‘শান্তিচুক্তির পরও বন্ধ হয়নি সন্ত্রাস-চাঁদাবাজি’ পাহাড়ে নতুন করে পিসিএনপির ৮ দাবি

Ayesha Siddika | আপডেট: ২৯ সেপ্টেম্বর ২০২৬ - ০৭:৩২:৫২ পিএম

আলমগীর মানিক, রাঙামাটি : পার্বত্য চট্টগ্রাম বিষয়ে সম্প্রতি গঠিত তিনটি উচ্চপর্যায়ের জাতীয় কমিটিকে সাধুবাদ জানিয়েছে পার্বত্য চট্টগ্রাম নাগরিক পরিষদ (পিসিএনপি)। একই সঙ্গে পাহাড় থেকে সন্ত্রাস নির্মূল, পার্বত্য চুক্তি পুনর্মূল্যায়ন এবং পাহাড়ে সংঘটিত হত্যাকাণ্ডের বিচারসহ বেশ কয়েকটি দাবি জানিয়েছে সংগঠনটি।

মঙ্গলবার (২৯ সেপ্টেম্বর) দুপুরে রাঙামাটি শহরের কাঁঠালতলীর মৃধা ভবনে পিসিএনপির কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে এসব দাবি জানানো হয়। সংবাদ সম্মেলনে পিসিসিপি কেন্দ্রীয় কমিটির সাধারণ সম্পাদক ও জেলা পরিষদের সাবেক সদস্য হাবীব আজমের সঞ্চালনায় লিখিত বক্তব্য পাঠ করেন পিসিএনপি কেন্দ্রীয় কমিটির চেয়ারম্যান কাজী মজিবর রহমান।

এ সময় পিসিএনপি রাঙামাটি জেলা সভাপতি আবু বক্কর সিদ্দিক, সাধারণ সম্পাদক মো. ইব্রাহিম, সহসাধারণ সম্পাদক মাওলানা ইব্রাহিম, মহিলা পরিষদের কেন্দ্রীয় সাধারণ সম্পাদক মোরশেদা আক্তার, যুব পরিষদের কেন্দ্রীয় সভাপতি নুর হোসেন, পিসিসিপি রাঙামাটি জেলা সভাপতি তাজুল ইসলাম তাজ, সাধারণ সম্পাদক আলমগীর হোসেনসহ পিসিএনপি, পিসিসিপি, পিসিজেপি ও পিসিএমপির বিভিন্ন পর্যায়ের নেতৃবৃন্দ উপস্থিত ছিলেন।

লিখিত বক্তব্যে পিসিএনপি নেতারা বলেন, পার্বত্য চট্টগ্রামের সার্বিক পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ, নীতি নির্ধারণ ও জাতীয় স্বার্থ রক্ষায় সরকার যে তিনটি উচ্চপর্যায়ের কমিটি গঠন করেছে, তা পাহাড়ে স্থায়ী শান্তি প্রতিষ্ঠা এবং পাহাড়ি-বাঙালির সম্প্রীতি সুদৃঢ় করতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে। এ উদ্যোগকে তারা স্বাগত জানান।তবে নেতারা অভিযোগ করেন, পার্বত্য চুক্তি স্বাক্ষরের দীর্ঘ সময় পরও পাহাড়ে অস্ত্রের ঝনঝনানি, চাঁদাবাজি ও সশস্ত্র তৎপরতা বন্ধ হয়নি। এ পরিস্থিতিতে পাহাড়ে স্থায়ী শান্তি প্রতিষ্ঠায় কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়ার দাবি জানান তারা।

সংবাদ সম্মেলনে জনসংহতি সমিতির (জেএসএস) সাম্প্রতিক বিভিন্ন বক্তব্যেরও সমালোচনা করা হয়। পিসিএনপি নেতারা অভিযোগ করেন, জেএসএস অস্ত্র ও সশস্ত্র তৎপরতা পুরোপুরি পরিত্যাগ না করেই শান্তিচুক্তির দোহাই দিয়ে বিভিন্ন বিবৃতি দিচ্ছে। তাদের দাবি, পাহাড়ে চাঁদাবাজি ও সশস্ত্র তৎপরতা বন্ধে কার্যকর ব্যবস্থা নিতে হবে।

