লাইফ স্টাইল ডেস্ক : স্বাস্থ্যকর খাবারের অভ্যাস গড়তে গিয়ে অনেকেই প্রথমে চিনি খাওয়ার পরিমাণ কমানোর চেষ্টা করেন। বিশেষ করে ডায়াবেটিসে আক্রান্ত ব্যক্তি কিংবা ওজন কমাতে আগ্রহীদের মধ্যে সাধারণ চিনির বিকল্প হিসেবে গুড় ব্যবহারের প্রবণতা দেখা যায়। তবে গুড় প্রাকৃতিক হওয়ায় সেটি যে চিনির তুলনায় অনেক বেশি স্বাস্থ্যকর—এমন ধারণার পক্ষে শক্ত প্রমাণ নেই।
পুষ্টিবিদদের মতে, ক্যালোরির দিক থেকে চিনি ও গুড়ের মধ্যে তেমন বড় পার্থক্য নেই। এক টেবিল চামচ চিনি থেকে যেমন প্রায় ৬০ ক্যালোরি পাওয়া যায়, একই পরিমাণ গুড়েও প্রায় সমান ক্যালোরি থাকে। রক্তে শর্করার ওপর প্রভাবের ক্ষেত্রেও গুড় খুব একটা বাড়তি সুবিধা দেয় না। সাধারণ চিনির গ্লাইসেমিক ইনডেক্স (জিআই) প্রায় ৬০, যেখানে গুড়ের জিআই প্রায় ৭০। ফলে চিনির পরিবর্তে গুড় ব্যবহার করলেই কোনো পানীয় বা খাবার কম ক্যালোরিযুক্ত কিংবা ডায়াবেটিসবান্ধব হয়ে যায় না।
গুড়ের পক্ষে যে বিষয়টি প্রায়ই বলা হয়, তা হলো এতে সামান্য কিছু খনিজ উপাদান থাকে। এ কারণে অনেকের কাছে এটি পরিশোধিত চিনির চেয়ে বেশি পুষ্টিকর মনে হয়। তবে বাস্তবে এই পুষ্টির পরিমাণ খুবই কম। উদাহরণ হিসেবে, এক টেবিল চামচ গুড়ে প্রায় ১ মিলিগ্রাম আয়রন থাকতে পারে, যা দৈনন্দিন খাদ্যতালিকায় আয়রনের উল্লেখযোগ্য উৎস হিসেবে বিবেচনা করার মতো নয়।
তাই ওজন কমানো বা স্বাস্থ্যকর খাদ্যাভ্যাস গড়ার ক্ষেত্রে শুধু চিনির বদলে গুড় ব্যবহার করলেই বড় ধরনের পরিবর্তন আসবে—এমনটা ভাবার কারণ নেই। বরং যেকোনো ধরনের মিষ্টি সীমিত পরিমাণে খাওয়াই গুরুত্বপূর্ণ। বিশেষ করে ডায়াবেটিস বা ওজন নিয়ন্ত্রণের মতো বিষয়ে খাদ্যাভ্যাস পরিবর্তনের আগে পুষ্টিবিদ বা চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়া বেশি কার্যকর হতে পারে।
আয়শা/০৫ সেপ্টেম্বর ২০২৬,/সন্ধ্যা ৬:৫০