
আন্তর্জাতিক ডেস্ক : ইরানের প্রেসিডেন্ট মাসুদ পেজেশকিয়ান প্রতিবেশী উপসাগরীয় দেশগুলোর ওপর সাম্প্রতিক হামলার ঘটনায় আনুষ্ঠানিকভাবে ক্ষমা প্রার্থনা করেছেন। শনিবার এক বিবৃতিতে তিনি এই দুঃখ প্রকাশ করেন। তবে ইরানের এই নমনীয়তাকে মার্কিন চাপের বিজয় হিসেবে দেখছেন যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প।
নিজের সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ট্রুথ সোশ্যালে দেওয়া এক পোস্টে ট্রাম্প দাবি করেছেন, ইরান বর্তমানে ভয়াবহ পরিস্থিতির মধ্য দিয়ে যাচ্ছে এবং কেবল আমেরিকা ও ইসরায়েলের নিরবচ্ছিন্ন হামলার কারণেই তারা প্রতিবেশী দেশগুলোর কাছে নতি স্বীকার করতে বাধ্য হয়েছে।
ট্রাম্পের মতে, হাজার বছরের ইতিহাসে এই প্রথম ইরান মধ্যপ্রাচ্যের দেশগুলোর কাছে পরাজিত হয়েছে। তিনি কঠোর ভাষায় বলেন, ইরান আর এই অঞ্চলের দাপুটে শক্তি বা ‘বুলি’ নয়, বরং তারা এখন মধ্যপ্রাচ্যের পরাজিত শক্তিতে পরিণত হয়েছে এবং সম্পূর্ণ পতন না হওয়া পর্যন্ত কয়েক দশক এই অবস্থাই বজায় থাকবে।
পরাজিত শক্তি হিসেবে অভিহিত করার পাশাপাশি ট্রাম্প ইরানকে চরম ধ্বংসের হুমকিও দিয়েছেন। তিনি স্পষ্টভাবে জানিয়েছেন যে, শনিবার ইরানকে অত্যন্ত কঠোর আঘাত সহ্য করতে হবে। ট্রাম্পের হুঁশিয়ারি অনুযায়ী, ইরানের ‘খারাপ আচরণের’ কারণে এমন কিছু এলাকা এবং গোষ্ঠীকে লক্ষ্যবস্তু করার কথা গুরুত্বের সাথে বিবেচনা করা হচ্ছে, যা এর আগে কখনোই হামলার তালিকায় ছিল না।
যুক্তরাষ্ট্রের এই কঠোর অবস্থানের পেছনে ইসরায়েলি অভিযোগেরও বড় ভূমিকা রয়েছে। ইসরায়েল দাবি করেছে, ইরান নির্দিষ্ট কিছু ক্লাস্টার ওয়ারহেড মিসাইল ব্যবহার করে পরিকল্পিতভাবে বেসামরিক নাগরিকদের লক্ষ্যবস্তু বানাচ্ছে। ওয়াশিংটন ও তেহরানের এই পাল্টাপাল্টি অবস্থানে মধ্যপ্রাচ্যের পরিস্থিতি এখন এক অনিশ্চিত ও বিধ্বংসী পরিণতির দিকে মোড় নিচ্ছে বলে ধারণা করছেন বিশ্লেষকরা।
অনিমা/০৭ মার্চ ২০২৬,/সন্ধ্যা ৭:৩৩






