ব্রেকিং নিউজ
ইরানের প্রতিরক্ষামন্ত্রী নাসিরজাদেহ ও গার্ড কমান্ডার পাকপুর নিহতের দাবি আমাদের কাজগুলো যেন মানুষের ভাগ্যের পরিবর্তনের জন্য হয়: প্রধানমন্ত্রী মক্কা-মদিনায় আটকা পড়েছেন হাজারো বাংলাদেশি ইরানে হামলার জেরে উত্তপ্ত মধ্যপ্রাচ্য, বদলে যেতে পারে বিশ্ব অর্থনীতি ইরানের বালিকা বিদ্যালয়ে ইসরায়েলি হামলায় নিহতের সংখ্যা বেড়ে ৫৩ পুলিশের শীর্ষ পদে আলোচনাঃ আইজিপি পদে আলী হোসেন ফকির আলোচনার শীর্ষে গণতান্ত্রিক বাংলাদেশের অগ্রযাত্রায় পাশে থাকবে ভারত: হাইকমিশনার ইউনূস সেন্টারে ফিরলেন ড. ইউনূস বৃহস্পতিবার বইমেলা উদ্বোধন করবেন প্রধানমন্ত্রী, দেবেন একুশে পদক ১৪ লাখ বাংলাদেশির ভিসা ইস্যু করা হয়েছে : সৌদি রাষ্ট্রদূত

ইরান সংঘাতকে ‘ধর্মযুদ্ধে’ রূপ দেওয়ার চেষ্টায় যুক্তরাষ্ট্র–ইসরাইল, সফল হবে কি?

Ayesha Siddika | আপডেট: ০৫ মার্চ ২০২৬ - ০৫:১৩:৩৭ পিএম

আন্তর্জাতিক ডেস্ক : মধ্যপ্রাচ্যে চলমান সংঘাত ষষ্ঠ দিনে পৌঁছেছে। এ সময় যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরাইলের কিছু কর্মকর্তা যুদ্ধকে ধর্মীয় ভাষায় ব্যাখ্যা করায় সমালোচনা শুরু হয়েছে। অনেকের মতে, এই বক্তব্যগুলো সংঘাতকে এক ধরনের ‘ধর্মযুদ্ধ’ হিসেবে তুলে ধরার চেষ্টা করছে। মুসলিম নাগরিক অধিকার সংগঠন কাউন্সিল অন আমেরিকান-ইসলামিক রিলেশনস (সিএআইআর) এ ধরনের মন্তব্যকে ‘বিপজ্জনক’ এবং ‘মুসলিমবিদ্বেষী’ বলে আখ্যা দিয়েছে।

শনিবার (২৮ ফেব্রুয়ারি) যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরাইল ইরানে সামরিক অভিযান শুরু করার পর থেকে দেশটিতে ধারাবাহিক বিমান হামলা চলছে। এর জবাবে ইরান ইসরাইলের বিভিন্ন লক্ষ্যবস্তু ছাড়াও বাহরাইন, সৌদি আরব, কাতার, সংযুক্ত আরব আমিরাত, ইরাক এবং সাইপ্রাসে অবস্থিত মার্কিন সামরিক স্থাপনাগুলোর দিকে পাল্টা হামলা চালিয়েছে।

মার্কিন সেনাবাহিনীতে ধর্মীয় স্বাধীনতা নিয়ে কাজ করা সংগঠন মিলিটারি রিলিজিয়াস ফ্রিডম ফাউন্ডেশন জানিয়েছে, কিছু সেনাসদস্য অভিযোগ করেছেন যে, তাদের বলা হয়েছে—ইরানের সঙ্গে যুদ্ধ বাইবেলে বর্ণিত ‘বাইবেলে বর্ণিত শেষ সময় বা আর্মাগেডন ঘটানোর অংশ’ হতে পারে। একজন কর্মকর্তা অভিযোগ করে বলেন, এক কমান্ডার সৈন্যদের উদ্দেশে মন্তব্য করেছিলেন যে এই সংঘাত ‘ঈশ্বরের বৃহৎ পরিকল্পনার অংশ’। তিনি বাইবেলের ‘বুক অব রিভেলেশন’ থেকে আর্মাগেডন এবং যিশুখ্রিষ্টের প্রত্যাবর্তন সম্পর্কিত অংশও উল্লেখ করেন।

অভিযোগে আরও বলা হয়, ওই কমান্ডার দাবি করেছিলেন—মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পকে নাকি যিশু ‘ইরানে সংকেতের আগুন জ্বালানোর’ জন্য অভিষিক্ত করেছেন, যাতে আর্মাগেডনের সূচনা ঘটে। ধর্মীয় ভাষা ব্যবহারের অভিযোগ শুধু সামরিক মহলেই সীমাবদ্ধ নয়। ইসরাইলে নিযুক্ত যুক্তরাষ্ট্রের রাষ্ট্রদূত মাইক হাকাবি গত মাসে এক সাক্ষাৎকারে বলেন, ইসরাইল যদি ‘প্রায় পুরো মধ্যপ্রাচ্য’ নিয়েও নেয়, তাতেও সমস্যা নেই—কারণ বাইবেল অনুযায়ী এই ভূমি তাদের প্রতিশ্রুত।

