স্পোর্টস ডেস্ক : এজবাস্টনে ইংল্যান্ডের বিপক্ষে তৃতীয় টেস্টে সাইম আইয়ুবকে খেলানোর সিদ্ধান্ত নিয়ে তীব্র সমালোচনার মুখে পড়েছে পাকিস্তান।
ইংল্যান্ডের বিপক্ষে তিন ম্যাচের টেস্ট সিরিজে টানা দুই হারের পর নিজেরাই কঠোর সিদ্ধান্ত নেয় পাকিস্তান ক্রিকেট বোর্ড (পিসিবি)। দল থেকে বাদ দেওয়া হয় সাতজন খেলোয়াড়কে।
এই গুরুত্বহীন হয়ে পড়া তৃতীয় টেস্টের জন্য পাঁচজন অভিষিক্ত খেলোয়াড়কে দলে ডাকে পিসিবি। এর পাশাপাশি দলে ফেরানো হয় সাইম আইয়ুব এবং আব্দুল্লাহ ফজলকে।
অধিনায়ক বাবর আজম বলেন, সিরিজ এমনিতেই হাতছাড়া হয়ে গেছে। তাই এখন হারানোর কিছু নেই। তাই দলের কাছে মুক্তভাবে খেলার প্রত্যাশা করছেন তিনি।
এই আকস্মিক সিদ্ধান্তের জন্য যথেষ্ট সমালোচনা হয়েছে। এমনকি বাবর নিজেও বলেছেন, এই পরিবর্তনের আগে তার সঙ্গে কোনো পরামর্শ করা হয়নি। তবে এই বড় পরিবর্তনেও ভালো কিছু হয়নি। তৃতীয় টেস্টের প্রথম ইনিংসে মাত্র ৩৪ ওভারে ১৩৩ রানে গুটিয়ে যায় পাকিস্তান।
সিপিএল খেলার পর দলে ডাক পাওয়া আইয়ুব দুই ইনিংসেই কোনো রান করতে পারেননি। এই নির্বাচনের যুক্তি নিয়েই প্রশ্ন তুলেছেন ইংল্যান্ডের সাবেক অধিনায়ক নাসের হুসেইন।
আইয়ুব সবশেষ প্রথম শ্রেণির ম্যাচ খেলেছিলেন ২০২৫ সালের অক্টোবরে। স্কাই স্পোর্টসে হুসেইন বলেন, ‘সত্যি বলতে তার এখানে থাকারই কথা নয়। সে সিপিএল থেকে এসেছে এবং অনেক দিন ধরে প্রথম শ্রেণির ক্রিকেট খেলেনি।’
তিনি আরও বলেন, ‘আমি জানি না কে ভাবল এটা ঠিক সিদ্ধান্ত, একেবারে ভিন্ন কন্ডিশন থেকে, সম্পূর্ণ ভিন্ন একটি ফরম্যাট খেলে কাউকে উড়িয়ে এনে ভাবা, সে এখানে ডিউক বলে, অলি রবিনসন এবং ইংল্যান্ডের বোলিং আক্রমণের বিপক্ষে ঠিকঠাক খেলে দেবে।’
আরও এক ধাপ এগিয়ে হুসেইন বলেন, আইয়ুবের মতো একজনকে এভাবে কঠিন পরিস্থিতিতে ফেলে দিয়ে টেস্ট ক্রিকেটকে অসম্মান করেছে পাকিস্তান।
তিনি বলেন, ‘এটা একরকম টেস্ট ক্রিকেটের প্রতি অবহেলা ও অপমান। যেকোনো ক্রিকেটারই বলবে, টেস্ট ক্রিকেট সবচেয়ে কঠিন ফরম্যাট। ইংল্যান্ডে টপ অর্ডারে ব্যাটিং করা সবচেয়ে কঠিন কাজ। আর আপনি মনে করছেন, পৃথিবীর যেকোনো প্রান্ত থেকে কাউকে উড়িয়ে এনে শুধু বলবেন, শুভকামনা।’
২০১১ সালে ইংল্যান্ড সফরে ভারতের বাজে পারফরম্যান্সের সময় চার ম্যাচের টেস্ট সিরিজের মাঝপথে দলে ডাকা হয়েছিল বীরেন্দ্র শেবাগকে। ঘটনাক্রমে সেবারও তৃতীয় টেস্টটি হয়েছিল এজবাস্টনেই। সেই ম্যাচে ওপেন করতে নেমে দুই ইনিংসেই শূন্য রানে আউট হয়েছিলেন শেওয়াগ।
হুসেইন বলেন, ‘এই মাঠেই একবার একই চেষ্টা করেছিল ভারত, মনে আছে… তারা তাকে উড়িয়ে এনেছিল। বীরেন্দ্র শেবাগ দুই ইনিংসেই শূন্য রানে আউট হয়েছিলেন। অথচ শেবাগ সাইমের চেয়ে অনেক বেশি অভিজ্ঞ ও ভালো খেলোয়াড় ছিলেন।’
তিনি আরও বলেন, ‘তাই ওই শটের জন্য কিছুটা দায় ওই ছেলেটারও আছে। কিন্তু যিনি ভেবেছিলেন এটা সত্যিই ভালো সিদ্ধান্ত এবং সে এই সপ্তাহে ভালো করবে, তারও তো দায় আছে।’
দুই বড় হারের পর মোহাম্মদ রিজওয়ান, ইমাম-উল-হক এবং সালমান আলি আগাসহ সাতজন খেলোয়াড়কে বাদ দিয়েছিল পিসিবি। পাঁচজন অভিষিক্ত খেলোয়াড়ের পাশাপাশি দলে ফেরানো হয় সাইম আইয়ুব এবং আব্দুল্লাহ ফজলকে।
এর পাশাপাশি সিরিজের মাঝপথেই হেড কোচ সরফরাজ আহমেদ এবং বোলিং কোচ উমর গুলকে সরিয়ে দায়িত্ব দেওয়া হয় সাদা বলের কোচ মাইক হেসন ও অ্যাশলি নফকিকে।
আয়শা/১১ সেপ্টেম্বর ২০২৬,/বিকাল ৫:০৩
