ব্রেকিং নিউজ
রংপুরে আইজিপির উদ্যোগে প্রথম কমিউনিটি পুলিশ কাবাডি চ্যাম্পিয়নশিপের উদ্বোধন আইজিপির বক্তব্যকে সময়োপযোগী ও সঠিক বলল পুলিশ সার্ভিস অ্যাসোসিয়েশন ‘ক্রসফায়ার’ নিয়ে আইজিপি’র বক্তব্যের ভুল ব্যাখ্যা দেয়া হচ্ছে মাঝ আকাশে দুই যুদ্ধবিমানের সংঘর্ষে ফিলিপিন্সের ৪ পাইলট নিহত প্রধানমন্ত্রীর জাপান সফরে অর্থনৈতিক সহযোগিতায় নতুন গতির আশা টোকিওর সংবিধান সংশোধন: বিশেষ কমিটির নবম বৈঠক চলছে মিথ্যাচার করে সরকারের ভাবমূর্তি নষ্টের চেষ্টা করছে জামায়াত: রিজভী গাজীপুরে পোশাক কারখানার আগুন নিয়ন্ত্রণে শান্তিপূর্ণভাবে দুর্গাপূজা সম্পন্ন হওয়ায় রংপুর রেঞ্জ ডিআইজির কৃতজ্ঞতা হুমকিতে ব্যাংক-সরকারি পোর্টালে সাইবার হামলার আশংকা, উচ্চ সতর্কতা জারি

ব্যবসায়ীদের সন্তুষ্ট করতে গিয়ে সরকার জনগণকে অসন্তুষ্ট করছে: বিপ্লবী ওয়ার্কার্স পার্টি

Ayesha Siddika | আপডেট: ০৩ নভেম্বর ২০২৬ - ০৭:৫৪:২৫ পিএম

ডেস্ক নিউজ : বাংলাদেশের বিপ্লবী ওয়ার্কার্স পার্টির সাধারণ সম্পাদক সাইফুল হক এলপিজি (তরলীকৃত পেট্রোলিয়াম গ্যাস) সিলিন্ডারের অস্বাভাবিক মূল্যবৃদ্ধিতে তীব্র ক্ষোভ ও প্রতিবাদ জানিয়েছেন। তিনি বলেছেন, ব্যবসায়ীদের চাপ ও স্বার্থকে প্রাধান্য দিতে গিয়ে সরকার ও বাংলাদেশ এনার্জি রেগুলেটরি কমিশন (বিইআরসি) সাধারণ ভোক্তাদের স্বার্থকে উপেক্ষা করেছে।

মঙ্গলবার এক প্রেস বিজ্ঞপ্তিতে এ কথা জানিয়েছে বাংলাদেশের বিপ্লবী ওয়ার্কার্স পার্টি। এক বিবৃতিতে সাইফুল হক বলেন, এমনিতেই নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের লাগামহীন মূল্যবৃদ্ধি, বাড়িভাড়া, বিদ্যুৎ, পরিবহন ও চিকিৎসা ব্যয়ের চাপে সাধারণ মানুষের জীবন দুর্বিষহ হয়ে উঠেছে। এর মধ্যে এলপিজির এই অস্বাভাবিক মূল্যবৃদ্ধি জনজীবনে নতুন করে বিপর্যয় তৈরি করবে।

তিনি আরও বলেন, গত ২ নভেম্বর বিইআরসি ১২ কেজি এলপিজি সিলিন্ডারের দাম এক লাফে ২২৩ টাকা বাড়িয়ে ২ হাজার ৬০ টাকা নির্ধারণ করেছে। চলতি বছরের জানুয়ারিতে এই সিলিন্ডারের দাম ছিল ১ হাজার ৩০৬ টাকা। অর্থাৎ মাত্র ১১ মাসে সিলিন্ডারপ্রতি দাম বেড়েছে ৭৫৪ টাকা, যা প্রায় ৫৮ শতাংশ। এভাবে বারবার জ্বালানির দাম বাড়িয়ে সাধারণ মানুষের জীবনযাত্রার ব্যয় অসহনীয় পর্যায়ে নিয়ে যাওয়া হচ্ছে।

সাইফুল হক জানান, এলপিজির ক্ষেত্রে বিইআরসি প্রতি মাসে আন্তর্জাতিক বাজারের দোহাই দিয়ে মূল্য সমন্বয় করছে। কিন্তু আন্তর্জাতিক বাজারে দাম কমলে তার সুফল সাধারণ ভোক্তারা যথাযথভাবে পাচ্ছেন কি না, আর দাম বাড়লেই কেন তার পুরো বোঝা ভোক্তাদের বহন করতে হবে, সেই প্রশ্নের জবাব নেই।

