লাইফ স্টাইল ডেস্ক : সুস্থ থাকতে অ্যান্টি অক্সিড্যান্টসমৃদ্ধ খাবার ও পানীয় খাদ্যতালিকায় রাখা গুরুত্বপূর্ণ। অ্যান্টি অক্সিড্যান্টের কথা উঠলেই অনেকের মনে প্রথমেই আসে গ্রিন টির কথা। তবে শুধু গ্রিন টি নয়, রান্নাঘরে থাকা পরিচিত কিছু উপকরণ দিয়েও তৈরি করা যায় অ্যান্টি অক্সিড্যান্টসমৃদ্ধ পানীয়।
সজনেপাতার চা
সজনেপাতা শুধু তরকারি বা ভর্তায় ব্যবহৃত হয় না, এটি দিয়ে তৈরি করা যায় চা-ও। সজনেপাতায় ভিটামিন সি, আয়রন, ক্যালসিয়ামসহ বিভিন্ন অ্যান্টি অক্সিড্যান্ট যৌগ রয়েছে।
পরিষ্কার সজনেপাতা পানিতে ফুটিয়ে সহজেই এ চা তৈরি করা যায়। তবে কোনো রোগ সারানো বা ওষুধের বিকল্প হিসেবে সজনেপাতার চাকে বিবেচনা করা উচিত নয়।
জবাফুলের চা
উজ্জ্বল রঙের জবাফুল দিয়ে তৈরি চা শুধু দেখতে আকর্ষণীয় নয়, এতে রয়েছে অ্যান্থোসায়ানিনসহ বিভিন্ন উদ্ভিজ্জ যৌগ। এসব যৌগ অ্যান্টি অক্সিড্যান্ট হিসেবে কাজ করে।
জবাফুলের চা তৈরির সময় অতিরিক্ত চিনি না দেওয়াই ভালো। যারা নিয়মিত রক্তচাপ বা অন্য কোনো শারীরিক সমস্যার ওষুধ খান, তারা নিয়মিত এ পানীয় খাওয়ার আগে চিকিৎসকের পরামর্শ নিতে পারেন।
বিটের গাঢ় লাল রঙের জন্য দায়ী বিটালেইন নামের যৌগ, যা অ্যান্টি অক্সিড্যান্ট বৈশিষ্ট্যের জন্য পরিচিত। বিটে থাকা প্রাকৃতিক নাইট্রেট শরীরে নাইট্রিক অক্সাইড তৈরিতে ভূমিকা রাখে।
এ কারণে শরীরচর্চা বা শারীরিক পরিশ্রমের সঙ্গে বিটের পানীয় নিয়ে আগ্রহ রয়েছে। তবে বিটের রস তৈরির সময় পুরোপুরি ছেঁকে শুধু তরল অংশ পান না করে পাল্পসহ খেলে ফাইবারও পাওয়া যায়।
আদা-লেবু পানি
সহজে তৈরি করা যায় বলে আদা-লেবু পানি অনেকের পছন্দের পানীয়। লেবুতে ভিটামিন সি এবং আদায় জিঞ্জেরলসহ বিভিন্ন উদ্ভিজ্জ যৌগ রয়েছে।
উষ্ণ পানিতে সামান্য আদা ও লেবুর রস মিশিয়ে তৈরি করা যায় এ পানীয়। এতে বাড়তি চিনি না দিলে অপ্রয়োজনীয় ক্যালোরি গ্রহণের ঝুঁকিও কমে।
আমলকির শরবত
ভিটামিন সি এর পাশাপাশি আমলকিতে রয়েছে বিভিন্ন উদ্ভিজ্জ অ্যান্টি অক্সিড্যান্ট যৌগ। তাই আমলকি দিয়ে তৈরি পানীয়ও খাদ্যতালিকায় ভিন্নতা আনতে পারে।
তবে আমলকির শরবত তৈরির সময় বেশি চিনি ব্যবহার করা ঠিক নয়। বাজারজাত আমলকির পানীয় কিনলে লেবেলে থাকা চিনির পরিমাণ দেখে নেওয়া ভালো।
শুধু পানীয় নয়, প্রয়োজন সুষম খাদ্যাভ্যাস
অ্যান্টি অক্সিড্যান্টপাওযার জন্য কোনো একটি নির্দিষ্ট পানীয়ের ওপর নির্ভর করার প্রয়োজন নেই। বরং নানা ধরনের শাকসবজে, ফল, ডাল, বাদাম ও অন্যান্য পুষ্টিকর খাবারে নিয়মিত খাদ্যতালিকায় রাখা শরীরের জন্য বেশ উপকারী।
পাশাপাশি পর্যাপ্ত পানি পান করাও জরুরি। ফল বা সবজির রস খাওয়ার ক্ষেত্রে পরিমাণের দিকেও নজর রাখা প্রয়োজন। বিশেষ করে বাড়তি চিনি মেশালে অপ্রয়োজনীয় ক্যালোরি বেড়ে যেতে পারে। তাই ঘরে তৈরি স্বাস্থ্যকর পানীয় বেছে নেওয়ার পাশাপাশি অতিরিক্ত চিনি এড়িযে চলুন। আর সম্ভব হলে শুধু রস না খেয়ে ফল বা সবজিটি সম্পূর্ণ খাওয়ার অভ্যাস করুন।
আয়শা/২৩ সেপ্টেম্বর ২০২৬,/সন্ধ্যা ৭:৪৪
