গঙ্গা নদীতে নৌকায় ইফতার বিতর্কে গ্রেফতার ১৪

Ayesha Siddika | আপডেট: ১৮ মার্চ ২০২৬ - ০৮:৫৯:০৯ পিএম

আন্তর্জাতিক ডেস্ক : ভারতের উত্তর প্রদেশের বারাণসীতে গঙ্গা নদীতে নৌকায় ইফতারের সময় মাংস খাওয়া এবং উচ্ছিষ্ট হাড় পানিতে ফেলার অভিযোগে ১৪ জন মুসলিম যুবককে গ্রেফতার করেছে পুলিশ। ঘটনাটি সোমবার ঘটে বলে জানা গেছে।

বারাণসীর কোতয়ালি থানায় দায়ের করা একটি অভিযোগের ভিত্তিতে পুলিশ এ পদক্ষেপ নেয়। অভিযোগটি করেন ভারতীয় জনতা যুব মোর্চার (বিজেওয়াইএম) নগর সভাপতি রজত জয়সওয়াল। তার অভিযোগের পরই পুলিশ তদন্ত শুরু করে এবং একটি বিশেষ টিম গঠন করা হয়।

গ্রেফতার হওয়া ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে ধর্মীয় অনুভূতিতে আঘাত, ধর্মীয় স্থানের অবমাননা, উপদ্রব সৃষ্টি, নদী দূষণ এবং ক্ষতিকর পদার্থ পানিতে নিক্ষেপসহ একাধিক অভিযোগ আনা হয়েছে।

পুলিশের বক্তব্য

বারাণসী পুলিশ কমিশনারেটের অ্যাসিস্টেন্ট পুলিশ কমিশনার (এসিপি) বিজয় প্রতাপ সিং জানান, সোমবার (১৬ মার্চ) একটি ভিডিও ভাইরাল হয়, যেখানে দেখা যায় কয়েকজন ব্যক্তি মা গঙ্গার পবিত্র জলে নৌকায় করে ইফতার করছেন। ভিডিওতে তাদের চিকেন বিরিয়ানি খেতে দেখা গেছে।

তিনি আরও বলেন, ঘটনাটি জানার পর একটি অভিযোগের ভিত্তিতে মামলা দায়ের করা হয়। তদন্তের জন্য একাধিক টিম গঠন করা হয়েছিল। এখন পর্যন্ত ১৪ জনকে শনাক্ত করে গ্রেপ্তার করা হয়েছে এবং বাকিদের খোঁজ চলছে।

পুলিশ জানায়, মামলাটি ভারতীয় ন্যায় সংহিতা (বিএনএস), ২০২৩-এর বিভিন্ন ধারায় করা হয়েছে। এর মধ্যে ধর্মীয় অনুভূতিতে আঘাত, ধর্মীয় স্থানের অবমাননা, সামাজিক বিভাজন সৃষ্টি, উপদ্রব এবং সরকারি নির্দেশ অমান্য করার অভিযোগ অন্তর্ভুক্ত রয়েছে।

এছাড়াও ১৯৭৪ সালের ‘ওয়াটার (পলিউশন প্রিভেনশন অ্যান্ড কন্ট্রোল) অ্যাক্ট’-এর ধারাও যুক্ত করা হয়েছে। এই আইনে নদী, কূপ বা জলাশয়ে ক্ষতিকর বা দূষণকারী পদার্থ ফেলা নিষিদ্ধ এবং পরিবেশ দূষণ প্রতিরোধের জন্য কঠোর বিধান রয়েছে।

অভিযোগকারীর বক্তব্য

রজত জয়সওয়াল দাবি করেন, ইফতার পার্টির নামে কিছু মুসলিম যুবক বিন্দু মাধব ধরহারা মন্দিরের সামনে গঙ্গায় আমিষ খাবার গ্রহণ করেছেন।

তিনি আরও বলেন, বিন্দু মাধব ধরহারাকে অনেকে আলমগীর মসজিদ বলে উল্লেখ করলেও এর প্রকৃত নাম তা নয়। যেভাবে সেখানে মাংস খাওয়া হয়েছে, তা সনাতন ধর্মাবলম্বীদের জন্য গ্রহণযোগ্য নয়।

তিনি প্রশাসনের কাছে দ্রুত ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানান এবং প্রমাণ হিসেবে একটি ভিডিও জমা দেন। তার মতে, ওই ভিডিওতে স্পষ্টভাবে দেখা যায় অভিযুক্তরা মাংস খাচ্ছেন এবং হাড় নদীতে ফেলে দিচ্ছেন।

পাল্টা প্রতিক্রিয়া

এ ঘটনায় বারাণসীর আঞ্জুমান ইন্তেজামিয়া মসজিদ কমিটির যুগ্ম সম্পাদক এস এম ইয়াসিন ভিন্নমত প্রকাশ করেছেন। তিনি জানান, নৌকায় ইফতার করার বিষয়টি তিনি পরে জানতে পেরেছেন এবং এটি সমর্থনযোগ্য নয়। তার ভাষায়, ইফতার একটি ধর্মীয় ইবাদত, এটি কোনো পিকনিক নয়। ইফতারের পরপরই মাগরিবের নামাজ আদায় করতে হয়।

তবে একইসঙ্গে তিনি অভিযোগ করেন, মুসলিমদের শোষণের উদ্দেশ্যেই এই মামলা করা হয়েছে। এই ঘটনাকে কেন্দ্র করে বারাণসীতে ধর্মীয় সংবেদনশীলতা, সামাজিক সহাবস্থান এবং আইন প্রয়োগ নিয়ে নতুন করে বিতর্ক সৃষ্টি হয়েছে।

 

 

আয়শা/১৮ মার্চ ২০২৬,/রাত ৮:০০

▎সর্বশেষ

ad