ব্রেকিং নিউজ
আইজিপির বক্তব্যকে সময়োপযোগী ও সঠিক বলল পুলিশ সার্ভিস অ্যাসোসিয়েশন ‘ক্রসফায়ার’ নিয়ে আইজিপি’র বক্তব্যের ভুল ব্যাখ্যা দেয়া হচ্ছে মাঝ আকাশে দুই যুদ্ধবিমানের সংঘর্ষে ফিলিপিন্সের ৪ পাইলট নিহত প্রধানমন্ত্রীর জাপান সফরে অর্থনৈতিক সহযোগিতায় নতুন গতির আশা টোকিওর সংবিধান সংশোধন: বিশেষ কমিটির নবম বৈঠক চলছে মিথ্যাচার করে সরকারের ভাবমূর্তি নষ্টের চেষ্টা করছে জামায়াত: রিজভী গাজীপুরে পোশাক কারখানার আগুন নিয়ন্ত্রণে শান্তিপূর্ণভাবে দুর্গাপূজা সম্পন্ন হওয়ায় রংপুর রেঞ্জ ডিআইজির কৃতজ্ঞতা হুমকিতে ব্যাংক-সরকারি পোর্টালে সাইবার হামলার আশংকা, উচ্চ সতর্কতা জারি প্রধানমন্ত্রীর সফরকালে জাপানে থাকবেন না রাষ্ট্রদূত

ইথিওপিয়াকে ১২ যুদ্ধবিমান ও চার এস-৪০০ দিচ্ছে রাশিয়া, নেপথ্যে কী?

Anima Rakhi | আপডেট: ২৯ অক্টোবর ২০২৬ - ০৮:৪৬:৩১ পিএম

আন্তর্জাতিক ডেস্ক  : আফ্রিকার হর্ন অব আফ্রিকা অঞ্চলে নিজেদের প্রভাব বাড়ানোর পাশাপাশি ইথিওপিয়ার সামরিক সক্ষমতা জোরদারে দেশটিকে ১২টি সু-৩৫ যুদ্ধবিমান দিয়েছে রাশিয়া।

পাশাপাশি ইথিওপিয়াকে চারটি এস-৪০০ আকাশ প্রতিরক্ষাব্যবস্থা দেওয়ার চুক্তিও হয়েছে। 

বিশ্লেষকদের মতে, অভ্যন্তরীণ সংঘাত এবং প্রতিবেশী ইরিত্রিয়ার সঙ্গে উত্তেজনার মধ্যে এই সামরিক সরঞ্জাম ইথিওপিয়ার প্রতিরক্ষাব্যবস্থা শক্তিশালী করবে। একই সঙ্গে আফ্রিকায় মস্কোর কৌশলগত অবস্থান আরও মজবুত হতে পারে।

দুই দিনের রাশিয়া-আফ্রিকা সম্মেলনে অংশ নিতে মস্কো গিয়ে রুশ প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিনের সঙ্গে বৈঠকের সময় চুক্তির বিষয়টি জানান ইথিওপিয়ার প্রধানমন্ত্রী আবি আহমেদ।

পুতিন বলেন, আন্তর্জাতিক বিষয়ে রাশিয়া ও ইথিওপিয়া একসঙ্গে কাজ করছে।

আবি জানান, আগের চুক্তির আওতায় ১২টি সু-৩৫ যুদ্ধবিমান হাতে পেয়েছে তার দেশ। তবে এস-৪০০ আকাশ প্রতিরক্ষাব্যবস্থা কবে সরবরাহ করা হবে, তা জানাননি তিনি।

আকাশ প্রতিরক্ষায় বাড়তি সক্ষমতা
বিশ্লেষকদের মতে, রাশিয়ার তৈরি সু-৩৫ যুদ্ধবিমান ইথিওপিয়ার বিদ্যমান বিমানবাহিনীর সক্ষমতা বাড়াবে। অন্যদিকে, এস-৪০০ ব্যবস্থা আকাশপথে আসা প্রচলিত সামরিক হুমকি মোকাবিলায় সহায়তা করবে।

ঝুঁকি বিশ্লেষণকারী প্রতিষ্ঠান সিবিলাইনের মধ্যপ্রাচ্য ও আফ্রিকাবিষয়ক জ্যেষ্ঠ বিশ্লেষক বেনেডিক্ট মানজিন আল-জাজিরাকে বলেন, ইরিত্রিয়ার সঙ্গে যুদ্ধ হলে দেশটির সীমিত বিমানবাহিনী ও ড্রোন মোকাবিলায় এসব ব্যবস্থা কাজে লাগতে পারে। তবে ছোট ও সস্তা ড্রোনের ব্যাপক আক্রমণে প্রচলিত আকাশ প্রতিরক্ষাব্যবস্থাও বিপর্যস্ত হতে পারে- ইউক্রেনের যুদ্ধ থেকে এমন নজির দেখা গেছে।

