ফিলিপাইনে শক্তিশালী ভূমিকম্পে নিহত বেড়ে ৩২

superadmin | আপডেট: ০৮ জুন ২০২৬ - ০৯:৩৬:৩৭ পিএম

ডেস্কনিউজঃ ফিলিপাইনের দক্ষিণাঞ্চলীয় মিন্দানাও দ্বীপের উপকূলে সোমবার (৮ জুন) সকালে আঘাত হানা ৭.৮ মাত্রার এক শক্তিশালী ভূমিকম্পে ভয়াবহ বিপর্যয় নেমে এসেছে। রিখটার স্কেলে এই তীব্র কম্পনের ফলে প্রথমে ১৫ জনের মৃত্যুর খবর পাওয়া গেলেও, সময় বাড়ার সাথে সাথে ধ্বংসস্তূপ ও ভূমিধস থেকে একের পর এক মরদেহ উদ্ধার হওয়ায় নিহতের সংখ্যা দ্রুত বেড়ে বর্তমানে ৩২ জনে দাঁড়িয়েছে।

স্থানীয় সময় সকাল ৭টা ৩৭ মিনিটে আঘাত হানা এই ভূমিকম্পের পর ফিলিপাইন, ইন্দোনেশিয়া, জাপান ও অস্ট্রেলিয়ায় সুনামি সতর্কতা জারি করা হয়, যার বেশ কিছু অবশ্য কয়েক ঘণ্টা পর প্রত্যাহার করে নেওয়া হয়েছে।

ভয়াবহ এই প্রাকৃতিক দুর্যোগে বিভিন্ন প্রদেশে শতাধিক মানুষ আহত হয়েছেন এবং প্রায় ২৪ জন এখনও নিখোঁজ রয়েছেন। এছাড়া অন্তত ১০ হাজার বাসিন্দাকে উপদ্রুত এলাকা থেকে নিরাপদ স্থানে সরিয়ে নেওয়া হয়েছে। ভূমিকম্পের তীব্রতায় বহু ঘরবাড়ি ও বহুতল ভবন ধসে পড়েছে, যার মধ্যে জনপ্রিয় ফাস্টফুড চেইন ‘জলিবি’-র একটি রেস্তোরাঁ সম্পূর্ণ ধ্বংসস্তূপে পরিণত হওয়ার দৃশ্য সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়েছে। প্রায় ২৬ মিলিয়ন মানুষের বাসস্থান ও ফিলিপাইনের দ্বিতীয় বৃহত্তম দ্বীপ মিন্দানাওয়ের বিস্তীর্ণ এলাকা জুড়ে ব্যাপক ভূমিধসের ঘটনাও রেকর্ড করা হয়েছে।

ভূমিকম্পের কেন্দ্রস্থল থেকে প্রায় ২০ কিলোমিটার দূরে অবস্থিত উপকূলীয় সারঙ্গানি প্রদেশে সবচেয়ে বেশি ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে। স্থানীয় প্রশাসন জানিয়েছে, সেখানে ১৭ জনের মৃত্যু হয়েছে, যাদের বড় অংশই ভূমিধসের নিচে চাপা পড়েছিলেন। ভূমিকম্পের পরপরই সারঙ্গানিতে বিদ্যুৎ ও যোগাযোগ ব্যবস্থা পুরোপুরি ভেঙে পড়লেও পরবর্তীতে তা সচল করা সম্ভব হয়।

অন্যদিকে, উৎপত্তিস্থলের সবচেয়ে কাছের শহর এবং বিশ্বখ্যাত বক্সার ম্যানি প্যাকিয়াওয়ের হোমটাউন হিসেবে পরিচিত জেনারেল সান্তোসে সিভিল ডিফেন্সের পক্ষ থেকে ১০ জনের মৃত্যুর খবর নিশ্চিত করা হয়েছে এবং সেখানে এখনও ২২ জন নিখোঁজ রয়েছেন। এছাড়া দক্ষিণ কোটাবাতো এবং সুলতান কুদারাত প্রদেশও এই দুর্যোগে মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে।

ফিলিপাইনের নতুন শিক্ষাবর্ষের প্রথম দিনেই এই বিপর্যয় ঘটায় দেশটির প্রেসিডেন্ট ফার্দিনান্দ মার্কোস জুনিয়র ক্ষতিগ্রস্ত এলাকার সমস্ত স্কুল-কলেজে পাঠদান স্থগিতের নির্দেশ দিয়েছেন। দাভাও ওরিয়েন্টাল প্রদেশের একটি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের ভিডিওতে দেখা গেছে, তীব্র কম্পনের মধ্যে আতঙ্কিত শিক্ষার্থীরা মাঠে বসে আছে এবং তাদের ঠিক পেছনেই একটি শেড ভেঙে পড়ছে, তবে সেখানে কোনো শিশু হতাহত হয়নি। প্রেসিডেন্ট মার্কোস এক বিবৃতিতে জানিয়েছেন, সরকারের সমস্ত সংস্থা সমন্বিতভাবে উদ্ধারকাজে নেমেছে এবং মিন্দানাওয়ের পাশে পুরো দেশ রয়েছে।

মূল ভূকম্পনের পর এলাকাটিতে ১.৩ থেকে ৬.৭ মাত্রার অন্তত ১৩০টিরও বেশি আফটারশক বা অনুকম্পন রেকর্ড করা হয়েছে। ফিলিপাইন ভৌগোলিকভাবে অত্যন্ত ঝুঁকিপূর্ণ ‘রিং অব ফায়ার’-এর ওপর অবস্থিত হওয়ায় সেখানে প্রায়ই ভূমিকম্প হয়।

এদিকে এই ভূমিকম্পের জেরে জাপানের ওকিনাওয়া ও ওগাসাওয়ারা দ্বীপে হালকা সুনামি জোয়ারের দেখা মিলেছে এবং ইন্দোনেশিয়া, পালাউ ও ফিলিপাইনের উপকূলীয় এলাকাগুলোতে কয়েক সেন্টিমিটার থেকে শুরু করে ১.৪ মিটার উচ্চতার ঢেউ আছড়ে পড়েছে।

ফিলিপাইনের জাতীয় দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা অধিদপ্তর জানিয়েছে, স্থানীয় বিভিন্ন সূত্র থেকে আসা এই হতাহতের সংখ্যা যাচাই-বাছাই করা হচ্ছে এবং আগামী দিনগুলোতে আনুষ্ঠানিক চূড়ান্ত তালিকা প্রকাশ করা হবে।

সূত্র: বিবিসি।

বিপুল/০৮.০৬.২০২৬/রাত ৯.৩২

▎সর্বশেষ

ad