সম্প্রতি শিশির চাকমার দেওয়া সংবাদ সম্মেলনেরও প্রতিবাদ জানায় পিসিএনপি। সংগঠনটির নেতারা বলেন, শিশির চাকমা পার্বত্য চট্টগ্রামের সর্বসাধারণের প্রতিনিধি নন। তার বক্তব্যকে তারা জেএসএসের রাজনৈতিক অবস্থানের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট বলে দাবি করেন এবং ওই সংবাদ সম্মেলনের নিন্দা জানান।

এ সময় পার্বত্য চট্টগ্রাম বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রী ব্যারিস্টার মীর মোহাম্মদ হেলাল উদ্দীনকে স্বপদে বহাল রাখার দাবিও জানানো হয়। পিসিএনপি নেতাদের দাবি, পাহাড়ে শান্তি, সম্প্রীতি ও উন্নয়নে তাঁর ভূমিকা অব্যাহত রাখা প্রয়োজন।

সংবাদ সম্মেলনে পার্বত্য চুক্তি পুনর্মূল্যায়নের দাবিও জোরালোভাবে তুলে ধরা হয়। পিসিএনপির পক্ষ থেকে অভিযোগ করা হয়, চুক্তির বিভিন্ন বিষয় বাস্তবায়নের পরও পাহাড়ে সশস্ত্র তৎপরতা ও সহিংসতা পুরোপুরি বন্ধ হয়নি। এ কারণে চুক্তির বর্তমান বাস্তবতা ও প্রভাব পর্যালোচনা করে পুনর্মূল্যায়নের দাবি জানানো হয়। একই সঙ্গে জেএসএস, ইউপিডিএফ ও কেএনএফকে রাষ্ট্রীয়ভাবে নিষিদ্ধ ঘোষণার আহ্বান জানানো হয়।

এ ছাড়া পাহাড়ে সংঘটিত সব হত্যাকাণ্ডের বিচার নিশ্চিত করতে ‘লিগ্যাল টাস্কফোর্স’ গঠন, জেলা পরিষদের ন্যস্ত শিক্ষা ও স্বাস্থ্য বিভাগগুলো পুনরায় সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয়ের অধীনে নেওয়া, ১ শতাংশ উপজাতীয় কোটার পরিবর্তে পিছিয়ে পড়া সব জনগোষ্ঠীর জন্য ‘অনগ্রসর কোটা’ চালু এবং পার্বত্য জেলা পরিষদ ও আঞ্চলিক পরিষদে জনসংখ্যার অনুপাতে সব জাতিগোষ্ঠীর প্রতিনিধিত্ব নিশ্চিত করার দাবি জানানো হয়।

বিদেশি এনজিওগুলোর কার্যক্রমে স্বচ্ছতা আনতে নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেটের মাধ্যমে তদারকির ব্যবস্থার দাবিও জানায় সংগঠনটি। সংবাদ সম্মেলনের শেষভাগে পিসিএনপির নেতারা বলেন, পার্বত্য চট্টগ্রামে স্থায়ী শান্তি ও জাতীয় সার্বভৌমত্ব সুরক্ষায় গঠিত তিনটি জাতীয় কমিটির যেকোনো গঠনমূলক উদ্যোগে নাগরিক পরিষদ সহযোগিতা করবে। দীর্ঘদিন দাবি জানানোর পরও যদি সরকার পার্বত্য এলাকা নিয়ে স্থানীয়দের সমঅধিবার নিশ্চিতে কোনো পদক্ষেপ না নেয় তাহলে অতিশীঘ্রই পাহাড়ের সকল জেলা-উপজেলা; ইউনিয়নে একদফার দূর্বার আন্দোলনের ডাক দিয়ে পুরো পার্বত্যাঞ্চল অচল করে দেওয়ার হুমকিও দিয়েছেন পিসিএনপির কেন্দ্রীয় চেয়ারম্যান কাজী মুজিবুর রহমান।

 

আয়শা/২৯ সেপ্টেম্বর ২০২৬,/সন্ধ্যা ৭:৩০

▎সর্বশেষ

ad