আন্তর্জাতিক ডেস্ক : মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের সঙ্গে নিজের ‘অপ্রত্যাশিত’ সম্পর্ক নিয়ে এবার মুখ খুলেছেন নিউইয়র্ক সিটির মেয়র জোহরান মামদানি। সম্প্রতি জনপ্রিয় টেলিভিশন অনুষ্ঠান ‘জিমি কিমেল লাইভ!’-এ অতিথি হিসেবে এসে তিনি এ বিষয়ে কথা বলেন। গত সপ্তাহে মেয়রের সরকারি বাসভবন ‘গ্রেসি ম্যানশন’-এ ট্রাম্পের সঙ্গে একটি বিশেষ বৈঠক হয় মামদানির।
গত ৪৪ বছরের মধ্যে এই প্রথম কোনো মার্কিন প্রেসিডেন্ট নিউইয়র্ক মেয়রের বাড়িতে গেলেন। বৈঠকের পর ট্রাম্প মামদানির প্রশংসা করে বলেন, তিনি খুব ভালো কাজ শুরু করেছেন এবং একজন সফল মেয়র হবেন।তবে এই বৈঠক সবাইকে অবাক করেছে। কারণ মামদানি একজন ডেমোক্রেটিক সোশ্যালিস্ট (সমাজতান্ত্রিক দলনেতা)। অন্যদিকে, ট্রাম্প তার রাজনৈতিক সভায় সব সময়ই সমাজতন্ত্রের তীব্র সমালোচনা করেন।
টেলিভিশন শো-তে সঞ্চালক জিমি কিমেল রসিকতা করে জানতে চান, ‘আপনাদের কি শুরুতেই ভালো জমে গিয়েছিল? নাকি প্রেসিডেন্টকে পটিয়ে নিজের দিকে টানার জন্য আপনি কোনো কৌশল ব্যবহার করেছেন?’ উত্তরে মেয়র মামদানি বলেন, ‘না ভাই, একদমই তা নয়। প্রেসিডেন্টের সঙ্গে আমার অনেক বিষয়ে বড় বড় মতবিরোধ রয়েছে।’ মামদানি জানান, তাদের আলোচনার মূল বিষয় ছিল নিউইয়র্ক শহরের উন্নয়ন। তারা দুজনই নিউইয়র্ক শহরকে ভালোবাসেন এবং আলোচনাটি কেবল শহরের মানুষের স্বার্থেই সীমাবদ্ধ ছিল।
কিমেল জানতে চান তারা কি একে অপরকে টেক্সট বা মেসেজ করেন? জবাবে মামদানি বলেন, ‘হ্যাঁ, মাঝে মধ্যে কথা বা বার্তা লেনদেন হয়। তবে সেটা সানিসাইড ইয়ার্ড আবাসন প্রকল্প এবং শহরের মানুষের কাছে কাজের সুযোগ পৌঁছে দেওয়ার বিষয় নিয়ে।’ কথোপকথনের এক পর্যায়ে কিমেল বলেন, ‘তাহলে ট্রাম্পকে এখনই আমাদের একটা সেলফি তুলে পাঠিয়ে দিন!’
মেয়র সঙ্গে সঙ্গে সেই প্রস্তাব নাকচ করে দিয়ে বলেন, ‘জিমি, আমি তোমাকে ভালোবাসি ঠিকই, কিন্তু আমি নিউইয়র্কের মানুষের আবাসন বা থাকার ব্যবস্থাকে আরও বেশি ভালোবাসি।’
এর মাধ্যমে মেয়র মামদানি স্পষ্ট করে দিলেন যে, প্রেসিডেন্টের সঙ্গে ট্রাম্প-কিমেলের পুরোনো শত্রুতা নিয়ে টিভি শো-তে মজা করার চেয়ে নিউইয়র্কবাসীর জন্য কাজ আদায় করে নেওয়াটাই তার কাছে সবচেয়ে বেশি গুরুত্বপূর্ণ।
আয়শা/৩০ সেপ্টেম্বর ২০২৬,/বিকাল ৩:৫৮
