ওয়াই-ফাই স্পিড স্লো? রাউটার বদলানোর আগে জেনে নিন সহজ সমাধান!

Ayesha Siddika | আপডেট: ২৩ সেপ্টেম্বর ২০২৬ - ০৬:০৩:০২ পিএম

তথ্যপ্রযুক্তি ডেস্ক : বাসা কিংবা অফিসে ওয়াই-ফাই ব্যবহার করতে গিয়ে আমরা প্রায়ই একটা সমস্যায় পড়ি— রাউটারের কাছে থাকলে ইন্টারনেট যেন আগুনের মতো ছোটে, কিন্তু একটু দূরে গেলেই গতি নেমে আসে তলানিতে। আবার একসঙ্গে ঘরের সবাই মিলে ফোন, ল্যাপটপ বা টিভিতে কাজ শুরু করলেও ইন্টারনেট যেন হাঁপিয়ে ওঠে!

এমন হলে অনেকেই ধরে নেন, রাউটারটি বুঝি নষ্ট হয়ে গেছে এবং এখনই নতুন একটা কেনা দরকার। কিন্তু বাস্তবতা সবসময় তেমন নয়। রাউটারটি কোথায় রাখা হয়েছে, আপনার ও রাউটারের দূরত্ব কতটুকু, ঘরের দেয়াল কিংবা আশপাশের অন্যান্য বৈদ্যুতিক যন্ত্রের বাধা এবং একই সময়ে কতগুলো যন্ত্র যুক্ত আছে— এসবের ওপর ইন্টারনেটের গতি অনেকখানি নির্ভর করে। তাই নতুন রাউটার কেনার সিদ্ধান্ত নেওয়ার আগে কয়েকটি সহজ বিষয় একটু পরীক্ষা করে দেখতে পারেন—

১. রাউটার রাখুন ঘরের ঠিক মাঝখানে

ওয়াই-ফাইয়ের সিগন্যাল চারদিকে সমানভাবে ছড়াতে রাউটারটি ঘরের তুলনামূলক খোলা ও মাঝখানের জায়গায় রাখা উচিত। আলমারির ভেতরে বা কোণায় লুকিয়ে না রেখে এমন উচ্চতায় রাখুন, যেখান থেকে সিগন্যাল সহজে যাতায়াত করতে পারে। টেক জায়ান্ট গুগলের মতে, রাউটার ও আপনার ডিভাইসের মাঝে দেয়াল বা বাধা যত কম থাকবে, গতি তত ভালো মিলবে।

২. বেশি দূরে যাবেন না

রাউটার থেকে আপনার দূরত্ব যত বাড়বে, সিগন্যালও তত দুর্বল হতে থাকবে। এর সঙ্গে যদি যোগ হয় ঘরের ভারী দেয়াল বা আসবাবপত্র, তবে গতি আরও কমে যায়। তাই ঘরের কোনো নির্দিষ্ট জায়গায় ওয়াই-ফাই স্লো মনে হলে খেয়াল করুন— মাঝখানে কতগুলো দেয়াল বা বাধা রয়েছে।

৩. অতিরিক্ত ডিভাইস যুক্ত নেই তো?

একই ওয়াই-ফাই নেটওয়ার্কে যখন একসঙ্গে অনেকগুলো ডিভাইস চলে, তখন তারা মোট ব্যান্ডউইথ ভাগ করে নেয়। যেমন—একজন টিভিতে ৪কে ভিডিও দেখছেন, অন্যজন ল্যাপটপে বড় ফাইল ডাউনলোড করছেন আর আপনি ফোনে গেম খেলছেন। স্বভাবতই গতি ভাগ হয়ে কম মনে হবে। তাই যেসব ডিভাইসে এই মুহূর্তে ইন্টারনেট প্রয়োজন নেই, সেগুলোর ওয়াই-ফাই বন্ধ রেখে দেখতে পারেন।

৪. চেষ্টা করুন ৫ গিগাহার্টজ (5GHz) ব্যান্ড

আজকালকার প্রায় সব আধুনিক রাউটারে ২.৪ গিগাহার্টজ ও ৫ গিগাহার্টজ— এই দুটি ফ্রিকোয়েন্সি থাকে। গুগল জানিয়েছে, ২.৪ গিগাহার্টজের তুলনায় ৫ গিগাহার্টজে ডাটা ট্রান্সফারের গতি অনেক বেশি পাওয়া যায়। তবে এটি আপনার রাউটার ও ফোনের সক্ষমতার ওপর নির্ভর করবে, কারণ পুরোনো কিছু ডিভাইসে ৫ গিগাহার্টজ সাপোর্ট নাও করতে পারে।

৫. রাউটারের পাশে এসব যন্ত্র রাখবেন না!

বিশ্বখ্যাত প্রযুক্তি প্রতিষ্ঠান আসুস (ASUS)-এর মতে, আমাদের ঘরের কিছু বৈদ্যুতিক ও তারবিহীন যন্ত্র ওয়াই-ফাই সিগন্যালে মারাত্মক বিঘ্ন ঘটায়। বিশেষ করে মাইক্রোওয়েভ ওভেন, ব্লুটুথ স্পিকার বা হেডফোন, কর্ডলেস ফোন এবং ধাতব আসবাবের পাশে রাউটার রাখলে সিগন্যাল দুর্বল হয়ে পড়ে।

৬. একবার রিস্টার্ট দিয়ে দেখুন

সবকিছু ঠিক থাকার পরও ইন্টারনেট স্লো মনে হলে রাউটারটি একবার বন্ধ করে ১০-১৫ সেকেন্ড পর আবার চালু করুন। গুগলের পরামর্শ অনুযায়ী, রাউটার বা নেটওয়ার্ক রিস্টার্ট দেওয়াটা অনেক সময় ধীরগতির জটিলতা মুহূর্তেই সমাধান করে ফেলে।

৭. সফটওয়্যার বা ফার্মওয়্যার আপডেট রাখুন

আপনার ফোনের মতো রাউটারের ভেতরেও একটি সফটওয়্যার থাকে, যাকে ‘ফার্মওয়্যার’ বলা হয়। আসুস তাদের গ্রাহকদের সবসময় রাউটারের ফার্মওয়্যার সর্বশেষ সংস্করণে হালনাগাদ রাখার পরামর্শ দেয়। এতে পারফরম্যান্স ও সিকিউরিটি দুটিই ভালো থাকে।

৮. সমস্যা কি আসলেই রাউটারে, নাকি লাইনে?

সবশেষে মনে রাখা ভালো— সমস্যা সবসময় আপনার ঘরের রাউটারে নাও হতে পারে। আপনার ইন্টারনেট সেবাদাতা প্রতিষ্ঠানের (ISP) মেইন লাইনে সমস্যা থাকলেও গতি কমে যেতে পারে। তাই স্পিড টেস্ট করে যদি দেখেন আপনার প্যাকেজের তুলনায় গতি অনেক কম আসছে, তবে শুরুতেই রাউটার না বদলে সোজা আপনার ইন্টারনেট প্রোভাইডারের সঙ্গে যোগাযোগ করুন।

 

 

আয়শা/২৩ সেপ্টেম্বর ২০২৬,/সন্ধ্যা ৬:০২

▎সর্বশেষ

ad