ডেস্ক নিউজ : মিষ্টি পুরোপুরি ছেড়ে দেওয়া এবং নিয়মিত ওষুধ খাওয়ার পরও যদি আপনার ব্লাড সুগার নিয়ন্ত্রণে না আসে, তবে বুঝতে হবে— ডায়াবেটিস ব্যবস্থাপনায় আপনার কোথাও কোনো সূক্ষ্ম ভুল হচ্ছে। ডায়াবেটিস কেবল চিনি খাওয়ার সঙ্গে যুক্ত নয়, এটি একটি জটিল মেটাবলিক বা বিপাকীয় সমস্যা। তাই শুধু মিষ্টি বন্ধ করলেই সুগার স্বাভাবিক হয়ে যাবে— এমনটি ভাবা ঠিক নয়।
ডায়াবেটিসের এমন সমস্যা ঘরে ঘরে। জীবনযাত্রার অনিয়ম ও অস্বাস্থ্যকর খাদ্যাভ্যাস অনেকটাই বাড়িয়ে দেয় এ রোগের আশঙ্কা। অনেকেই ভাবেন— কেবল চিনি খেলেই বুঝি ডায়াবেটিস হয়। এটা ঠিক যে চিকিৎসকরা অতিরিক্ত চিনি খাওয়া নিষেধ করে থাকেন। কারণ চিনি ডায়াবেটিসের আশঙ্কা বাড়িয়ে দেয় বটে, তবে কেবল চিনি খাওয়া থামালেই যে ডায়াবেটিসের আশঙ্কা দূর হয়ে যাবে, এমনটি ভাবা ঠিক নয়।
এ বিষয়ে দিল্লির চিকিৎসক বর্তিকা বিশ্বানী বলেন, চিনি, মিষ্টি, নরম পানীয়, ভাত-রুটি— সব বন্ধ করে দিয়েও ডায়াবেটিস না কমলে অনেকেই চিন্তিত হয়ে পড়েন। সমস্যাটা কোথায় হচ্ছে তা বুঝতে পারেন না।
চিকিৎসক বর্তিকা বিশ্বানী বলেন, মিষ্টি খেলেই সুগার বাড়ে— এ ধারণা একেবারেই ভুল। চিনি খাওয়া বন্ধ করে দিলেই সুগার নিয়ন্ত্রণে থাকবে, বিষয়টি ততটাও সহজ নয়। চিনি না খেলেও শরীরে ইনসুলিন রেজিস্ট্যান্স বাড়তে পারে, লিভার থেকে গ্লুকোজের নিঃসরণ হতে পারে। ঘুম ঠিক না হলে, বেশি মানসিক চাপের মধ্যে থাকলে, ওজন বাড়লে বা অস্বাস্থ্যকর খাওয়া-দাওয়া করলেও সুগার বাড়তে পারে। ডায়াবেটিস আদতে মেটাবলিক ডিজিজ। দুজন মানুষ রোজ একই খাবার খেলেও দুজনের শরীরে সুগারের মাত্রায় তারতম্য হতে পারে। কারণ দুজনের বিপাক হার সমান হয় না। চিনি খেলে নয়, শরীরের ভেতর কী হচ্ছে, তার ওপর নির্ভর করে সুগার।
‘ইনসুলিন রেজিস্ট্যান্স’ থাকলে যা করবেন
পিসিওডি, ইরেক্টাইল ডিজিফাংশন, ত্বকের রঙ বদলে যাওয়ার নেপথ্যে ইনসুলিন রেজিস্ট্যান্স থাকতে পারে। তবে শুধু সমস্যাভিত্তিক চিকিৎসায় এর সমাধান সম্ভব নয়। বরং দৈনন্দিন জীবনে বদল আনা জরুরি। যেমন—
১. নিয়ম করে হাঁটা, শরীরচর্চা এবং ওজন বশে রাখা দরকার।
২. প্রোটিন-ফাইবারজাতীয় খাবার খাওয়া, ভাজাপোড়া এড়ানো।
৩. পর্যাপ্ত ঘুম জরুরি।
৪. মানসিক চাপ কমানোর জন্য যোগাভ্যাস করা।
আয়শা/১৯ সেপ্টেম্বর ২০২৬,/বিকাল ৫:৫৩
