আন্তর্জাতিক ডেস্ক : আন্তর্জাতিক অপরাধ আদালতের (আইসিসি) প্রেসিডেন্ট তোমোকো আকানে এবং আদালটির কর্মকর্তা আবদুলায়ে সেয়ের বিরুদ্ধে নিষেধাজ্ঞা আরোপ করেছে যুক্তরাষ্ট্র। মঙ্গলবার তাদের মার্কিন অর্থ মন্ত্রণালয়ের ‘স্পেশালি ডিজিগনেটেড ন্যাশনালস’ (এসডিএন) তালিকাভুক্ত করা হয়। ওয়াশিংটনের অভিযোগ, তারা এমন কর্মকাণ্ডে সরাসরি জড়িত ছিলেন, যা যুক্তরাষ্ট্রের জাতীয় সার্বভৌমত্বের জন্য হুমকি তৈরি করেছে। খবর আনাদোলু এজেন্সির।
মার্কিন অর্থ মন্ত্রণালয়ের ওয়েবসাইটে প্রকাশিত তথ্য অনুযায়ী, জাপানের নাগরিক তোমোকো আকানে এবং সেনেগালের নাগরিক আবদুলায়ে সেয়েকে এসডিএন তালিকায় যুক্ত করা হয়েছে। ২০২৫ সালের ৬ ফেব্রুয়ারি মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ‘ইমপোজিং স্যাংশনস অন দ্য ইন্টারন্যাশনাল ক্রিমিনাল কোর্ট’ শিরোনামে একটি নির্বাহী আদেশে সই করেন। সেই আদেশের আওতায়ই আইসিসির এই দুই কর্মকর্তার বিরুদ্ধে সর্বশেষ নিষেধাজ্ঞা দেওয়া হলো।
এর আগে আইসিসির সাবেক প্রধান কৌঁসুলি করিম খান এবং আট বিচারকসহ আদালটির ১০ কর্মকর্তাকে একই তালিকায় অন্তর্ভুক্ত করেছিল যুক্তরাষ্ট্র।
নিষেধাজ্ঞার আওতায় আকানে ও সেয়ের যুক্তরাষ্ট্রে থাকা যেকোনো সম্পদ জব্দ বা অবরুদ্ধ করা হবে। একই সঙ্গে মার্কিন নাগরিক ও প্রতিষ্ঠানগুলো তাদের সঙ্গে কোনো ধরনের আর্থিক বা বাণিজ্যিক লেনদেন করতে পারবে না।
২০২৪ সালের নভেম্বরে গাজায় কথিত যুদ্ধাপরাধের অভিযোগে ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু এবং দেশটির সাবেক প্রতিরক্ষামন্ত্রী ইয়োভ গ্যালান্টের বিরুদ্ধে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারি করে আইসিসি। এরপর থেকেই আদালটির বিরুদ্ধে ওয়াশিংটনের চাপ আরও জোরালো হয়।
মার্কিন পররাষ্ট্রমন্ত্রী মার্কো রুবিওর অভিযোগ, আকানে ও সেয়ে এমন কার্যক্রমের সঙ্গে ‘সরাসরি’ সম্পৃক্ত ছিলেন, যার মাধ্যমে এমন একটি দেশের কর্মকর্তাদের বিরুদ্ধে তদন্ত, গ্রেপ্তার, আটক বা বিচার করার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে—যে দেশ আইসিসির এখতিয়ার স্বীকার করেনি।
রুবিও বলেন, আইসিসির মাধ্যমে জাতীয় সার্বভৌমত্বের জন্য তৈরি হওয়া হুমকি মোকাবিলায় যুক্তরাষ্ট্রের পুরো সরকার সমন্বিতভাবে কাজ করছে। তার ভাষ্য, রাজনৈতিক উদ্দেশ্যপ্রণোদিত ও জবাবদিহিহীন এই আদালতে অর্থায়ন ও অংশগ্রহণ বন্ধ করতে আরও দেশ যুক্তরাষ্ট্রের উদ্যোগে শামিল হবে বলে ওয়াশিংটন আশা করছে।
এর আগে গত মাসে আইসিসির বিরুদ্ধে একটি প্রচারাভিযান শুরু করে মার্কিন পররাষ্ট্র দপ্তর। ট্রাম্প প্রশাসনের দাবি, আদালটি মার্কিন সার্বভৌমত্বের জন্য হুমকি সৃষ্টি করছে। গত মাসে ক্যাম্প ডেভিডে দেওয়া এক বক্তব্যে রুবিও বলেন, যেসব দেশ আইসিসির সদস্য নয়, তাদের নাগরিকদের ওপরও আদালত এখতিয়ার দাবি করায় প্রতিষ্ঠানটি ‘নিজেকেই অবৈধ’ করে তুলেছে। যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েল—দুই দেশই আইসিসির সদস্য নয়।
এদিকে, ট্রাম্প বলেন, রুবিও ‘বিবি ও আরও কয়েকজনকে রক্ষা করার’ চেষ্টা করছেন। ‘বিবি’ বলতে তিনি ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহুকে বোঝান।
যুক্তরাষ্ট্রের সর্বশেষ নিষেধাজ্ঞার তীব্র নিন্দা জানিয়েছে অ্যামনেস্টি ইন্টারন্যাশনাল। সংস্থাটির কর্মকর্তা এরিকা গুয়েভারা রোসাস এই পদক্ষেপকে ‘আন্তর্জাতিক বিচারব্যবস্থার ওপর নিন্দনীয় হামলা’ বলে অভিহিত করেন।
সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে দেওয়া এক পোস্টে গুয়েভারা রোসাস বলেন, আইসিসিকে ভয় দেখানো এবং দায়বদ্ধতা নিশ্চিতের প্রচেষ্টা বাধাগ্রস্ত করার লক্ষ্যে যুক্তরাষ্ট্রের ‘ক্রমবর্ধমান প্রচারণার’ অংশ হিসেবেই এসব নিষেধাজ্ঞা আরোপ করা হচ্ছে।
কিউটিভি/অনিমা/১৯ অগাস্ট ২০২৬,/বিকাল ৪:৪৩
