তীব্র আকার ধারণ করছে হ্যারিকেন পোলো

Anima Rakhi | আপডেট: ২২ সেপ্টেম্বর ২০২৬ - ০৭:২৭:০০ পিএম

আন্তর্জাতিক ডেস্ক  : পূর্ব প্রশান্ত মহাসাগরে মেক্সিকো উপকূলের কাছে সৃষ্টি হওয়া ঘূর্ণিঝড় পোলো শক্তি সঞ্চয় করে চার নম্বর ক্যাটাগরি হ্যারিকেনে পরিণত হয়েছে। যুক্তরাষ্ট্রের মিয়ামিভিত্তিক জাতীয় হ্যারিকেন কেন্দ্র জানিয়েছে, শক্তিশালী এই ঝড়টির প্রভাবে মেক্সিকোর দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলীয় উপকূলে প্রবল বৃষ্টিপাত, বন্যা ও ভূমিধসের চরম ঝুঁকি তৈরি হলেও এটি মূল ভূখণ্ডে সরাসরি আঘাত না হেনে সমুদ্রপথেই অবস্থান করবে।

বর্তমানে হ্যারিকেন পোলোর কেন্দ্রে বাতাসের একটানা সর্বোচ্চ গতিবেগ ঘণ্টায় প্রায় ১৩০ মাইল (২১৫ কিলোমিটার) রেকর্ড করা হয়েছে। আবহাওয়া বিশেষজ্ঞদের ধারণা, মঙ্গলবার বা বুধবারের মধ্যে ঝড়টি আরও ঘনীভূত হয়ে সর্বোচ্চ ক্যাটাগরি ৫ হ্যারিকেনে রূপ নিতে পারে। স্যাফির-সিম্পসন স্কেল অনুযায়ী, চার নম্বর মাত্রার ঝড়ে বাতাসের গতিবেগ ঘণ্টায় ১৩০ থেকে ১৫৬ মাইল হলেও পাঁচ নম্বর মাত্রায় তা ১৫৭ মাইল ছাড়িয়ে যায়।

বর্তমানে ধীরগতিতে পূর্ব-দক্ষিণ-পূর্ব দিকে অগ্রসর হওয়া ঝড়টি দ্রুত গতিপথ পরিবর্তন করে উত্তর-পশ্চিম ও পশ্চিম-উত্তর-পশ্চিম দিকে মোড় নেওয়ার পূর্বাভাস রয়েছে। এই নতুন গতিপথ অনুযায়ী, পোলো মেক্সিকান উপকূল ঘেঁষে কয়েক দিন অবস্থান করলেও সরাসরি কোনো স্থলভাগে আছড়ে পড়বে না। সতর্কতামূলক ব্যবস্থা হিসেবে কলিমা রাজ্যের মানজানিলোর দক্ষিণাঞ্চলীয় উপকূল থেকে গেরেরো রাজ্যের টেকপ্যান ডি গালিয়ানা পর্যন্ত ট্রপিক্যাল ঝড়ের আগাম সতর্কতা জারি করা হয়েছে।

ঝড়টির কেন্দ্রস্থল বর্তমানে মানজানিলো থেকে প্রায় ৫৩০ কিলোমিটার দক্ষিণ-দক্ষিণ-পূর্ব দিকে অবস্থান করছে। পোলোর প্রভাবে উপকূলীয় এলাকাগুলোতে ভারী বর্ষণের প্রবল আশঙ্কা রয়েছে। বিশেষ করে বৃহস্পতিবার পর্যন্ত গেরেরো এবং মিচোয়াকান রাজ্যের উপকূলীয় অঞ্চলে ভারী বৃষ্টিপাতের কারণে মারাত্মক বন্যা এবং পাহাড়ি ভূমিধসের ঝুঁকি রয়েছে। এছাড়া ওয়াহাকা, কলিমা ও হালিসকো রাজ্যের কিছু কিছু অংশে হালকা থেকে মাঝারি ধরনের বৃষ্টিপাত হতে পারে।

এদিকে, প্রশান্ত মহাসাগরের আরও পশ্চিমে অবস্থানরত ক্রান্তীয় ঝড় ওদালিস বর্তমানে স্থলভাগ থেকে অনেক দূরে থাকলেও চলতি সপ্তাহের মাঝামাঝি সময়ে এটিও হ্যারিকেনে রূপ নিতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে। অন্যদিকে আটলান্টিক মহাসাগরের আবহাওয়া চিত্র অনেকটাই ভিন্ন। সেখানে থাকা ক্রান্তীয় ঝড় ‘ফে’ দুর্বল হয়ে পড়েছে এবং দ্রুত এটি একটি লঘুচাপে পরিণত হতে যাচ্ছে। চলতি বছরে এখন পর্যন্ত আটলান্টিক মহাসাগরে কোনো হ্যারিকেন তৈরি হয়নি, যা হ্যারিকেন মৌসুমের ইতিহাসে সবচেয়ে দীর্ঘ অপেক্ষার একটি নতুন রেকর্ড তৈরি করেছে। মূলত শক্তিশালী ‘এল নিনো’ আবহাওয়া পরিস্থিতির প্রভাবে আটলান্টিক মহাসাগরে ঝড়গুলো দানা বাঁধার আগেই তা ধ্বংস হয়ে যাচ্ছে।

সূত্র: এপি

কিউটিভি/অনিমা/২২ সেপ্টেম্বর ২০২৬,/সন্ধ্যা ৭:২৬

▎সর্বশেষ

ad