা, যুবকদের কর্মসংস্থান ও জীবিকা পুণরুদ্ধারের চ্যালেঞ্জের প্রেক্ষিতে জাতীয় সম্পদ কয়লাকে দেশের স্বার্থে সরকার কীভাবে ব্যবহার করতে সক্ষম হয়, সেটাই এখন দেখার বিষয়।
আয়শা/২১ সেপ্টেম্বর ২০২৬,/বিকাল ৫:৪০
