স্পোর্টস ডেস্ক : ফুটবল মাঠে জোসে মরিনিওর ব্যস্ততা ও সাফল্যের গল্প অনেকেরই জানা। প্রায় ২৫ বছর ধরে ইউরোপের শীর্ষ ক্লাবগুলোর কোচিং করাচ্ছেন পর্তুগিজ এই কোচ। বেনফিকা, পোর্তো, চেলসি, ম্যানচেস্টার ইউনাইটেড, রোমা ও ইন্টার মিলানের মতো ক্লাব ঘুরে এখন দ্বিতীয় মেয়াদে রিয়াল মাদ্রিদের দায়িত্বে আছেন তিনি।
মরিনিও বলেন, ‘মাঝে মাঝে আপনার মনে হতে পারে যে আমার সেখানে থাকা উচিত ছিল, কিন্তু আমি সেখানে নেই। তবে আমি চাই না আপনি ভাবুন যে পরিবার আমার কাছে কম গুরুত্বপূর্ণ কিছু। তারা এমন এক জায়গায় আছে যার সাথে ফুটবলের কোনো তুলনাই হতে পারে না।’
পরিবারের সঙ্গে নিজের অনুপস্থিতি নিয়ে আরও খোলামেলা হয়ে তিনি বলেন, ‘তবে সত্যি বলতে, আমি জানি আমাকে ছাড়া তারা জীবনটা অনেক বেশি উপভোগ করে। এটাই বাস্তবতা। এটাই সত্য। তারা যদি আমাকে নিয়ে কোনো রেস্তোরাঁয় যায়, তবে তা আমাকে ছাড়া যাওয়ার চেয়ে সম্পূর্ণ ভিন্ন অনুভূতি দেয়।’
কোচ হিসেবে নিজের দীর্ঘ সাফল্যের পেছনে স্ত্রী তামির অবদানও স্বীকার করেন মরিনিও। তিনি বলেন, ‘আমি যতটা সম্ভব তাদের সুরক্ষিত রাখতে চেষ্টা করি। কিন্তু অবশ্যই আমি অনেকবার ব্যর্থ হয়েছি। এটা সহজ নয়।’স্ত্রীর প্রশংসা করে মরিনিও আরও বলেন, ‘তামি একজন অসাধারণ মা। তারা বোঝে যে আমি ফুটবলে যা, তা আমার জীবনের অংশ। তাদেরকে এটা বুঝতে হবে। আপনারা আমাকে নিজেকে নিয়ে কথা বলতে জোর করবেন, কিন্তু আমি এটা চাই না।’
ফুটবল ও ব্যক্তিগত জীবনের সীমারেখা নিয়েও নিজের দর্শন তুলে ধরেছেন মরিনিও। তার ভাষায়, ‘আমি মনে করি আপনার খুশি, কষ্ট এবং সমস্যাগুলো অনুশীলন মাঠেই ছেড়ে আসবেন। হয়ত এটা বিষয়গুলোকে দেখার একটি সেকেলে ব্যাপার, কিন্তু আমি এমনই। আমি বদলাতে চাই না, অনেক দেরি হয়ে গেছে।’
মরিনিওর কথায় স্পষ্ট, ফুটবল তার জীবনের বড় একটি অংশ হলেও পরিবার তার কাছে আলাদা এক জগত। দীর্ঘ ক্যারিয়ারের ব্যস্ততার কারণে পরিবার থেকে দূরে থাকতে হলেও নিজের এই জীবনযাপন নিয়ে তার দৃষ্টিভঙ্গি বেশ বাস্তববাদী।
আয়শা/১১ অগাস্ট ২০২৬,/রাত ৮:২২
