স্পেনে দাবানলে ১২ জনের মৃত্যু

superadmin | আপডেট: ১০ জুলাই ২০২৬ - ০১:২১:১৮ পিএম

ডেস্কনিউজঃ স্পেনের দক্ষিণ-পূর্ব আলমেরিয়া প্রদেশের লস গালার্দোসে দাবানলে অন্তত ১২ জন নিহত এবং ছয়জন আহত হয়েছেন। দেশটির আন্দালুসিয়ার আঞ্চলিক সরকার এক বিবৃতিতে জানিয়েছে, আরো ছয়জনের মৃত্যুর খবর নিশ্চিত হওয়ার পর লস গালারদোসের অগ্নিকাণ্ডে মৃতের সংখ্যা বেড়ে ১২ জনে দাঁড়িয়েছে।

আঞ্চলিক সরকারের প্রধান হুয়ানমা মোরেনো এই মৃত্যুগুলোকে মর্মান্তিক ঘটনা বলে অভিহিত করেছেন। প্রাথমিকভাবে ছয়জনের মৃত্যুর খবর ঘোষণার পর তিনি টুইটারে লেখেন, ‘আমাদের হৃদয় ভারাক্রান্ত এবং আমরা শোকে বিধ্বস্ত।’

প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, ছিঁড়ে পড়া একটি বিদ্যুতের তার থেকে আগুনের সূত্রপাত হয় এবং তা দ্রুত নিকটবর্তী একটি জঙ্গলে ছড়িয়ে পড়ে। কর্তৃপক্ষ আগুন লাগার কারণ এখনো নিশ্চিত করেনি।

আগুনে পুড়ে যাওয়া কয়েকটি গাড়ির ভেতর থেকে কয়েকজন ভুক্তভোগীকে উদ্ধার করা হয়।
প্রায় ৪০ ডিগ্রি সেলসিয়াস (১০৪ ডিগ্রি ফারেনহাইট) তাপমাত্রার এক দীর্ঘস্থায়ী তাপপ্রবাহের কারণে দক্ষিণ ইউরোপজুড়ে দাবানল ছড়িয়ে পড়েছে। ফ্রান্স, পর্তুগাল ও স্পেনে শত শত দমকলকর্মী আগুন নেভানোর চেষ্টা করে যাচ্ছে। হাজার হাজার মানুষ ঘরবাড়ি ছাড়তে বাধ্য হয়েছেন।

জরুরি পরিষেবা সূত্রে জানা গেছে, এই অগ্নিকাণ্ডের কারণে রাস্তাঘাটও বন্ধ করে দেওয়া হয় এবং এক হাজার বাসিন্দাকে নিরাপদ স্থানে সরিয়ে নেওয়া হয়েছে। স্থানীয় গণমাধ্যম ও এএফপি জানিয়েছে, ফ্রান্সের প্রধানমন্ত্রী পেদ্রো সানচেজ মে মাসে বলেছেন, স্পেন এ বছর গ্রীষ্মকালীন দাবানল মোকাবেলায় ব্যবস্থা গ্রহণ করবে। স্পেনের সামরিক জরুরি ইউনিট (ইউএমই) জানিয়েছে, তারা লস গ্যালারডোসের অগ্নিনির্বাপণ কার্যক্রমে যোগ দেবে।

জুন মাসে স্পেনে ১৯৫০ সালের পর সর্বোচ্চ দৈনিক গড় তাপমাত্রা দেখা যায় এবং এমন কিছু দিন ছিল যেদিন সে মাসের সর্বকালের সর্বোচ্চ তাপমাত্রা রেকর্ড করা হয়। দেশের কিছু অংশে সর্বোচ্চ ৪২ ডিগ্রি সেলসিয়াস (১০৭.৬ ডিগ্রি ফারেনহাইট) পর্যন্ত তাপমাত্রার পূর্বাভাস দেওয়া হয়েছিল।

জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাবে ইউরোপে দাবানলের ঝুঁকি দ্রুত বাড়ছে। ইউরোপীয় বন অগ্নিকাণ্ড তথ্য ব্যবস্থা (ইএফএফআইএস) জানিয়েছে, গত বছর স্পেনে রেকর্ড ৩ লাখ ৯৩ হাজার হেক্টর জমি পুড়ে গেছে। ২০০৬ থেকে ২০২৪ সালের গড়ের তুলনায় এটি ছয় গুণেরও বেশি।

কোপারনিকাস জলবায়ু পরিষেবার তথ্য অনুযায়ী, ইউরোপ বিশ্বের সবচেয়ে দ্রুত উষ্ণ হওয়া মহাদেশ। এখানে বৈশ্বিক গড়ের তুলনায় দ্বিগুণ গতিতে তাপমাত্রা বাড়ছে। এর ফলে গ্রীষ্মে তাপপ্রবাহ বৃদ্ধি, পানির সংকট এবং দাবানলের তীব্রতা বেড়ে যাচ্ছে।

এদিকে, ২০০৬ সালে রেকর্ড সংরক্ষণ শুরু হওয়ার পর গত বছরটি ছিল ইউরোপীয় ইউনিয়নের ইতিহাসে সবচেয়ে ভয়াবহ দাবানলের মৌসুম। এ সময় ইইউজুড়ে ১০ লাখ হেক্টরেরও বেশি এলাকা পুড়ে যায়, যা ওয়েলসের প্রায় অর্ধেক ভূখণ্ডের সমান।

অন্যদিকে, ইম্পেরিয়াল কলেজ লন্ডনের ওয়ার্ল্ড ওয়েদার অ্যাট্রিবিউশন গ্রুপের এক গবেষণায় বলা হয়েছে, ভূমধ্যসাগরীয় অঞ্চলে দাবানলের মৌসুম দীর্ঘ ও তীব্র হওয়ার পেছনে জলবায়ু পরিবর্তন সরাসরি দায়ী।

১০.০৭.২০২৬/দুপুর ১.১৬

▎সর্বশেষ

ad