
ডেস্ক নিউজ : বাণিজ্য উপদেষ্টা শেখ বশিরউদ্দীন বলেছেন, সরবরাহকেন্দ্রিক জটিলতা না থাকলে আসন্ন রমজানে পণ্যমূল্য আরও কমতে পারে। রোববার (২৫ জানুয়ারি) বিকালে বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ে রমজান উপলক্ষে নিত্যপ্রয়োজনীয় খাদ্যপণ্যের মূল্য ও বাজার পরিস্থিতি পর্যালোচনা বিষয়ে টাস্কফোর্সের সভা শেষে একথা বলেন তিনি।
বাণিজ্য উপদেষ্টা বলেন, গত বছরের তুলনায় এবার রমজানে বাজার আরও স্থিতিশীল থাকবে। উৎপাদন, আমদানি ও বাংলাদেশ ব্যাংকের ডেটা বিশ্লেষণ করে সামগ্রিক বিবেচনায় এমনটিই মনে হয়েছে। প্রতিবার রোজার আগে নানা অজুহাতে নিত্যপণ্যের দাম বেড়ে যায়, এবারো এরকম কোনো আশঙ্কা আছে কিনা, এমন প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, দেশে এ মুহূর্তে গ্যাসের সংকট নেই, ডলারের সংকট নেই। বিনিময় হারও স্থিতিশীল। বাণিজ্য মন্ত্রণালয় ও কৃষি মন্ত্রণালয়ের উদ্যোগে আমরা ভোজ্যতেলকে বৈচিত্র্যময় করেছি।
এর আওতায় বাজারে প্রায় ৫ লাখ টন স্থানীয়ভাবে উৎপাদিত রাইস ব্র্যান তেল অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে জানিয়ে তিনি বলেন, প্রতিযোগিতা আসার ফলে সরকার কর্তৃক স্বীকৃত মূল্যের চেয়েও বাজারে তেলের পাইকারি দাম কম। আমরা আশা করি, বাজারে যত প্রতিযোগিতা বাড়বে, আমরা এই ইনক্লুসিভ পলিসি নেওয়ার ফলে প্রতিযোগিতার ভিত্তিতেই বাজারমূল্য স্থির হবে।
টাস্কফোর্স ও ব্যবসায়ী প্রতিনিধির সঙ্গে বৈঠক প্রসঙ্গে এক প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, উনারা আমাদের বিশেষ কোনো চ্যালেঞ্জ জানাননি। ব্যবসায়ী প্রতিনিধিরাও বলছেন বাজারমূল্য স্থিতিশীল। সরবরাহকেন্দ্রিক কোনো জটিলতা যদি না থাকে, তাহলে আশা করা যায় রমজানে পণমূল্য আরও কমবে, ইনশাআল্লাহ।
পদ্মা সেতু নিয়ে উপদেষ্টার মন্তব্য নিয়ে অপর এক প্রশ্নের জবাবে বাণিজ্য উপদেষ্টা বলেন, ২০০৮ সালে শেখ হাসিনা ক্ষমতায়িত হওয়ার সময় দেনা ছিল ২ লাখ কোটি টাকা। এ বছর সেটি ২৩ লাখ কোটি টাকার উপরে চলে গেছে। এ সামগ্রিক দায়ের ফলে টাকার মূল্যমান কমেছে ৪৬ ভাগ। বাণিজ্য উপদেষ্টা আরও বলেন, ঋণভিত্তিক যে ব্যয়গুলো করা হয়েছে, সেটি আয় তৈরি করতে পারেনি। এর ফলে টাকার অবমূল্যায়ন হয়েছে এবং বিভিন্ন দীর্ঘমেয়াদি দায় তৈরি হয়েছে। যে কারণে আইএমএফের কাছ থেকেও ঋণ নিতে হয়েছে।
শেখ বশিরউদ্দিন বলেন, শুধু পদ্মা সেতু নয়; কর্ণফুলী টানেল, পদ্মা রেল সেতু, পায়রা বন্দরের মতো বিভিন্ন ধরনের যে অযাচিত ও অপরিণামদর্শী ব্যয় করা হয়েছে, তার সামগ্রিক প্রতিফলন এসেছে নিত্যপণ্যের বাজারে। পদ্মা রেল সেতুতে প্রাক্কলন ছিল ১৪০০ কোটি টাকা টোল উঠবে, কিন্তু আসছে মাত্র ২৬ কোটি টাকা। বলা হয়েছিল, পদ্মা সেতু হলে জিডিপি ২ শতাংশ কমে আসবে, কিন্তু উলটো জিডিপি কমছে বলেও জানান তিনি।
আয়শা/২৫ জানুয়ারী ২০২৬,/সন্ধ্যা ৭:১৪






