রাশিয়ার সঙ্গে জ্বালানি যুদ্ধবিরতিতে প্রস্তুত ইউক্রেন: জেলেনস্কি

Ayesha Siddika | আপডেট: ২৩ সেপ্টেম্বর ২০২৬ - ০৬:১৩:৪৬ পিএম

আন্তর্জাতিক ডেস্ক : রাশিয়ার সঙ্গে দ্বিপক্ষীয়ভাবে ‘জ্বালানি যুদ্ধবিরতি’ করতে ইউক্রেন প্রস্তুত বলে জানিয়েছেন দেশটির প্রেসিডেন্ট ভলোদিমির জেলেনস্কি। নিউইয়র্কে যুক্তরাষ্ট্র ও যুক্তরাজ্যের নেতাদের সঙ্গে পৃথক বৈঠকের পর তিনি এ কথা বলেন। একই সঙ্গে রাশিয়া ইউক্রেনে ‘নতুন করে বড় ধরনের হামলার’ প্রস্তুতি নিচ্ছে বলেও সতর্ক করেছেন তিনি।

সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে দেওয়া পোস্টে জেলেনস্কি বৈঠককে ‘ইতিবাচক ও ফলপ্রসূ’ বলে উল্লেখ করেন। তিনি বলেন, যুক্তরাষ্ট্র ও ইউক্রেন উভয়েই চায় শীত আসার আগেই এই অর্থহীন রুশ যুদ্ধের অবসান হোক। আমরা সম্ভাব্য উত্তেজনা প্রশমনের পদক্ষেপ নিয়ে আলোচনা করেছি, যা কূটনীতির পথ খুলে দিতে পারে।

নিউইয়র্কে জাতিসংঘ সদর দপ্তরে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে জেলেনস্কি বলেন, আমরা জ্বালানি যুদ্ধবিরতির জন্য প্রস্তুত। তারা যদি আমাদের ডিজেল, শোধনাগারসহ অন্যান্য স্থাপনায় হামলা না চায়, তাহলে আমরাও প্রস্তুত। তবে তাদেরও আমাদের বিদ্যুৎ, গরমের ব্যবস্থা ও পানি সরবরাহের মতো জ্বালানি অবকাঠামোয় হামলা বন্ধ করতে হবে।

নতুন হামলার সতর্কতা

নভেম্বরে যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যবর্তী নির্বাচনের আগে জ্বালানির উচ্চমূল্যের কারণে ট্রাম্পের জনসমর্থন কমে যাওয়ার মধ্যে রাশিয়ার জ্বালানি প্রক্রিয়াজাতকরণ সক্ষমতার ওপর ইউক্রেনের ব্যাপক হামলা নিয়ে সাম্প্রতিক সময়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট। তার মতে, এসব হামলার প্রভাব বিশ্বজুড়ে ডিজেলের দামের ওপর পড়ছে।

বৈঠকের আগে ট্রাম্প সাংবাদিকদের বলেন, ইউক্রেনের রুশ তেল শোধনাগারে হামলা নিয়ে জেলেনস্কির সঙ্গে আলোচনা করবেন তিনি। ট্রাম্প বলেন, এটি রাশিয়ার ওপর বড় ধরনের আঘাত। একই সঙ্গে ডিজেলের দামের ওপরও বড় প্রভাব ফেলছে।

তিনি আরও বলেন, রাশিয়া-ইউক্রেন যুদ্ধ বন্ধের সমাধান নিয়েও আলোচনা হবে। ২০২২ সালে রাশিয়ার পূর্ণমাত্রার আগ্রাসনের মধ্য দিয়ে যুদ্ধ শুরু হয়।

গত সপ্তাহে ট্রাম্প জানিয়েছিলেন, দুই দেশ একে অপরের জ্বালানি স্থাপনায় হামলা বন্ধে সম্মত হয়েছে। তবে এর পরপরই আবার হামলা শুরু হয়। জেলেনস্কি জানান, রাশিয়া ইউক্রেনে ‘নতুন করে বড় ধরনের হামলার প্রস্তুতি নিচ্ছে বলে গোয়েন্দা তথ্য রয়েছে।

রাশিয়া ইউক্রেনের বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও বন্দর অবকাঠামোয় নিয়মিত হামলা চালিয়ে আসছে। এতে শীত মৌসুমে ইউক্রেনের জ্বালানি ব্যবস্থার আরও ক্ষতির আশঙ্কা তৈরি হয়েছে।

অন্যদিকে ইউক্রেনও রাশিয়ার তেলশিল্পের বিরুদ্ধে অভিযান জোরদার করেছে। দীর্ঘপাল্লার ড্রোন ব্যবহার করে ইউক্রেনীয় বাহিনী রাশিয়ার বিভিন্ন তেল শোধনাগার ও জ্বালানি স্থাপনায় হামলা চালিয়েছে।

শীতকালে রাশিয়া ইউক্রেনের বিদ্যুৎ ও তাপ সরবরাহব্যবস্থায় ফের বড় ধরনের হামলা চালাতে পারে এমন আশঙ্কার মধ্যে ট্রাম্পের সঙ্গে শীতকালীন বিমান প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা নিয়েও আলোচনা করেছেন জেলেনস্কি। তিনি অতিরিক্ত প্যাট্রিয়ট ক্ষেপণাস্ত্র চেয়েছেন, যা ইউক্রেনের হাতে থাকা রুশ ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র প্রতিহত করতে সক্ষম একমাত্র অস্ত্র হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছে।

জেলেনস্কি জানান, যুক্তরাষ্ট্রের মজুত থেকে এ শীতে প্যাট্রিয়ট পাওয়া গেলে জার্মানির সঙ্গে ইউক্রেনের চুক্তির আওতায় ভবিষ্যতে পাওয়া ক্ষেপণাস্ত্র থেকে তা সমন্বয় করা হবে। জার্মানি ২০২৭ ও ২০২৮ সালে ইউক্রেনকে ৬০০টি প্যাট্রিয়ট দেওয়ার বিষয়ে সম্মত হয়েছে।

তিনি বলেন, ট্রাম্প প্রস্তাবটি প্রত্যাখ্যান না করায় এটি ভালো পদক্ষেপ। তবে মার্কিন প্রেসিডেন্ট এখনো এতে সম্মতি দেননি বলেও জানান তিনি। পাশাপাশি ইউক্রেনে লাইসেন্সের আওতায় প্যাট্রিয়ট উৎপাদনের বিষয়ে আলোচনা চলমান রয়েছে।

এদিকে ব্রিটিশ প্রধানমন্ত্রী অ্যান্ডি বার্নহ্যাম জানান, ট্রাম্পের সঙ্গে বৈঠকে তিনি রাশিয়া-ইউক্রেনের মধ্যে জ্বালানি যুদ্ধবিরতিতে চাপ দিতে অনুরোধ করেছেন। একই সঙ্গে ইউক্রেনের অবকাঠামোর জন্য আরও আর্থিক সহায়তার প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন তিনি।

সূত্র: আলজাজিরা

 

 

আয়শা/২৩ সেপ্টেম্বর ২০২৬,/সন্ধ্যা ৬:১২

▎সর্বশেষ

ad