বিশ্ববাজারে কেন কমছে স্বর্ণের দাম?

Ayesha Siddika | আপডেট: ১৭ সেপ্টেম্বর ২০২৬ - ১১:২৬:৩৩ পিএম

আন্তর্জাতিক ডেস্ক : ভূরাজনৈতিক উত্তেজনা আর ডলারের প্রভাবে কমছে স্বর্ণের দাম। বিশ্ববাজারে মূল্যবান ধাতুটির দাম কয়েক মাস ধরেই নিম্নমুখি। যদিও যেভাবে দাম বেড়েছিল তার তুলনায় দাম কমার প্রবণতা কম। তবুও প্রশ্ন উঠেছে, স্বর্ণের দাম কেন বাড়ছে?

আন্তর্জাতিক বাজারে স্বর্ণের দাম গত ২৮ জানুয়ারি প্রতি ট্রয় আউন্স (৩১.১ গ্রাম) পাঁচ হাজার ৬০২ ডলারে পৌঁছেছিল। যেটি কমে বর্তমানে ৪ হাজার ২৩৫ ডলারে নেমে এসেছে। এই দাম আরও কমতে পারে বলেই বিশ্লেষকদের ধারণা।

অর্থনীতিবিদরা বলছেন, মধ্যপ্রাচ্যে যুদ্ধ শুরুর পর থেকেই স্বর্ণের বাজার চাপে রয়েছে। যুদ্ধের কারণে বিশ্ববাজারে তেল ও গ্যাস সরবরাহে বিঘ্ন ঘটায় জ্বালানির দাম ঊর্ধ্বমুখী। যার সরাসরি প্রভাব পড়ছে মূল্যস্ফীতিতে।

এছাড়া অগাস্ট মাসে যুক্তরাষ্ট্রে ভোক্তার খরচ ও এর মূল সূচক চার মাসের মধ্যে সবচেয়ে বেশি বেড়েছে। ফলে দেশটির কেন্দ্রীয় ব্যাংককে দীর্ঘ সময় ধরে সুদের হার চড়া রাখতে হতে পারে বলে শঙ্কা তৈরি হয়েছে।

রয়টার্সকে ট্রেডিং প্ল্যাটফর্ম এর বাজার বিশ্লেষক ফ্রাঙ্ক ওয়ালবাউম বলেছেন, ফেডারেল রিজার্ভের কঠোর নীতি স্বর্ণের দাম নিচের দিকে নামাতে পারে, অন্যদিকে কোনো নমনীয় বার্তা সুদের হার বাড়ানোর সম্ভাবনাকে কমিয়ে এই ধাতুর দাম পুনরুদ্ধারে সাহায্য করতে পারে। এছাড়া ব্যবসায়ীরা তেলের দাম এবং মধ্যপ্রাচ্যের পরিস্থিতিও নিবিড়ভাবে পর্যবেক্ষণ করছেন।

দুই একদিনের মধ্যে সুদ হারের বিষয়ে নতুন সিদ্ধান্ত জানাবে যুক্তরাষ্ট্রের কেন্দ্রীয় ব্যাংক। ফলে প্রতিষ্ঠানটির বার্তার দিকে তাকিয়ে আছে স্বর্ণের বাজার। এছাড়া সৌদি আরব ইয়ানবু বন্দর থেকে তেল খালাস সাময়িকভাবে স্থগিত করার পর সরবরাহ ঝুঁকি নিয়েও হিসাব কষছেন অনেক বিনিয়োগকারী। ফলে চাহিদা কমায় দামও কিছুটা কমেছে।

এছাড়া, এই অস্থিরতার মধ্যেই নতুন করে আলোচনায় এসেছে বিভিন্ন দেশের কেন্দ্রীয় ব্যাংকগুলোর স্বর্ণ মজুদের কৌশল। যুক্তরাষ্ট্র থেকে নিজেদের স্বর্ণ সরিয়ে নিচ্ছে বিশ্বের অনেক দেশ। নেদারল্যান্ডসের কেন্দ্রীয় ব্যাংক নিশ্চিত করেছে যে তারা উত্তর আমেরিকা থেকে নিজেদের কয়েক টন স্বর্ণ সরিয়ে নিয়েছে। ব্যাংকটি বলেছে, এই স্থানান্তরের ফলে তারা গুরুতর সংকটের জন্য আরও ভালোভাবে প্রস্তুত থাকবে।

ক্রমবর্ধমান ভূরাজনৈতিক অস্থিরতার প্রেক্ষাপটে যুক্তরাষ্ট্র ও কানাডায় সংরক্ষিত মোট প্রায় ৩১৩ টন স্বর্ণের মধ্যে ৮৬ টন স্থানান্তর করেছে লন্ডন। এছাড়া এ বছরের শুরুতে ফ্রান্সও ঘোষণা দেয় যে তারা যুক্তরাষ্ট্র থেকে তাদের স্বর্ণের রিজার্ভ দেশে ফিরিয়ে এনেছে।

এরপর স্বাভাবিকভাবেই প্রশ্ন উঠেছে যে, এই দেশগুলো কেন এমন সিদ্ধান্ত নিয়েছে? তারা কি সামনে কোনো বড় অর্থনৈতিক ধাক্কার শঙ্কা করছে? এসব প্রশ্নের কারণে স্বর্ণে ব্যক্তি বিনিয়োগ ও চাহিদা কম। অর্থনৈতিক ধাক্কার কারণেই যে এমন হচ্ছে, সেটি অবশ্য মনে করেন না বিশ্লেষকরা। যদিও এই পদক্ষেপ স্পষ্টভাবেই এমন এক বিশ্বের প্রতিক্রিয়া, যা বর্তমানে অস্থিতিশীল ও অনিশ্চিত। বাণিজ্য ও সামরিক সংঘাত দেশগুলোকে সতর্কতামূলক ব্যবস্থা নিতে এবং তাদের স্বর্ণ নিজ দেশের কাছাকাছি রাখতে উৎসাহিত করছে।

ওয়ার্ল্ড গোল্ড কাউন্সিলের জ্যেষ্ঠ বাজার কৌশলবিদ জোসেফ কাভাতোনি বিবিসিকে বলেছেন, যুদ্ধ এবং বাণিজ্য উত্তেজনা এই সিদ্ধান্তগুলোর কিছু ক্ষেত্রে প্রভাব ফেলেছে, তবে সেটিই একমাত্র কারণ নয়। তার মতে, মুদ্রাস্ফীতি, সুদের হার এবং দ্রুত লেনদেন করা যায় এমন স্থানে স্বর্ণ রাখা, এসব বিষয়ও এখানে ভূমিকা রেখেছে। তিনি বলেন, আমি মনে করি না যে কোনো আসন্ন বিপর্যয়ের আশঙ্কা রয়েছে। তবে আমি মনে করি মানুষ এখন তাদের রিজার্ভ সম্পদ কীভাবে পরিচালনা করতে হবে, সে বিষয়ে আরও ভালোভাবে অবগত হচ্ছে।

 

 

আয়শা/১৭ সেপ্টেম্বর ২০২৬,/রাত ১১:২২

▎সর্বশেষ

ad