ভূমিকম্পে রাজধানী কারাকাসসহ দেশের বিস্তীর্ণ এলাকায় ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে। বহু ভবন ধসে পড়েছে এবং বিভিন্ন এলাকায় বিদ্যুৎ ও যোগাযোগ ব্যবস্থা বিচ্ছিন্ন হয়ে গেছে। উদ্ধারকর্মীরা ধ্বংসস্তূপের নিচে আটকে পড়া মানুষদের উদ্ধারে কাজ চালিয়ে যাচ্ছেন।
পরিস্থিতির প্রেক্ষাপটে দেশজুড়ে জরুরি অবস্থা জারি করেছেন ভেনেজুয়েলার ভারপ্রাপ্ত প্রেসিডেন্ট ডেলসি রদ্রিগেজ। বুধবার রাতে দেওয়া এক ভাষণে তিনি বলেন, “ভেনেজুয়েলা এই ট্র্যাজেডি কাটিয়ে ওঠার সক্ষমতা রাখে।” একই সঙ্গে তিনি জাতীয় ঐক্যের আহ্বান জানিয়ে নাগরিকদের ধৈর্য ধরার অনুরোধ করেন।
বড় ধরনের প্রাণহানি ও ক্ষয়ক্ষতির আশঙ্কায় ভেনেজুয়েলার পাশে দাঁড়ানোর ঘোষণা দিয়েছে যুক্তরাষ্ট্র। মার্কিন সেক্রেটারি অব স্টেট মার্কো রুবিও গভীর শোক প্রকাশ করে দেশটির জনগণের প্রতি সমবেদনা জানিয়েছেন। পাকিস্তানসহ বিভিন্ন দেশ থেকেও শোকবার্তা পাঠানো হচ্ছে।
ভূমিকম্পে ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ায় রাজধানী কারাকাসের সিমন বলিভার আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর সাময়িকভাবে বন্ধ রাখা হয়েছে। দুর্গত মানুষের সহায়তায় স্কুলগুলোকে অস্থায়ী আশ্রয়কেন্দ্র ও ত্রাণকেন্দ্র হিসেবে ব্যবহারের ঘোষণা দিয়েছে শিক্ষা মন্ত্রণালয়। দেশজুড়ে সব ধরনের শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের শ্রেণি কার্যক্রমও স্থগিত করা হয়েছে।
এদিকে, ভূমিকম্পের পর ধারাবাহিক আফটারশকের আশঙ্কায় আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়েছে জনমনে। ভূতাত্ত্বিকরা লিকুইফ্যাকশন বা মাটির তরলীকরণের ঝুঁকির কথাও উল্লেখ করেছেন, যা উদ্ধারকাজকে আরও জটিল করে তুলতে পারে।
স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী দিয়োসদাদো কাবেয়ো জানিয়েছেন, সবচেয়ে ক্ষতিগ্রস্ত কিছু দুর্গম এলাকায় পৌঁছানোর চেষ্টা করছেন উদ্ধারকর্মীরা। তবে বিদ্যুৎ ও যোগাযোগ ব্যবস্থা বিপর্যস্ত হয়ে পড়ায় অভিযান ব্যাহত হচ্ছে।
ইউএসজিএস সতর্ক করে বলেছে, ক্ষয়ক্ষতির ব্যাপকতা বিবেচনায় এই দুর্যোগ দীর্ঘমেয়াদি মানবিক সংকটে রূপ নিতে পারে। বর্তমানে দেশজুড়ে চলছে ধ্বংসস্তূপ সরিয়ে জীবিতদের খোঁজার অভিযান এবং স্বজন হারানোর বেদনা।
সূত্র: আল-জাজিরা