অন্যদিকে মার্কিন পররাষ্ট্রমন্ত্রী মার্কো রুবিও বলেছেন, ইরান ‘ধর্মীয় উন্মাদদের দ্বারা পরিচালিত একটি দেশ’ এবং তারা পারমাণবিক অস্ত্র অর্জনের চেষ্টা করছে। মার্কিন প্রতিরক্ষামন্ত্রী পিট হেগসেথও মন্তব্য করেছেন, ‘ইরানের মতো উন্মাদ শাসনব্যবস্থার হাতে পারমাণবিক অস্ত্র থাকা উচিত নয়’। সিএআইআর বলছে, তার মন্তব্য শিয়া মতবাদের ‘শেষ সময়’ সংক্রান্ত ধর্মীয় ধারণার দিকেই ইঙ্গিত করে।

এদিকে ইসরাইলের প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু এক বক্তব্যে তোরাহর উদ্ধৃতি টেনে ইরানকে বাইবেলের শত্রু জাতি ‘আমালেক’এর সঙ্গে তুলনা করেন। ইহুদি ঐতিহ্যে আমালেককে ‘অশুভ শক্তির প্রতীক’ হিসেবে বিবেচনা করা হয়। নেতানিয়াহু বলেন, এই সপ্তাহের তোরাহ থেকে আমরা পড়েছি—আমালেক তোমাদের সঙ্গে যা করেছিল তা স্মরণ করো। আমরা স্মরণ করি এবং সেই অনুযায়ী কাজ করি।

বিশ্লেষকদের মতে, যুদ্ধকে ধর্মীয় ভাষায় ব্যাখ্যা করলে জনসমর্থন অর্জন সহজ হয়। ব্রিটেনের ডারহাম ইউনিভার্সিটি-এর অধ্যাপক জোলিয়ন মিচেল বলেন, অনেকেই বিশ্বাস করেন ঈশ্বর তাদের পক্ষেই আছেন। তাই সংঘাতকে নৈতিকভাবে বৈধ দেখাতে ধর্মীয় ভাষা ব্যবহার করা হয়। তিনি সতর্ক করে বলেন, শত্রুকে দানব বা অমানবিক হিসেবে তুলে ধরলে ভবিষ্যতে শান্তি প্রতিষ্ঠা আরও কঠিন হয়ে পড়ে।

কাতারের নর্থওয়েস্টার্ন ইউনিভার্সিটি-এর সহযোগী অধ্যাপক ইব্রাহিম আবুশারিফ মনে করেন, যুদ্ধের পক্ষে জনমত সংগঠিত করা, সভ্যতাভিত্তিক বিভাজন তৈরি করা এবং কৌশলগত বয়ান গড়ে তুলতেই ধর্মীয় ভাষা ব্যবহার করা হয়। তার মতে, বাস্তবে এই সংঘাত ভূরাজনৈতিক হলেও ধর্মীয় বয়ান ব্যবহার করলে সেটিকে ‘ভালো বনাম মন্দ’-এর সহজ নৈতিক লড়াই হিসেবে উপস্থাপন করা যায়।

সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া একটি ভিডিওতে খ্রিস্টান জায়নিস্ট যাজক জন হাগিকে যুক্তরাষ্ট্রের ইরান আক্রমণের পক্ষে কথা বলতে দেখা গেছে। তিনি দাবি করেন, ভবিষ্যতে বিভিন্ন দেশ ও ইসলামি গোষ্ঠী ইসরাইলের দিকে অগ্রসর হবে এবং শেষ পর্যন্ত ঈশ্বর ইসরাইলের শত্রুদের ধ্বংস করবেন।

বিশ্লেষকদের মতে, যুক্তরাষ্ট্রে ইভানজেলিক্যানস ও খ্রিস্টান জায়নিস্টদের মধ্যে মধ্যপ্রাচ্যের সংঘাতকে বাইবেলের ‘শেষ সময়’-এর অংশ হিসেবে দেখার প্রবণতা রয়েছে। উল্লেখ্য, এর আগেও গাজা যুদ্ধের সময় নেতানিয়াহুসহ কয়েকজন ইসরাইলি নেতা ফিলিস্তিনিদের প্রসঙ্গে ‘আমালেক’ শব্দ ব্যবহার করেছিলেন।

ইতিহাসেও এমন উদাহরণ রয়েছে। ২০০১ সালের ১১ সেপ্টেম্বরের সন্ত্রাসী হামলার পর প্রেসিডেন্ট জর্জ ডব্লিউ বুশ ‘ক্রুসেড’ শব্দ ব্যবহার করেছিলেন। যদিও পরে হোয়াইট হাউস ব্যাখ্যা দেয়, মুসলমানদের বিরুদ্ধে যুদ্ধ বোঝাতে তিনি সেটি ব্যবহার করেননি।১১ থেকে ১৩ শতকে কয়েক দফায় মধ্যপ্রাচ্যে মুসলামনদের থেকে ভূমি দখলের লড়াইকে ধর্মীয় রূপ দিয়ে ক্রুসেড নামে পরিচালনা করা হয়।

 

 

আয়শা/০৫ মার্চ ২০২৬,/বিকাল ৫:১২

▎সর্বশেষ

ad