ডেস্ক নিউজ : জয়পুরহাটে হঠাৎ আশঙ্কাজনকহারে বেড়েছে ডায়রিয়ার প্রকোপ। জেলা শহরের ৪০০ শয্যাবিশিষ্ট জেনারেল হাসপাতালের ডায়রিয়া ওয়ার্ডে রোগীদের জন্য দুটি কেবিনসহ মাত্র ৪২টি বেড রয়েছে। অথচ এখন ডায়রিয়া আক্রান্ত রোগী রয়েছে ১৮৮ জন। ফলে নির্ধারিত শয্যার ধারণক্ষমতার প্রায় সাড়ে চারগুণ বেশি রোগী ভর্তি হওয়ায় শয্যা সংকটের কারণে বাধ্য হয়ে হাসপাতালের বারান্দা ও মেঝেতেই বিছানা বিছিয়ে চিকিৎসা নিতে হচ্ছে ডায়রিয়া আক্রান্ত নানা বয়সের নারী, শিশু ও বয়োবৃদ্ধ রোগীদের।
একসঙ্গে অনেক রোগীর এই বাড়তি চাপ সামাল দিতে চরম জনবল সংকটে থাকা এ হাসপাতালের চিকিৎসক ও স্বাস্থ্যকর্মীদের কাঙিক্ষত সেবা দিতে হিমশিম খেতে হচ্ছে । হাসপাতাল সূত্রে জানা গেছে, গত শুক্রবার ডায়রিয়ায় আক্রান্ত হয়ে এ হাসপাতালে ৪৯ জন ভর্তি হয়েছিল, যা শনি ও রোববার পেরিয়ে সোমবার এসে দাঁড়ায় ১৫০ জনে। আর গত ২৪ ঘন্টায় (মঙ্গলবার) নতুন করে আরও ৬৩ জন রোগী ভর্তি হওয়ায় বর্তমানে হাসপাতালটিতে ডায়রিয়ায় আক্রান্ত মোট ১৮৮ জন রোগীর চিকিৎসা চলছে। গত ৪ দিনে হাসপাতালটিতে ভর্তি হয়েছেন ২৭৪ জন ডায়রিয়া আক্রান্ত রোগী।
সরেজমিন হাসপাতালের ডায়রিয়া ওয়ার্ডে গিয়ে দেখা যায়, ডায়রিয়া আক্রান্ত রোগী ও তাদের স্বজনদের উপচেপড়া ভিড়। বেড খালি তো নেই-ই বরং বারান্দা ও মেঝেতেও শয্যা পেতে চিকিৎসা নিচ্ছেন নানা বয়সি রোগীরা। হঠাৎ ডায়রিয়ার প্রকট বেড়ে যাবার কারণ অনুসন্ধান করতে গিয়ে ডায়রিয়ার একাধিক রোগী ও তাদের সঙ্গে থাকা স্বজনদের কথা হয়।
ডায়রিয়া আক্রান্ত জয়পুরহাট পৌর শহরের আমতলী মহল্লার মারুফ হোসেনের স্ত্রী গৃহবধূ মোসলিমা (২৭) জানান , শনিবার শহরের পূর্ব বাজার এলাকার একটি রেস্টুরেন্টের সিঙ্গারা খাওয়ার পর থেকেই তার ঘন ঘন পাতলা পায়খানা শুরু হয়। অবস্থা বেগতিক দেখে হাসপাতালে এসে ভর্তি হয়েছেন।
জয়পুরহাট সদর উপজেলার চকবরকত ইউনিয়নের খাস পাওনন্দা গ্রামের শহিদুল ইসলামের মেয়ে মোসাম্মৎ ছুম্মা (২৪) এলাকার এক মিলাদ মাহফিলে গিয়ে পোলাও খেয়ে ডায়রিয়া আক্রান্ত হন। ঘনঘন পাতলা পায়খানা শুরু হওয়ার পর তাকে হাসপাতালে ভর্তি করা হয় । এছাড়া বিয়েবাড়ির পোলাও খেয়ে ডায়রিয়া আক্রান্ত হয়ে প্রায় ৭০ বার পাতলা পায়খানা হলে শনিবার রাতে হাসপাতালে ভর্তি হন পাঁচবিবি উপজেলার কেশবপুর গ্রামের নইমুদ্দিনের ছেলে আলম (৩১) ।
জানা গেছে, জয়পুরহাট সদরের কোমর গ্রাম এলাকার ফরহাদ হোসেন (৫১) ও তার ছেলে সোহাগ (২৬) ডায়রিয়া আক্রান্ত হয়ে হাসপাতালে ভর্তি হন। ইতোমধ্যে তার বাবা ফরহাদ হোসেন সুস্থ হয়ে হাসপাতাল থেকে বাড়ি ফিরে গেছেন।
একই উপজেলার পারুলিয়া গ্রামের আবু রায়হানের ছেলে নিঝুম (৩৩) ডায়রিয়া আক্রান্ত হয়ে প্রায় ৬০ বার পাতলা পায়খানা করার পরে শনিবার রাতে তাকে হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। ঠিক কী কারণে ডায়রিয়া হয়েছে তা ‘জানেন না’ বলে জানিয়েছেন তিনি। এমনিভাবে ডায়রিয়া আক্রান্তরা হাসপাতালে এসে ভর্তি হলেও অনেকে তাদের ডায়রিয়া আক্রান্ত হওয়ার কারণ সম্পর্কে নিজেরা কিছু বলতে পারেননি।
চিকিৎসকদের ধারণা, অতিরিক্ত গরমে দূষিত পানি ও বাসি-পচা খাবার খাওয়ার কারণেই আকস্মিকভাবে ডায়রিয়ার সংক্রমণ ছড়িয়ে পড়েছে। এ ব্যাপারে জয়পুরহাটের ৪০০ শয্যাবিশিষ্ট জেনারেল হাসপাতালের তত্ত্বাবধায়ক ডা. সরদার রাশেদ মোবারক জুয়েল জানান, বাইরের যত্রতত্র খোলা খাবার ও নোংরা দূষিত পানি খাবার কারণে এ রোগের সংক্রমণ হয়েছে। হাসপাতালে রোগীদের বাইরের খোলা খাবার বর্জন ও পানি ফুটিয়ে বিশুদ্ধ পানি পান করাসহ সতর্কতামূলক বিভিন্ন পরামর্শ দেওয়া হচ্ছে।
আয়শা/১৩ অক্টোবর ২০২৬,/রাত ৮:৫০
