যেসব খাবার ইউরিক অ্যাসিডের মাত্রা বাড়িয়ে দেয়

Ayesha Siddika | আপডেট: ১৯ জানুয়ারী ২০২৬ - ০৭:৫২:৩৭ পিএম

লাইফ ষ্টাইল ডেস্ক : ইউরিক অ্যাসিড কোনো সারাজীবনের রোগ নয়, বরং এটি জীবনযাত্রার একটি ভারসাম্যহীনতা। সঠিক ডায়েট ও নিয়মিত হালকা ব্যায়ামের মাধ্যমে আপনি এ যন্ত্রণাদায়ক সমস্যা থেকে চিরতরে মুক্তি পেতে পারেন। 

বর্তমানে অনেক মানুষ ইউরিক অ্যাসিডের সমস্যায় ভুগছেন। আপনার শরীরে এ অ্যাসিডের মাত্রা বেড়ে গেলে হাড়ের জয়েন্টে অসহ্য যন্ত্রণা, ফোলাভাব এবং দীর্ঘমেয়াদি গিঁটে বাতের মতো সমস্যা দেখা দিতে পারে। মূলত আমাদের খাদ্যাভ্যাসে থাকা ‘পিউরিন’ নামক উপাদান ভেঙে শরীরে ইউরিক অ্যাসিড তৈরি হয়। 

তাই এ সমস্যা নিয়ন্ত্রণে রাখতে ওষুধের চেয়েও বেশি জরুরি সঠিক খাদ্যাভ্যাস। চলুন জেনে নেওয়া যাক, উচ্চ পিউরিনযুক্ত খাবার রক্তে ইউরিক অ্যাসিডের মাত্রা কীভাবে বাড়িয়ে দেয়—

লাল মাংস ও অরগান মাংস

খাসির মাংস কিংবা রেড মিট ইউরিক অ্যাসিডের রোগীর জন্য সবচেয়ে বিপজ্জনক খাবার। আর প্রাণীর কলিজা, মগজ কিংবা কিডনিজাতীয় মাংসে প্রচুর পরিমাণে পিউরিন নামক উপাদান থাকে। এগুলো খেলে রক্তে ইউরিক অ্যাসিডের মাত্রা দ্রুত বৃদ্ধি করে এবং পায়ের আঙুল কিংবা গোড়ালিতে তীব্র ব্যথা শুরু হয়।

অ্যালকোহল ও ধূমপান

অ্যালকোহল শরীরে পানিশূন্যতা তৈরি করে এবং ইউরিক অ্যাসিড বের করে দেওয়ার স্বাভাবিক প্রক্রিয়াকে বাধাগ্রস্ত করে। ফলে কিডনি এ অ্যাসিড শরীর থেকে বের করতে পারে না এবং তা হাড়ের সন্ধিস্থলে জমা থাকে।

চিনিযুক্ত পানীয় ও ফ্রুক্টোজ

কৃত্রিম চিনি দেওয়া মিষ্টি, মিষ্টিপানীয় কিংবা অতিরিক্ত চিনিযুক্ত চা-কফি খাওয়াও এই রোগীর জন্য বিপজ্জনক। এ ছাড়া সোডা, কোল্ড ড্রিঙ্কস ও প্যাকেটজাত ফলের রসে প্রচুর পরিমাণে ‘ফ্রুক্টোজ’ থাকে। গবেষণায় দেখা গেছে, ফ্রুক্টোজ শরীরে ইউরিক অ্যাসিড তৈরির প্রক্রিয়াকে ত্বরান্বিত করে। 

সামুদ্রিক ও বিশেষ কিছু মাছ

সামুদ্রিক মাছ স্বাস্থ্যের জন্য ভালো হলেও ইউরিক অ্যাসিড থাকলে কিছু মাছ এড়িয়ে চলা উচিত। এই যেমন—ইলিশ, চিংড়ি, সার্ডিন, ম্যাকেরেল ও টুনা মাছ। এসব মাছে পিউরিনের মাত্রা বেশি থাকে। এর বদলে আপনি নদীর ছোট মাছ কিংবা রুই-কাতলা খেতে পারেন।

নির্দিষ্ট কিছু সবজি ও ডাল

সাধারণত শাকসবজি উপকারী হলেও পালংশাক, পুঁই শাক, ফুলকপি এবং মাশরুমে মাঝারি মাত্রায় পিউরিন থাকে। আর মসুর ডাল কিংবা বিউলির ডাল অতিরিক্ত পরিমাণে খেলে ব্যথা বাড়তে পারে। তবে এগুলো পুরোপুরি বাদ না দিয়ে পরিমিত পরিমাণে খাওয়া উচিত।

 

 

আয়শা/১৯ জানুয়ারী ২০২৬,/সন্ধ্যা ৭:২১

▎সর্বশেষ

ad