
আন্তর্জাতিক ডেস্ক : পাকিস্তানের ধৈর্যের সীমা ফুরিয়ে গেছে বলে হুঁশিয়ারি দিয়েছেন দেশটির প্রতিরক্ষামন্ত্রী খাজা আসিফ। তিনি বলেন: ‘ভারতের প্রক্সি তালেবান’-এর বিরুদ্ধে পাকিস্তান সেনাবাহিনী পূর্ণ মাত্রায় পাল্টা হামলা চালাচ্ছে। তিনি ঘোষণা করেছেন, আফগান ‘আগ্রাসন‘ এবং তার ভাষায় ‘ভারতের প্রক্সি (প্রতিনিধি) তালেবান’-এর বিরুদ্ধে ‘প্রকাশ্য যুদ্ধ’ শুরু হয়েছে। একই সঙ্গে পূর্ণ মাত্রায় জবাব দেওয়া হবে।
তার এ মন্তব্য পশ্চিম সীমান্ত বরাবর উত্তেজনা এবং পাকিস্তানের সশস্ত্র বাহিনীর চলমান সামরিক অভিযানের মধ্যেই সামনে এল।খাজা আসিফ তার অফিসিয়াল এক্স অ্যাকাউন্টে এক পোস্টে বলেন, সাহসী সশস্ত্র বাহিনী আফগান ‘আগ্রাসন’ এবং তথাকথিত ‘ভারতীয় প্রক্সি’ তালেবানের বিরুদ্ধে পূর্ণাঙ্গ ও চূড়ান্ত জবাব দিচ্ছে। তিনি পোস্টে লিখেন, ‘আমাদের বাহিনী বর্তমানে একটি সিদ্ধান্তমূলক জবাব দিচ্ছে।’
তিনি আত্মবিশ্বাস ব্যক্ত করেন যে, শত্রুর কপালে পরাজয় নিশ্চিত। তিনি জোর দিয়ে বলেন যে, পাকিস্তানের এই সামরিক পদক্ষেপ কেবল প্রতীকী নয়, বরং এটি ব্যাপক এবং শত্রুভাবাপন্ন উদ্দেশ্য নস্যাৎ করার লক্ষ্যে পরিচালিত।
ধৈর্য ফুরিয়ে গেছে — এখন এটি প্রকাশ্য যুদ্ধ
একটি কঠোর বিবৃতিতে প্রতিরক্ষামন্ত্রী ঘোষণা করেন যে পাকিস্তানের ধৈর্যের সীমা শেষ। তিনি বলেন, ‘আমাদের ধৈর্য ফুরিয়ে গেছে। এখন এটি প্রকাশ্য যুদ্ধ।’ তিনি বলেন, আফগানিস্তানকে তাদের আগ্রাসনের পূর্ণ জবাব দেওয়া হচ্ছে। তিনি আরও বলেন, এখন ‘দামা দাম মাস্ত কালান্দার’ হবে, যা সামরিক অভিযানের একটি তীব্র পর্যায়ের ইঙ্গিত দেয়।
আসিফ একটি তীক্ষ্ণ বার্তা দিয়ে বলেন, পাকিস্তান সেনাবাহিনী সমুদ্রের ওপার থেকে আসেনি। তারা আপনার প্রতিবেশী; তারা আপনাদের গতিবিধি জানে, যা আঞ্চলিক পরিস্থিতি এবং নিরাপত্তা বাস্তবতা সম্পর্কে গভীর সচেতনার ইঙ্গিত দেয়।
তালেবানের বিরুদ্ধে ভারতের প্রক্সি হওয়ার অভিযোগ
প্রতিরক্ষামন্ত্রী বলেন, পাকিস্তান সরাসরি এবং বন্ধুপ্রতীম দেশগুলোর মাধ্যমে পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখার চেষ্টা করেছিল। ব্যাপক কূটনৈতিক প্রচেষ্টা সত্ত্বেও, তার দাবি অনুযায়ী, তালেবান ভারতের প্রক্সিতে পরিণত হয়েছে।
আসিফের মতে, ইসলামাবাদ কূটনীতির মাধ্যমে সম্পর্ক স্থিতিশীল করার জন্য গুরুত্বের সঙ্গে চেষ্টা করেছিল, কিন্তু সেই প্রচেষ্টা ফলাফল দিতে ব্যর্থ হয়েছে। উত্তেজনা বাড়ার এই সময়ে খাজা আসিফ অভ্যন্তরীণ রাজনৈতিক ঐক্যের আহ্বান জানান। তিনি বলেন, বর্তমান পরিস্থিতিতে পাকিস্তান তেহরিক-ই-ইনসাফের (পিটিআই) উচিত ফেডারেশন এবং অন্যান্য প্রদেশগুলোর পাশে দাঁড়ানো।
তিনি আরও বলেন, মাতৃভূমি রক্ষায় পিটিআইয়ের ভূমিকা পালন করা উচিত। এই সংকটময় সময়ে তিনি একটি ঐক্যবদ্ধ জাতীয় ফ্রন্টের ডাক দেন।
দৃঢ় সংকল্পের বার্তা
সশস্ত্র বাহিনীর ওপর পুনরায় আস্থা ব্যক্ত করে প্রতিরক্ষামন্ত্রী বলেন, পাকিস্তানের সামরিক বাহিনী আগ্রাসন মোকাবিলায় পূর্ণ মাত্রায় নিয়োজিত এবং প্রস্তুত।
কূটনীতি ব্যর্থ হওয়া এবং অভিযান শুরু হওয়ার প্রেক্ষাপটে আসিফের এই মন্তব্যগুলো ইসলামাবাদের কঠোর অবস্থানেরই ইঙ্গিত দিচ্ছে।
সূত্র: সামা টিভি।
আয়শা/২৭ ফেব্রুয়ারী ২০২৬,/রাত ১১:৫০






