ডেস্ক নিউজ : বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নর মো. মোস্তাকুর রহমান বলেছেন, দেশের তরুণ জনগোষ্ঠীকে অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ডের মূলধারায় যুক্ত করে উদ্যোক্তা হিসেবে গড়ে তুলতে বিশেষ উদ্যোগ নিয়েছে বাংলাদেশ ব্যাংক। একই সঙ্গে উচ্চ সুদের চাপ কমিয়ে উদ্যোক্তাদের স্বল্প সুদে অর্থায়ন, বন্ধ শিল্পকারখানা সচল করা এবং কর্মসংস্থান বাড়াতে ৬০ হাজার কোটি টাকার প্রণোদনা প্যাকেজ বাস্তবায়নের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।
বেসরকারি খাতের উন্নয়নে ঘোষিত এসব প্রণোদনা প্যাকেজ বাস্তবায়নে বগুড়া অঞ্চলের অংশীজনদের মতামত ও সুপারিশ নিতে শুক্রবার বাংলাদেশ ব্যাংক বগুড়া অফিসের সম্মেলন কক্ষে এক মতবিনিময় সভা অনুষ্ঠিত হয়। সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এ কথা বলেন।
বাংলাদেশ ব্যাংক বগুড়া অফিসের নির্বাহী পরিচালক মো. সাখাওয়াত হোসেনের সভাপতিত্বে সভায় বিশেষ অতিথির বক্তব্য রাখেন বাংলাদেশ ব্যাংকের প্রধান কার্যালয়ের পরিচালক (ব্যাংকিং ও ফিন্যান্স) সালাউদ্দিন তফাদার এবং কৃষি ঋণ বিভাগের-২ এর পরিচালক একেএম সাইদুজ্জামান। স্বাগত বক্তব্য দেন বাংলাদেশ ব্যাংক বগুড়ার পরিচালক (প্রশাসন) সরদার আল ইমরান। সভায় কনসেপ্ট পেপার উপস্থাপন করেন বাংলাদেশ ব্যাংক বগুড়ার পরিচালক (পরিদর্শন) সেলিম আহমেদ।
সভায় গভর্নর মো. মোস্তাকুর রহমান বলেন, উচ্চ সুদের কারণে বর্তমানে উদ্যোক্তাদের ব্যবসা পরিচালনায় বড় ধরনের চাপ তৈরি হয়েছে। বর্তমানে ব্যাংক ঋণের সুদহার প্রায় ১২ থেকে ১৪ শতাংশ। এ অবস্থায় উচ্চ ব্যয়ে ব্যবসা পরিচালনা করে সফল হওয়া উদ্যোক্তাদের জন্য কঠিন হয়ে পড়েছে।
এই পরিস্থিতি মোকাবিলায় বাংলাদেশ ব্যাংক বিভিন্ন প্রণোদনা প্যাকেজের আওতায় স্বল্প সুদে অর্থায়নের ব্যবস্থা করেছে জানিয়ে তিনি বলেন, ৬০ হাজার কোটি টাকার প্রণোদনা প্যাকেজের মূল লক্ষ্য হলো উদ্যোক্তাদের অর্থায়নের ব্যয় কমানো এবং ব্যবসাকে টেকসই করার সুযোগ তৈরি করা।
তিনি জানান, বাণিজ্যিক ব্যাংক থেকে ১০ শতাংশ সুদে উদ্বৃত্ত তহবিল নিয়ে উদ্যোক্তা ও ব্যবসায়ীদের জন্য ৪ শতাংশ সুদে ব্যাংকগুলোকে তহবিল সরবরাহ করা হচ্ছে। এ ক্ষেত্রে বাংলাদেশ ব্যাংকের নিজস্ব অর্থ ব্যয় হচ্ছে না। ৬ শতাংশ সুদের ভর্তুকি সরকার বহন করছে। এ ব্যবস্থার ফলে উদ্যোক্তাদের জন্য ব্যবসায়িকভাবে কার্যকর ও টেকসই অর্থায়নের সুযোগ তৈরি হবে।
তরুণদের উদ্যোক্তা হিসেবে গড়ে তুলতে বিশেষ একটি পাইলট কর্মসূচি নেওয়া হয়েছে বলেও জানান গভর্নর। তিনি বলেন, সম্প্রতি দেশের তরুণদের মধ্যে যে উৎসাহ, উদ্দীপনা ও অংশগ্রহণ দেখা গেছে। সেই শক্তিকে দেশের অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ডে কাজে লাগানোর লক্ষ্যেই এ উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। প্রাথমিকভাবে এই কর্মসূচির আওতায় ৫ হাজার তরুণ উদ্যোক্তা তৈরির লক্ষ্য নির্ধারণ করা হয়েছে। প্রথম পর্যায়ে ৮টি জেলায় ১৬ সেপ্টেম্বর থেকে ১৫ অক্টোবর পর্যন্ত আবেদন গ্রহণ করা হবে। এরপর বাকি ৫৬ জেলায় ১ নভেম্বর থেকে ৩০ নভেম্বর পর্যন্ত আবেদন নেওয়া হবে।
তিনি বলেন, পাইলট কর্মসূচি সফল হলে ভবিষ্যতে এর পরিধি আরও বাড়ানোর পরিকল্পনা রয়েছে। দেশের তরুণ জনগোষ্ঠীকে অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ডের মূলধারায় নিয়ে এসে তাদের উদ্যোক্তা হিসেবে গড়ে তোলাই এ উদ্যোগের অন্যতম লক্ষ্য।
সভা শেষে অংশীজনেরা বলেন, সংশ্লিষ্ট সব পক্ষের গঠনমূলক মতামত ও সমন্বিত সহযোগিতার ভিত্তিতে প্রণীত নীতিমালা বাস্তবায়নের পাশাপাশি কৃষিভিত্তিক শিল্প স্থাপনে গুরুত্ব দেওয়া প্রয়োজন। সভায় তফসিলি ব্যাংকের আঞ্চলিক প্রধান ও ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা, বিভিন্ন এনজিওর প্রতিনিধি, ব্যবসায়ী ও শিল্পোদ্যোক্তা, কৃষি উদ্যোক্তা, ক্ষুদ্র ও মাঝারি শিল্প (এসএমই) খাতের প্রতিনিধি, বগুড়া অঞ্চলের চেম্বার অব কমার্স অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রির নেতৃবৃন্দ, বিভিন্ন সরকারি-বেসরকারি প্রতিষ্ঠানের প্রতিনিধি, নারী উদ্যোক্তা এবং গণমাধ্যমকর্মীরা অংশ নেন।
কিউটিভি/অনিমা/১৯ সেপ্টেম্বর ২০২৬,/বিকাল ৫:২৫
