ধানমন্ডিতে ভবনে আগুনের ঘটনায় যা বললো ফায়ার সার্ভিস

Ayesha Siddika | আপডেট: ১০ সেপ্টেম্বর ২০২৬ - ০৭:৩১:২১ পিএম

ডেস্ক নিউজ : রাজধানীর ধানমন্ডি ২৭ নম্বরে এপেক্সের একটি শোরুমে লাগা আগুন নিয়ন্ত্রণে এসেছে। বৃহস্পতিবার (১০ সেপ্টেম্বর) বেলা ১২টার দিকে প্রায় দুই ঘণ্টার চেষ্টায় আগুন নিয়ন্ত্রণে আনে ফায়ার সার্ভিস।

আগুন নিয়ন্ত্রণে আসার পর ঘটনাস্থলে সাংবাদিকদের ব্রিফ করেন ফায়ার সার্ভিস অ্যান্ড সিভিল ডিফেন্স অধিদফতরের মহাপরিচালক ব্রিগেডিয়ার জেনারেল মুহাম্মদ জাহেদ কামাল। তিনি বলেন, সকাল ১০টায় আগু‌নের খবর পে‌য়ে ফায়ার ফাইটাররা এসে কাজ ক‌রে প্রায় ২ ঘণ্টার চেষ্টায় বেলা ১২টার দি‌কে আগুন নিয়ন্ত্রণে আনে।

তিনি আরও বলেন, পাঁচতলা ভবনের চারতলায় অ্যাপেক্সের গোডাউনে আগুনটা ধরেছিল। আগুন বর্তমানে কন্ট্রোলে আছে এবং কোনও ধরনের আহত বা নিহতের ঘটনা ঘটেনি। ফায়ার সার্ভিসের কর্মীরা বর্তমানে আগুন নির্বাপনের কাজ করছে। আগুনের কোনও শিখা বা আগুনের উপস্থিতি নাই। ধোয়া আছে। ত‌বে এটা টোটাল নির্বাপন দিয়ে দেবো।

আগুনের উৎপত্তি ও ক্ষয়ক্ষতির পরিমাণ বিস্তারিতভাবে পর্যালোচনা করার পরই প্রকৃত কারণ জানা যাবে বলে জানান তিনি। তিনি বলেন, এরপর আগুন লাগাার প্রকৃত কারণ বলা সম্ভব হ‌বে। আমরা এই মুহূর্তে ধারণা দিতে চাই না। তবে তাদের বক্তব্য অনুযায়ী, ডিপি বক্সে তারা ধোয়া দেখতে পেয়েছিল। প্রাথমিকভাবে তারা নিজেরাই আগুন নির্বাপনের চেষ্টা করেছে তাদের অ‌গ্নি‌নির্বাপক যন্ত্র দিয়ে। তারা যখন পা‌রে‌নি, তখন সঙ্গে সঙ্গে ফায়ার সার্ভিসকে খবর দেয়। প‌রে ফায়ার সার্ভিস এসে আগুন নিয়ন্ত্রণ ক‌রে।

ক্ষয়ক্ষতির পরিমাণ খুব বেশি হবে না বলে ধারণা প্রকাশ করে মহাপরিচালক বলেন, আমি যতটুকু দেখলাম আমার কাছে মনে হলো ক্ষয়ক্ষতির মাত্রা খুব বেশি হবে না। যেহেতু দ্রুত আগুনটা নিয়ন্ত্রণে আনা গে‌ছে এবং অন্যান্য ফ্লোরে আগুন ছড়াতে পারেনি, তাই ক্ষয়ক্ষতি বে‌শি হ‌বে না। চারতলার মধ্যেই আগুন সীমাবদ্ধ ছিল।

ভবনটির সামনের অংশ গ্লাস দিয়ে আবৃত থাকায় বাইরে থেকে পানি দেওয়া সম্ভব হয়নি— স্থানীয়দের এমন মন্তব্যের বিষয়ে জানতে চাইলে তিনি বলেন, যেহেতু এটা রাজউকের বিষয়। তাই হঠাৎ ক‌রে আমার পক্ষে মন্তব্য করা ঠিক হবে না। তবে এই প্রতিষ্ঠান আমাদের কাছ থেকে গত জুন মাসে ফায়ার লাইসেন্সের জন্য আবেদন করেছে। কিন্তু আমরা অনুমোদন দেইনি। কারণ হিসেবে তিনি বলেন, আমরা জানি যে ফায়ার লাইসেন্স পেতে হলে ওই ভবনের ফায়ার সেফটি প্ল্যানের অনুমোন প্রয়োজন হয়। সে অনুমোদন সম্ভবত আমাদের কাছ থেকে এখনও তারা নেয়‌নি।    

তিনি আরও বলেন, এটা আমরা এখন যাচাই করছি। তার পরিপ্রেক্ষিতেই তাদেরকে লাইসেন্সের আওতায় আনা হয়নি। আর গ্লাসের কথা যেটা বললেন— ঢাকায় এই গ্লাস সংযুক্ত দালান বা স্থাপনা অনেক আছে। এগুলির ব্যাপারে আমরাও জা‌নি এবং আমরা যেখানে যাই সেখানেই বলি যে গ্লাস যদি লাগানো হয় তাহলে সাপোকেশন বা ব্যাকড্রাফট তৈরি হয়। আগুনের ঘটনা ঘটলে ফায়ার ফাইটাররা ‌যখন কাজ করবে, ভেতরে ব্যাকড্রাফটের কারণে গ্লাসগুলি ভেঙে দেওয়া হয়।

ফায়ার সার্ভিসের সচেতনতামূলক কার্যক্রমের কথা তুলে ধরে তিনি বলেন, আমরা এসব বিষ‌য়ে স‌চেতনতামূলক প্রচারণা চালাচ্ছি। এই ভবনের ক্ষেত্রেও দেখা গে‌ছে, সামনে দুটি বড় বড় অ্যাডভারটাইজমেন্ট বিলবোর্ড আকারে লাগানো আছে। সেগু‌লো না থাকলেও হয়তো ধোয়াটা আরও দ্রুত বের করা সম্ভব হতো।

ভবনটি পুরনো হওয়া এবং এখন পর্যন্ত ফায়ার সেফটি অনুমোদন না পাওয়ার বিষয়ে প্রশ্ন করা হলে তিনি বলেন, এটা রাজউকের দেখার কথা। এ বিষয়ে এই মুহূর্তে আমাদের পক্ষে বলা আসলে সম্ভব না। এটা রাজউক বল‌তে পার‌বে। এদিকে মহাখালীর আগুনের ঘটনার বিষয়ে তিনি বলেন, ওই আগুন ইতোমধ্যে আমাদের কন্ট্রোলে চলে এসেছে। মানুষের ক্ষয়ক্ষতি হয়‌নি।

 

 

/আয়শা/১০ সেপ্টেম্বর ২০২৬,/সন্ধ্যা ৭:২২

▎সর্বশেষ

ad