আন্তর্জাতিক ডেস্ক : রাশিয়ার ওপর অর্থনৈতিক চাপ আরও জোরদার করতে মার্কিন কংগ্রেসে একটি সংশোধিত নিষেধাজ্ঞা বিল উত্থাপন করেছেন দেশটির সিনেটররা। প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের সমর্থনপুষ্ট এই বিলের অধীনে মস্কোর তেল ও গ্যাসের শীর্ষ পাঁচ ক্রেতা দেশের ওপর ১০০ শতাংশ পর্যন্ত শুল্ক আরোপের প্রস্তাব করা হয়েছে, যার মূল লক্ষ্য মূলত চীন ও ভারত। খবর ইন্ডিপেন্ডেন্ট’র।
তবে যেসব দেশ রাশিয়ার মোট প্রাকৃতিক গ্যাস রপ্তানির ১৫ শতাংশেরও কম আমদানি করে, তাদের এই শুল্কের আওতা থেকে ছাড় দেওয়া হয়েছে। এর ফলে ইউরোপীয় দেশগুলো বিশেষ সুবিধা পাবে বলে ধারণা করা হচ্ছে, কারণ তাদের রুশ জ্বালানি ক্রয়ের পরিমাণ মোট চাহিদার তুলনায় সামান্য এবং দেশগুলো ইতোমধ্যে মস্কোর ওপর নির্ভরতা কমানোর পদক্ষেপ নিয়েছে।
নতুন এই বিলে শুধু শুল্ক আরোপই নয়, বরং রাশিয়ার প্রতিরক্ষা, জ্বালানি, আর্থিক খাত এবং আন্তর্জাতিক নিষেধাজ্ঞা এড়াতে ব্যবহৃত তাদের পুরনো জাহাজের তথাকথিত ‘শ্যাডো ফ্লিট’ বা ছায়া বহরকেও লক্ষ্যবস্তু করা হয়েছে। বিলটির সহ-উদ্যোক্তা ডেমোক্রেটিক সিনেটর রিচার্ড ব্লুমেনথাল জানান, দীর্ঘ ও জটিল আলোচনার পর এই সমঝোতায় পৌঁছানো সম্ভব হয়েছে। তিনি উল্লেখ করেন, ইউক্রেন যুদ্ধ এখন একটি গুরুত্বপূর্ণ মোড়ে দাঁড়িয়ে আছে এবং রণক্ষেত্রে পরিস্থিতি পরিবর্তিত হচ্ছে।
পরিসংখ্যান অনুযায়ী, রাশিয়ার প্রাকৃতিক গ্যাসের শীর্ষ পাঁচ আমদানিকারক দেশের তালিকায় রয়েছে চীন, ফ্রান্স, জাপান, হাঙ্গেরি এবং বেলজিয়াম। তবে ১৫ শতাংশের কম আমদানির নিয়মের কারণে চীন ছাড়া বাকি দেশগুলো এই শুল্কের হাত থেকে বেঁচে যাবে। অন্যদিকে, রুশ অপরিশোধিত তেলের শীর্ষ পাঁচ ক্রেতা দেশ হলো চীন, ভারত, স্লোভাকিয়া, হাঙ্গেরি এবং আজারবাইজান।
রুশ জ্বালানি কেনার কারণে চীন ও ভারতকে ওয়াশিংটন এর আগেও কোণঠাসা করার চেষ্টা করেছিল। গত বছর ভারতের ওপর ২৫ শতাংশ অতিরিক্ত শুল্ক আরোপ করা হলেও পরবর্তীতে তা প্রত্যাহার করা হয়। তবে চলতি বছরের ১৭ জুন মার্কিন ট্রেজারির দেওয়া একটি সাময়িক ছাড়ের মেয়াদ শেষ হয়ে যাওয়ায় বর্তমানে দিল্লির রুশ তেল কেনার বিষয়টি একটি আইনি জটিলতার মধ্যে পড়েছে। নতুন এই বিল পাস হলে চূড়ান্ত শুল্কের হার নির্ধারণ করবে মার্কিন বাণিজ্য প্রতিনিধি (ইউএসটিআর)।
সম্প্রতি ৭১ বছর বয়সে সিনেটর লিন্ডসে গ্রাহামের আকস্মিক মৃত্যুর পর এই বিলটি পাসের ক্ষেত্রে নতুন রাজনৈতিক গতিবেগ তৈরি হয়েছে। রিপাবলিকান ও ডেমোক্রেটিক—উভয় দলের সিনেটররাই গ্রাহামের স্মৃতির প্রতি সম্মান জানিয়ে বিলটি দ্রুত পাস করতে চান।
মৃত্যুর আগে ইউক্রেন সফরকালে গ্রাহাম নিজেই জানিয়েছিলেন যে বিলটি এগিয়ে নেওয়ার বিষয়ে প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পের সাথে তার চুক্তি হয়েছে। ট্রাম্পও এক বিবৃতিতে বিলটির প্রতি পূর্ণ সমর্থন জানিয়ে বলেছেন, এটি লিন্ডসের স্বপ্ন ছিল এবং এটি পাস হওয়ার প্রবল সম্ভাবনা রয়েছে। হোয়াইট হাউস এবং মার্কিন সিনেটরদের দীর্ঘ এক বছরের আলোচনার পর এই সমঝোতা বিলটি চূড়ান্ত করা হয়েছে, যা ট্রাম্পকে ইউক্রেন যুদ্ধ বন্ধের আলোচনায় বাড়তি কূটনৈতিক সুবিধা দেবে বলে মনে করা হচ্ছে।
আয়শা/১৭ জুলাই ২০২৬,/রাত ৮:১৯