তিনি আরও বলেন, এলপিজি ব্যবসায়ীদের কমিশন, মুনাফা ও পরিচালন ব্যয় বৃদ্ধির দাবির পরিপ্রেক্ষিতে নতুন মূল্য কাঠামোয় সরবরাহ ব্যবস্থার বিভিন্ন পর্যায়ে ব্যবসায়ীদের কমিশন উল্লেখযোগ্য হারে বাড়ানো হয়েছে। ব্যবসায়ীদের দাবি বিবেচনা করতে গিয়ে শেষ পর্যন্ত সাধারণ ভোক্তাদের ওপরই বাড়তি ব্যয়ের বোঝা চাপানো হয়েছে। ব্যবসায়ীদের মুনাফা ও কমিশন নিশ্চিত করা রাষ্ট্রের দায়িত্ব হতে পারে না। রাষ্ট্রের প্রধান দায়িত্ব হচ্ছে জনগণের স্বার্থ ও ক্রয়ক্ষমতা রক্ষা করা।

সাইফুল হক বলেন, দেশের বিপুলসংখ্যক পরিবার রান্নার কাজে এলপিজির ওপর নির্ভরশীল। শুধু বাসাবাড়ি নয়, হোটেল, রেস্তোরাঁ, ক্ষুদ্র ব্যবসা এবং বিভিন্ন উৎপাদনশীল কর্মকাণ্ডেও এলপিজি ব্যবহৃত হয়। ফলে এই মূল্যবৃদ্ধির প্রভাব শুধু একটি সিলিন্ডারের দামের মধ্যে সীমাবদ্ধ থাকবে না। খাদ্যপণ্য ও সেবার উৎপাদন ব্যয় বাড়বে, যার চাপ শেষ পর্যন্ত সাধারণ ক্রেতাদের ওপরই পড়বে। এমনিতেই মূল্যস্ফীতির কারণে মানুষের প্রকৃত আয় ও ক্রয়ক্ষমতা কমে গেছে। নতুন এই মূল্যবৃদ্ধি নিম্নবিত্ত, মধ্যবিত্ত ও স্বল্প আয়ের মানুষের সংসার চালানো আরও কঠিন করে তুলবে।

তিনি আরও বলেন, বাজারে এলপিজির নির্ধারিত দামের চেয়েও বেশি দামে সিলিন্ডার বিক্রির অভিযোগ দীর্ঘদিনের। বাজারে সরবরাহ ও মূল্য নিয়ন্ত্রণ নিশ্চিত না করে ব্যবসায়ীদের দাবি অনুযায়ী দাম বাড়ানো কোনোভাবেই গ্রহণযোগ্য হতে পারে না। কৃত্রিম সংকট, মজুতদারি, অতিরিক্ত মুনাফা ও ভোক্তা হয়রানির অভিযোগ তদন্ত না করে মূল্যবৃদ্ধির সিদ্ধান্ত নেওয়া জনস্বার্থবিরোধী।

বিপ্লবী ওয়ার্কার্স পার্টির সাধারণ সম্পাদক অবিলম্বে এলপিজির অস্বাভাবিক মূল্যবৃদ্ধির সিদ্ধান্ত পুনর্বিবেচনা ও প্রত্যাহার, ব্যবসায়ীদের কমিশন ও মুনাফার নামে ভোক্তাদের ওপর বাড়তি ব্যয়ের বোঝা চাপানো বন্ধ এবং এলপিজির বাজারে কার্যকর তদারকি ও জবাবদিহি নিশ্চিত করার দাবি জানান। একই সঙ্গে তিনি আন্তর্জাতিক বাজারের সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে স্বচ্ছ ও যৌক্তিক মূল্য নির্ধারণ, কৃত্রিম সংকট ও অতিরিক্ত দামে বিক্রির বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা এবং সাধারণ মানুষের ক্রয়ক্ষমতা বিবেচনায় নিয়ে জ্বালানি মূল্যনীতি প্রণয়নের আহ্বান জানান।

তিনি বলেন, ব্যবসায়ীদের মুনাফা রক্ষার নামে জনগণের পকেট কেটে নেওয়ার নীতি বন্ধ করতে হবে। জ্বালানি ও নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের মূল্য নির্ধারণে মুনাফাখোর ব্যবসায়ী গোষ্ঠীর স্বার্থ নয়, জনগণের স্বার্থই হতে হবে রাষ্ট্রের প্রধান বিবেচনা।

 

 

আয়শা/০৩ নভেম্বর ২০২৬,/সন্ধ্যা ৭:৫২

▎সর্বশেষ

ad