ঘরে বসে ই-পাসপোর্টের আবেদন করবেন যেভাবে, খরচ কত?

Ayesha Siddika | আপডেট: ১৬ অক্টোবর ২০২৬ - ০৯:৩২:৩০ পিএম

ডেস্ক নিউজ : পাসপোর্ট অফিসের দীর্ঘ লাইন, দালালের হয়রানি ও আবেদনপ্রক্রিয়ার জটিলতা নিয়ে অনেকের মধ্যেই উদ্বেগ রয়েছে। তবে অনলাইনে আবেদন করার সুবিধা থাকায় বাংলাদেশে ই-পাসপোর্টের আবেদনপ্রক্রিয়ার বেশ কিছু কাজ এখন ঘরে বসেই করা যায়। নির্ধারিত ওয়েবসাইটে আবেদন ফরম পূরণ, ফি পরিশোধ এবং অ্যাপয়েন্টমেন্টের নির্দেশনা অনুসরণ করে আবেদনকারীকে পরবর্তী ধাপে যেতে হয়। তবে ছবি তোলা ও বায়োমেট্রিক তথ্য দেওয়ার জন্য নির্ধারিত পাসপোর্ট অফিসে উপস্থিত হতে হয়।

ই-পাসপোর্ট আবেদনে যেসব কাগজপত্র লাগবে

অনলাইনে আবেদন শুরুর আগে প্রয়োজনীয় কাগজপত্র প্রস্তুত রাখা উচিত। সাধারণত যেসব নথি প্রয়োজন হতে পারে—

১. জাতীয় পরিচয়পত্র বা জন্মনিবন্ধন সনদ: আবেদনকারীর বয়স ও প্রযোজ্য নিয়ম অনুযায়ী জাতীয় পরিচয়পত্র অথবা অনলাইন যাচাইযোগ্য জন্মনিবন্ধন সনদ প্রয়োজন হবে। বয়সভেদে কোন নথি গ্রহণযোগ্য, তা সরকারি নির্দেশনা অনুযায়ী নিশ্চিত করতে হবে।

২. আগের পাসপোর্ট: আগে পাসপোর্ট করা থাকলে পুরোনো পাসপোর্টের তথ্য দিতে হবে। নবায়ন বা পুনরায় ইস্যুর ক্ষেত্রে আগের পাসপোর্ট সঙ্গে রাখাও প্রয়োজন হতে পারে।

৩. পেশাসংক্রান্ত নথি: প্রযোজ্য ক্ষেত্রে শিক্ষার্থী পরিচয়পত্র, চাকরির পরিচয়পত্র, অনাপত্তিপত্র বা পেশার সমর্থনে প্রয়োজনীয় কাগজপত্র লাগতে পারে।

৪. বাবা-মায়ের পরিচয়পত্রের তথ্য: আবেদনপত্রে বাবা-মায়ের নাম ও পরিচয়সংক্রান্ত তথ্য সঠিকভাবে পূরণ করতে তাঁদের জাতীয় পরিচয়পত্রের কপি বা তথ্য কাছে রাখা সহায়ক।

আবেদনকারীর বয়স, পেশা, পাসপোর্টের ধরন ও বিশেষ পরিস্থিতি অনুযায়ী অতিরিক্ত নথিও চাওয়া হতে পারে।

অনলাইনে ই-পাসপোর্টের আবেদন করার নিয়ম

ই-পাসপোর্টের আবেদন করতে প্রথমে সরকারি ওয়েবসাইট epassport.gov.bd-এ প্রবেশ করতে হবে। এরপর নির্দেশনা অনুসরণ করে অনলাইনে আবেদন করতে হবে।

আবেদনের ধাপগুলো হলো—

১. সরকারি ওয়েবসাইটে প্রবেশ করে অনলাইন আবেদনের অপশন নির্বাচন করতে হবে।

২. আবেদনকারীর বর্তমান ও স্থায়ী ঠিকানা অনুযায়ী প্রযোজ্য পাসপোর্ট অফিস নির্বাচন করতে হবে।

৩. ই-মেইল ঠিকানা ব্যবহার করে প্রয়োজন অনুযায়ী অ্যাকাউন্ট খুলতে হবে।

৪. আবেদনপত্রে নাম, জন্মতারিখ, বাবা-মায়ের নাম, ঠিকানা ও অন্যান্য ব্যক্তিগত তথ্য নির্ভুলভাবে পূরণ করতে হবে।

৫. ফরম পূরণের সময় জাতীয় পরিচয়পত্র বা জন্মনিবন্ধন সনদের তথ্যের সঙ্গে সব তথ্য মিলিয়ে দেখতে হবে। নামের বানান বা জন্মতারিখে ভুল থাকলে পরবর্তী সময়ে সংশোধনের জন্য বাড়তি সময় ও ঝামেলা হতে পারে।

৬. পাসপোর্টের পাতা, মেয়াদ ও সরবরাহের ধরন নির্বাচন করতে হবে। আবেদন জমা দেওয়ার আগে সব তথ্য পুনরায় যাচাই করা জরুরি।

৭. নির্ধারিত নিয়মে ফি পরিশোধ করে আবেদনপত্র ও পেমেন্টের প্রমাণ সংরক্ষণ করতে হবে। এরপর নির্দেশনা অনুযায়ী বায়োমেট্রিক তথ্য দেওয়ার জন্য নির্ধারিত পাসপোর্ট অফিসে যেতে হবে।

ই-পাসপোর্ট করতে কত টাকা লাগে?

