চীনকে দীর্ঘস্থায়ী রাষ্ট্রীয় মদদপুষ্ট সাইবার হুমকি হিসেবে চিহ্নিত করল নিউজিল্যান্ড

Anima Rakhi | আপডেট: ২৪ সেপ্টেম্বর ২০২৬ - ০৪:০৫:১৮ পিএম

আন্তর্জাতিক ডেস্ক :নিউজিল্যান্ডের জাতীয় সাইবার নিরাপত্তা কেন্দ্র (এনসিএসসি)-এর বার্ষিক প্রতিবেদনে জানানো হয়েছে, দেশটির জন্য চীনই বর্তমানে সবচেয়ে শক্তিশালী এবং দীর্ঘস্থায়ী রাষ্ট্রীয় মদদপুষ্ট সাইবার হুমকি। নিউজিল্যান্ডের গোয়েন্দা সংস্থার অংশ এনসিএসসি তাদের সাম্প্রতিক প্রতিবেদনে সতর্ক করে বলেছে, বিদেশি রাষ্ট্রীয় পৃষ্ঠপোষকতায় পরিচালিত সাইবার হ্যাকিংয়ের কারণে দেশটির সরকার, স্বাস্থ্য, শিক্ষা এবং তথ্যপ্রযুক্তির মতো গুরুত্বপূর্ণ খাতের সংবেদনশীল তথ্য মারাত্মক ঝুঁকিতে রয়েছে।

প্রতিবেদনে চীন ছাড়াও রাশিয়া, ইরান এবং উত্তর কোরিয়ার মতো দেশগুলোর দিকেও সন্দেহজনক সাইবার কর্মকাণ্ডের আঙুল তোলা হলেও স্পষ্ট করে বলা হয়েছে যে এই চার রাষ্ট্রের মধ্যে চীনের পিপলস রিপাবলিক অফ চায়না নিউজিল্যান্ডে সাইবার অপরাধের সবচেয়ে সক্রিয় এবং সক্ষম পক্ষ হিসেবে কাজ করছে। নিউজিল্যান্ডের সিকিউরিটি ইন্টেলিজেন্স সার্ভিস গত আগস্ট মাসে এক প্রতিবেদনে জানিয়েছিল, দেশটির অভ্যন্তরে চীন একমাত্র রাষ্ট্র হিসেবে বৃহৎ পরিসরে গোয়েন্দা নজরদারি ও তথ্য চুরির মতো কার্যক্রম পরিচালনা করে আসছে।

নিউজিল্যান্ডের এই অভিযোগের তাৎক্ষণিক জবাব দিয়েছে বেইজিং। এক নিয়মিত সংবাদ ব্রিফিংয়ে চীনের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের এক মুখপাত্র রয়টার্সকে জানিয়েছেন, নিউজিল্যান্ডের সংশ্লিষ্ট সংস্থাকে মিথ্যা তথ্য ছড়ানো এবং পারস্পরিক দ্বন্দ্ব তৈরি করা বন্ধ রাখা উচিত। সেই সাথে চীন ও নিউজিল্যান্ডের মধ্যে পারস্পরিক বোঝাপড়া এবং আস্থা বৃদ্ধির জন্য কাজ করার আহ্বান জানানো হয়েছে। মুখপাত্র আরও পুনর্ব্যক্ত করেন যে, চীন সব সময়ই আইন অনুযায়ী যেকোনো ধরনের সাইবার হামলার বিরোধিতা করে এবং এর বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নিয়ে থাকে।

এনসিএসসির বার্ষিক প্রতিবেদনে দেখা গেছে, চলতি বছরের জুন মাস পর্যন্ত এক বছরে নিউজিল্যান্ডের জাতীয় সুরক্ষার জন্য সম্ভাব্য ঝুঁকিপূর্ণ হিসেবে বিবেচিত ৩৬৯টি সাইবার ঘটনার মধ্যে ৮৬টির পেছনে কোনো না কোনো বিদেশি রাষ্ট্রীয় মদদের যোগসূত্র রয়েছে। মূলত সরকারি সংস্থা, স্বাস্থ্যসেবা কেন্দ্র, শিক্ষা প্রতিষ্ঠান এবং আইটি পরিষেবা প্রদানকারী প্রতিষ্ঠানগুলোই ছিল এসব হামলার প্রধান নিশানা।

প্রতিবেদনে বিশেষভাবে সতর্ক করা হয়েছে দক্ষিণ প্রশান্ত মহাসাগরীয় অঞ্চলের ভূ-রাজনৈতিক প্রতিযোগিতার বিষয়ে। নিউজিল্যান্ড সংস্থাটি স্পষ্ট করেছে, প্রশান্ত মহাসাগরীয় অঞ্চলে এই মুহূর্তে তীব্র প্রতিযোগিতা চলছে এবং রাষ্ট্রীয় মদদপুষ্ট সাইবার নজরদারি সেখানকার স্থানীয় সরকার ও অবকাঠামোকে ক্রমাগত লক্ষ্যবস্তু বানাচ্ছে। প্রশান্ত মহাসাগরীয় দেশগুলোর সাথে নিউজিল্যান্ডের ঘনিষ্ঠ পারিবারিক, সাংস্কৃতিক, রাজনৈতিক ও অর্থনৈতিক সুসম্পর্ক রয়েছে। ফলে এ ধরনের সাইবার হামলা ওই অঞ্চলের নাগরিক, ব্যবসা-বাণিজ্য ও সামাজিক প্রতিষ্ঠানগুলোর ওপর সরাসরি বিরূপ প্রভাব ফেলতে পারে।

সূত্র: রয়টার্স

কিউটিভি/অনিমা/২৪ সেপ্টেম্বর ২০২৬,/বিকাল ৪:০৪

▎সর্বশেষ

ad