এম এ রহিম, চৌগাছা (যশোর) : যশোরের চৌগাছায় খড়িঞ্চা সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের মাঠ থেকে একটি বড় গাছ বিক্রি করার অভিযোগ উঠেছে। গাছটি বাজার মূল্য প্রায় ৫০ হাজার টাকা। এ ঘটনায় এলাকাবাসীর মধ্যে ক্ষোভের সৃষ্টি হয়েছে। সরকারি গাছ কাটার বিষয়ে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের কোন অনুমতি নেই বলে জানান তারা। লিখিত অনুমতি ছাড়াই গাছ কেটে টাকা প্রধান শিক্ষক ও স্কুল কমিটির সভাপতির পকেটে নেওয়ার অভিযোগ উঠেছে। সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের নিকট তদন্ত পূর্বক আইনি ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি জানিয়েছেন তারা।
বৃহস্পতিবার (১৭ সেপ্টেম্বর) সকাল ১১টার দিকে উপজেলার স্বরূপদাহ ইউনিয়নের খড়িঞ্চা সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে গেলে দেখা যায়, বিদ্যালয়ের মাঠে থেকে বড় একটি কড়ই গাছ কেটে বিক্রি করা হয়েছে। বিদ্যালয়ের কয়েকজন শিক্ষার্থী জানান, স্কুলের গাছ কেটে বিক্রি করেছেন প্রধান শিক্ষক, এছাড়াও এ স্কুলের পুরাতন ভবন ভেঙ্গে বিক্রি করেছেন।
এলাকাবাসীর দাবি, সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের মাঠ থেকে গাছ কাটার বিষয়ে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের অনুমোদন, বিদ্যালয় পরিচালনা কমিটির রেজুলেশনসহ প্রয়োজনীয় কাগজপত্র কিছু্ই করা হয়নি। গাছ বিক্রি করে টাকা সভাপাতি ও প্রধান শিক্ষক ভাগ করে নিয়েছেন। সরকারি প্রতিষ্ঠানের গাছ কাটার ক্ষেত্রে যথাযথ নিয়ম অনুসরণ করা না হলে ভবিষ্যতে সরকারি সম্পদ ব্যবস্থাপনায় অনিয়মের সুযোগ তৈরি হতে পারে। তাই বিষয়টি গুরুত্বের সঙ্গে তদন্ত করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানিয়েছেন তারা। বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক হোসেন আলীর নিকট গাছ কাটার অনুমতি সম্পর্কে জানতে চাইলে তিনি দাবি করেন, গাছ কাটার বিষয়ে তাদের প্রয়োজনীয় অনুমতি রয়েছে। তবে কোন কাগজ পত্র দেখাতে পারেনি তিনি।
স্কুল পরিচালনা কমিটির সভাপতি সম্পা রানী বলেন, উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তার অনুমতি নিয়ে গাছ কাটা কাটা হয়েছে। প্রধান শিক্ষক আমাকে বলেছেন গাছ বিক্রির টাকা দিয়ে স্কুলের উন্নয়ন করা হবে। তবে পুরাতন ভবন বিক্রি করার বিষয়টি আমার জানা নেই। গাছ কাটার বিষয়ে চৌগাছা উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা মুস্তাফিজুর রহমানের কাছে জানতে চাইলে তিনি বলেন, গাছ কাটার বিষয়ে তার দপ্তরে কোনো লিখিত আবেদন দেওয়া হয়নি।
আয়শা/১৭ সেপ্টেম্বর ২০২৬,/রাত ১১:৩২
