ডেস্ক নিউজ : পবিত্র কুরআনুল কারিম হলো মানবজাতির জন্য পরম হেদায়েত, আত্মিক আরোগ্য ও সুরক্ষার এক অবিনশ্বর ভান্ডার। এই মহাগ্রন্থের ১১৪টি সুরার হাজারো আয়াতের মধ্যে সবচেয়ে মহিমান্বিত, ফজিলতপূর্ণ ও শ্রেষ্ঠ আয়াত হলো ‘আয়াতুল কুরসি’। সুরা আল-বাকারার ২৫৫ নম্বর আয়াতটিতে মহান আল্লাহ তাআলার একত্ববাদ, অসীম ক্ষমতা, মহিমা ও সার্বভৌমত্বের পরম সত্য ফুটে উঠেছে।
আয়াতুল কুরসি কেন পড়বেন?
আয়াতুল কুরসি প্রতিনিয়ত তিলাওয়াতের মাধ্যমে মুমিন বান্দা ইহকালে আল্লাহর বিশেষ নিরাপত্তা লাভ করে এবং পরকালে জান্নাতের স্থায়ী সুসংবাদ অর্জন করে। আয়াতুল কুরসি কেন পড়বেন তার হাদিস শরিফে বর্ণিত বিষয়গুলো নিচে তুলে ধরা হলো—
- জান্নাতের সুসংবাদ: বিশ্বনবী (সা.) ইরশাদ করেছেন, ‘যে ব্যক্তি প্রতি ফরজ নামাজের পর আয়াতুল কুরসি পাঠ করবে, তার জান্নাতে প্রবেশের পথে মৃত্যু ছাড়া আর কোনো বাধা থাকবে না।’ (নাসাঈ)
- শয়তান থেকে সুরক্ষা: রাসুলুল্লাহ (সা.) বলেছেন, ‘যে ব্যক্তি রাতে ঘুমানো বা শোয়ার সময় আয়াতুল কুরসি পড়বে, শয়তান সারা রাত তার কাছে আসতে পারবে না।’ (বুখারি)
- দিন ও রাতের নিরাপত্তা: অন্য হাদিসে এসেছে, ‘যে ব্যক্তি সন্ধ্যায় এটি পাঠ করবে, সে সকাল পর্যন্ত শয়তান থেকে নিরাপদে থাকবে। আর যে সকালে পাঠ করবে, সে সন্ধ্যা পর্যন্ত শয়তান থেকে নিরাপদে থাকবে।’ (ইবনে হিব্বান)
আজকের অস্থির ও বিপদসংকুল পৃথিবীতে আত্মিক প্রশান্তি আর নিরাপত্তা লাভের সবচেয়ে শক্তিশালী হাতিয়ার হলো মহান আল্লাহর জিকির। নির্দিষ্ট কিছু সময়ে এই আয়াতের আমল করার কথা বলা হয়েছে—
১. প্রতি ফরজ নামাজের পর: পাঁচ ওয়াক্ত ফরজ নামাজ শেষে নিয়মিত এই আমল করলে জান্নাতের পথ সুগম হয়।
২. রাতে ঘুমানোর সময়: বিছানায় যাওয়ার পূর্বে শয়নকালে এটি পাঠ করলে সারারাত আল্লাহর পক্ষ থেকে বিশেষ পাহারা ও নিরাপত্তা পাওয়া যায়।
৩. সকাল ও সন্ধ্যায়: দিন ও রাতের শুরুতে সুরক্ষার নিয়তে এটি পাঠ করা সুন্নাহসম্মত।
আয়াতুল কুরসির আরবি, উচ্চারণ ও অর্থ
اللَّهُ لَا إِلَهَ إِلَّا هُوَ الْحَيُّ الْقَيُّومُ لَا تَأْخُذُهُ سِنَةٌ وَلَا نَوْمٌ لَهُ مَا فِي السَّمَاوَاتِ وَمَا فِي الْأَرْضِ مَنْ ذَا الَّذِي يَشْفَعُ عِنْدَهُ إِلَّا بِإِذْنِهِ يَعْلَمُ مَا بَيْنَ أَيْدِيهِمْ وَمَا خَلْفَهُمْ وَلَا يُحِيطُونَ بِشَيْءٍ مِنْ عِلْمِهِ إِلَّا بِمَا شَاءَ وَسِعَ كُرْسِيُّهُ السَّمَاوَاتِ وَالْأَرْضَ وَلَا يَئُودُهُ حِفْظُهمَا وَهُوَ الْعَلِيُّ الْعَظِيمُ
উচ্চারণ: ‘আল্লাহু লা ইলাহা ইল্লা হুওয়াল হাইয়্যুল কাইয়ুম, লা তা’খুজুহু সিনাতুও ওয়া লা নাউম, লহু মা ফিস সামাওয়াতি ওয়া মা ফিল আরদ্ব, মাং জাল্লাজি ইয়াশফা’উ ইংদাহু ইল্লা বিইজনিহ, ইয়া’লামু মা বাইনা আইদিহিম ওয়া মা খালফাহুম, ওয়া লা ইউহিতুনা বিশাইয়িম মিন ইলমিহি ইল্লা বিমা শাআ, ওয়াসিআ কুরসিইয়ুহুস সামাওয়াতি ওয়াল আরদ্ব, ওয়া লা ইয়াউদুহু হিফজুহুমা, ওয়া হুওয়াল আলিয়ুল আজিম।’
অর্থ: ‘আল্লাহ— তিনি ব্যতিরেকে আর কোনো উপাস্য নেই, তিনি চিরঞ্জীব, সবকিছুর ধারক। তাকে তন্দ্রা কিংবা নিদ্রা স্পর্শ করতে পারে না। আসমান ও জমিনে যা কিছু আছে, সবকিছুর মালিক তিনিই। তার অনুমতি ছাড়া তার কাছে সুপারিশ করার কেউ নেই। তাদের সামনে ও পেছনে যা কিছু আছে, তা তিনি জানেন। অথচ তিনি যতটুকু ইচ্ছা করেন তা ছাড়া তার জ্ঞানের কিছুই তারা আয়ত্ত করতে পারে না। তার কুরসি আসমান ও জমিন পরিব্যাপ্ত করে আছে। আর সেগুলোর রক্ষণাবেক্ষণ তার জন্য মোটেও ক্লান্তিকর নয়। তিনি সুমহান, সর্বোচ্চ।’ (সুরা আল-বাকারা: আয়াত ২৫৫)
দিন-রাতের নির্দিষ্ট মুহূর্তগুলোতে নিয়মিত এই আয়াতের আমল গড়ে তুললে একদিকে যেমন আমাদের দৈনন্দিন জীবন বিপদ-আপদমুক্ত ও প্রশান্তিময় হয়ে উঠবে, অন্যদিকে পরকালের চিরন্তন জান্নাতের পথও সুগম হবে। আসুন, নিয়মিত আয়াতুল কুরসি তিলাওয়াতের মাধ্যমে নিজেদের দুনিয়ার জীবনকে করি সুরক্ষিত আর পরকালের সীমাহীন জীবনকে করি জান্নাতের উপযুক্ত।
আয়শা/৩০ সেপ্টেম্বর ২০২৬,/রাত ১১:১৪