ই-পাসপোর্টের ফি নির্ভর করে পাসপোর্টের পাতার সংখ্যা, মেয়াদ এবং সরবরাহের ধরনের ওপর। আবেদন করার আগে সরকারি ওয়েবসাইটে প্রকাশিত সর্বশেষ ফি তালিকা দেখে নেওয়া জরুরি। ভ্যাটসহ মোট ফি ও সরবরাহের সম্ভাব্য সময়ও সেখানে যাচাই করা উচিত।

আবেদনের ফি পরিশোধের সময় আবেদনসংক্রান্ত রেফারেন্স নম্বর ও অন্যান্য তথ্য সঠিকভাবে দিতে হবে। ভুল তথ্য দিলে পেমেন্ট যাচাইয়ে জটিলতা তৈরি হতে পারে।

৪৮ পৃষ্ঠার ই-পাসপোর্ট (৫ বছর মেয়াদি)

রেগুলার ডেলিভারি (২১ দিন): ৪,০২৫ টাকা

এক্সপ্রেস ডেলিভারি (১০ দিন): ৬,৩২৫ টাকা

সুপার এক্সপ্রেস ডেলিভারি (২ দিন): ৮,৬২৫ টাকা 

৪৮ পৃষ্ঠার ই-পাসপোর্ট (১০ বছর মেয়াদি)

রেগুলার ডেলিভারি (২১ দিন): ৫,৭৫০ টাকা

এক্সপ্রেস ডেলিভারি (১০ দিন): ৮,০৫০ টাকা

সুপার এক্সপ্রেস ডেলিভারি (২ দিন): ১০,৩৫০ টাকা 

৬৪ পৃষ্ঠার ই-পাসপোর্ট (৫ বছর মেয়াদি)

রেগুলার ডেলিভারি (২১ দিন): ৬,৩২৫ টাকা

এক্সপ্রেস ডেলিভারি (১০ দিন): ৮,৬২৫ টাকা

সুপার এক্সপ্রেস ডেলিভারি (২ দিন): ১২,০৭৫ টাকা 

৬৪ পৃষ্ঠার ই-পাসপোর্ট (১০ বছর মেয়াদি)

রেগুলার ডেলিভারি (২১ দিন): ৮,০২৫ টাকা

এক্সপ্রেস ডেলিভারি (১০ দিন): ১০,৩৫০ টাকা

সুপার এক্সপ্রেস ডেলিভারি (২ দিন): ১৩,৮০০ টাকা

বায়োমেট্রিক তথ্য ও ছবি তোলার প্রক্রিয়া

অনলাইনে আবেদন জমা দেওয়ার পর আবেদনপত্রের কপি ও প্রয়োজনীয় কাগজপত্র প্রস্তুত রাখতে হবে। নির্ধারিত তারিখে পাসপোর্ট অফিসে যাওয়ার সময় আবেদনপত্র, পরিচয়পত্রের কপি, ফি পরিশোধের প্রমাণ এবং আগের পাসপোর্ট থাকলে সেটি সঙ্গে নিতে হবে। আবেদনকারীর ক্ষেত্রে প্রযোজ্য অতিরিক্ত নথিও সঙ্গে রাখা উচিত।

পাসপোর্ট অফিসে আবেদনকারীর ছবি তোলা, আঙুলের ছাপ নেওয়া এবং চোখের আইরিস স্ক্যানসহ প্রয়োজনীয় বায়োমেট্রিক তথ্য সংগ্রহ করা হতে পারে। এ সময় অফিসের নির্দেশনা মেনে চলতে হবে।

ছবি তোলার দিন পোশাক নির্বাচনের ক্ষেত্রে মুখ স্পষ্টভাবে দেখা যায়—এমন পোশাক পরা ভালো। পটভূমি ও ছবির মানসংক্রান্ত নির্দেশনা পাসপোর্ট অফিসের নিয়ম অনুযায়ী অনুসরণ করতে হবে।

আবেদন করার আগে যা মনে রাখবেন

ই-পাসপোর্টের আবেদন নিজে অনলাইনে করা সম্ভব হলেও তথ্য পূরণ, ফি পরিশোধ ও প্রয়োজনীয় নথি জমা দেওয়ার ক্ষেত্রে সতর্ক থাকা জরুরি। আবেদন করার আগে সরকারি ওয়েবসাইটের নির্দেশনা, সর্বশেষ ফি তালিকা এবং সংশ্লিষ্ট পাসপোর্ট অফিসের নিয়ম যাচাই করলে অপ্রয়োজনীয় খরচ ও ভোগান্তি এড়ানো সহজ হবে।

 

 

আয়শা/১৬ অক্টোবর ২০২৬,/রাত ৯:৩০

▎সর্বশেষ

ad