আফ্রিকায় রাশিয়ার প্রভাব বিস্তারের হিসাব
রাশিয়া ও ইথিওপিয়ার সামরিক সহযোগিতা নতুন নয়। স্নায়ুযুদ্ধের সময় সোভিয়েত ইউনিয়ন ইথিওপিয়ার তৎকালীন কমিউনিস্ট সরকারকে সমর্থন দিয়েছিল। বর্তমান সহযোগিতাও সেই ঐতিহাসিক সম্পর্কের ধারাবাহিকতা। সামরিক প্রযুক্তি, প্রশিক্ষণ ও জ্ঞান বিনিময়ের মাধ্যমে ইথিওপিয়ার সশস্ত্র বাহিনীর সক্ষমতা বাড়াতে দুই দেশ বিভিন্ন চুক্তি করেছে।

অস্ত্র বিক্রি রাশিয়ার জন্য বড় বাণিজ্যিক স্বার্থও তৈরি করছে। স্টকহোম আন্তর্জাতিক শান্তি গবেষণা প্রতিষ্ঠানের (এসআইপিআরআই) তথ্য অনুযায়ী, ২০২১ থেকে ২০২৫ সাল পর্যন্ত আফ্রিকায় প্রধান সামরিক সরঞ্জাম আমদানির ১৫ শতাংশ এসেছে রাশিয়া থেকে। যুক্তরাষ্ট্রের অংশ ছিল ১৯ শতাংশ এবং চীনের ১৭ শতাংশ।

বিশ্লেষকদের মতে, ইথিওপিয়ার মতো জনবহুল দেশে সামরিক ও বাণিজ্যিক সম্পর্ক জোরদার করে মস্কো তার কূটনৈতিক প্রভাবও বাড়াতে চাইছে। তবে রাশিয়ার সঙ্গে ঘনিষ্ঠতা মানেই পশ্চিমা দেশগুলোর সঙ্গে সম্পর্ক ছিন্ন করা নয়। ইথিওপিয়ায় চীনের বড় উপস্থিতি রয়েছে, পাশাপাশি পশ্চিমা বিনিয়োগও অব্যাহত।

অভ্যন্তরীণ সংঘাতের মধ্যে অস্ত্র সরবরাহ
ইথিওপিয়ায় নতুন করে সংঘাত ছড়িয়ে পড়ার মধ্যেই যুদ্ধবিমান সরবরাহ করা হলো। দেশটির উত্তরাঞ্চলীয় তিগ্রায় অঞ্চলে কেন্দ্রীয় সরকার ও তিগ্রায় বাহিনীর মধ্যে সেপ্টেম্বরের শেষ দিকে লড়াই তীব্র হয়। 

এতে ২০২২ সালের নভেম্বরে স্বাক্ষরিত শান্তিচুক্তি কার্যত ভেঙে পড়ার আশঙ্কা তৈরি হয়েছে। আমহারা অঞ্চলেও বিদ্রোহ চলছে; পাশাপাশি ইরিত্রিয়ার সঙ্গে সম্ভাব্য সংঘাত নিয়ে উদ্বেগ রয়েছে।

অক্টোবরের শুরুতে তিগ্রায় পিপলস লিবারেশন ফ্রন্টের (টিপিএলএফ) যোদ্ধারা মেকেলে থেকে সরে যাওয়ার পর সরকারি বাহিনী ও তাদের মিত্ররা শহরটিতে প্রবেশ করে। পরে আদ্দিস আবাবা ছয় মাসের জন্য অন্তর্বর্তী প্রশাসন গঠন করে। তবে বিদ্রোহী নেতারা লড়াই চালিয়ে যাওয়ার ঘোষণা দিয়েছেন।

প্রধানমন্ত্রী আবি বলেছেন, নতুন সামরিক সরঞ্জাম ইথিওপিয়ার আগ্রাসন আগাম প্রতিরোধের সক্ষমতা বাড়াবে। তবে বিশ্লেষকদের মতে, চুক্তি আগেই করা হয়ে থাকতে পারে; ফলে সাম্প্রতিক সংঘাতই অস্ত্র কেনার সরাসরি কারণ- এমন সিদ্ধান্তে পৌঁছানোর যথেষ্ট ভিত্তি নেই। সূত্র: আল-জাজিরা

কিউটিভি/অনিমা/২৯ অক্টোবর ২০২৬,/রাত ৮:৪৬

 

▎সর্বশেষ

ad