‘আমাকে বলির পাঁঠা বানানো হয়েছে’

Ayesha Siddika | আপডেট: ০৩ অক্টোবর ২০২৬ - ১০:০৯:১১ পিএম

ডেস্ক নিউজ : জামায়াতে ইসলামীর আমির ডা. শফিকুর রহমানের এক্স (সাবেক টুইটার) অ্যাকাউন্ট হ্যাকের মামলায় গ্রেফতার হয়ে জামিন রয়েছেন বঙ্গভবনের সাবেক সহকারী প্রোগ্রামার মোহাম্মদ ছরওয়ারে আলম। তিনি দাবি করেছেন, হ্যাকিংয়ের সঙ্গে তার কোনো সম্পৃক্ততা নেই। তার অভিযোগ, তাকে এ মামলায় ‘বলির পাঁঠা’ বানানো হয়েছে।

ছরওয়ারে আলমের দাবি, পুলিশ তার মোবাইল ফোন, ল্যাপটপসহ বিভিন্ন ডিভাইস পরীক্ষা করেছে। কিন্তু এখন পর্যন্ত এসব ডিভাইস থেকে তার বিরুদ্ধে হ্যাকিংয়ের কোনো তথ্যপ্রমাণ পাওয়া যায়নি। তিনি বলেন, তদন্তের জন্য জামায়াত আমিরের ব্যবহৃত মোবাইল ফোনসহ ডিভাইস চাওয়া হলেও সেগুলো দেওয়া হচ্ছে না। আমাকে ‘বলির পাঁঠা’ বানানো হয়েছে।

এর আগে ২০২৬ সালের ফেব্রুয়ারিতে ছরওয়ারে আলমকে এ মামলায় গ্রেফতার দেখানো হয়। পরে ঢাকার আদালত তার জামিন মঞ্জুর করেন। আদালতে তিনি নিজের সম্পৃক্ততার কথা অস্বীকার করে তদন্তে সহযোগিতা করার আশ্বাস দিয়েছিলেন।

মামলাটির তদন্ত করছে ঢাকা মহানগর গোয়েন্দা পুলিশের সাইবার অ্যান্ড স্পেশাল ক্রাইম-দক্ষিণ ইউনিট। তদন্ত কর্মকর্তারা বলছেন, হ্যাক হওয়া অ্যাকাউন্টটি ব্যবহারে যে ডিভাইসগুলো ব্যবহার করা হয়েছিল, সেগুলোর ফরেনসিক পরীক্ষা তদন্তের জন্য গুরুত্বপূর্ণ। কিন্তু হ্যাক হওয়া অ্যাকাউন্টটি ব্যবহারের জন্য আমিরের ব্যবহৃত মোবাইল ফোনসহ সংশ্লিষ্ট ডিভাইস চেয়ে তদন্ত কর্মকর্তা একাধিকবার চিঠি দিলেও সেগুলো তদন্তের জন্য পাওয়া যায়নি। এমনকি আদালতের মাধ্যমেও ডিভাইস চাওয়া হয়েছে।

ডিবির সাইবার অ্যান্ড স্পেশাল ক্রাইম বিভাগের অতিরিক্ত উপকমিশনার হাজিফুল ইসলাম বাবু জানান, আদালতের অনুমতি নিয়েও বাদীপক্ষের কাছে ডিভাইস চাওয়া হয়েছে। পাশাপাশি এক্স কর্তৃপক্ষের কাছেও তথ্য চাওয়া হয়েছে। তবে এখন পর্যন্ত কোনো পক্ষ থেকেই প্রয়োজনীয় তথ্য পুরোপুরি পাওয়া যায়নি।

অন্যদিকে মামলার বাদী মো. সিরাজুল ইসলাম জানিয়েছেন, ডিভাইস হস্তান্তরের বিষয়ে ডিবির সঙ্গে তারা আলোচনা করেছেন। আইনি প্রক্রিয়া ও ডিভাইসের নিরাপত্তা নিশ্চিত করার বিষয়টি পরিষ্কার হলে সেগুলো তদন্তের জন্য দেওয়ার বিষয়ে তারা প্রস্তুত।

গত ৩১ জানুয়ারি ডা. শফিকুর রহমানের এক্স অ্যাকাউন্ট থেকে বিতর্কিত একটি পোস্ট প্রকাশের পর জামায়াতের পক্ষ থেকে দাবি করা হয়, অ্যাকাউন্টটি হ্যাক করা হয়েছিল। এ ঘটনায় প্রথমে সাধারণ ডায়েরি এবং পরে মামলা করা হয়। মামলায় ছরওয়ারে আলমসহ অজ্ঞাতনামা ১৫ থেকে ২০ জনকে আসামি করা হয়।

ছরওয়ারে আলম এর আগে আদালতে বলেছিলেন, তিনি স্বেচ্ছায় নিজের মোবাইল, ল্যাপটপ ও ডেস্কটপ তদন্তের জন্য দিয়েছেন এবং হ্যাকিংয়ের সঙ্গে তার সম্পৃক্ততা নেই বলে দাবি করেন। পরে আদালত তাকে জামিন দেন।

 

 

আয়শা/০৩ অক্টোবর ২০২৬,/রাত ১০:০৮

▎সর্বশেষ

ad