অপ্রতিমের মতো পরিণতি যেন আপনার-আমার সন্তানের না হয়: রাশেদ

Ayesha Siddika | আপডেট: ২০ সেপ্টেম্বর ২০২৬ - ০৭:০৫:৪৮ পিএম

ডেস্ক নিউজ : সন্তান কোথায় যাচ্ছে, কার সঙ্গে মিশছে এবং তার বন্ধুমহল কেমন, সে বিষয়ে বাবা-মাকে খোঁজখবর রাখার আহ্বান জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রীর রাজনৈতিক সহকারী রাশেদ খান। কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষিকার একমাত্র সন্তান অপ্রতিম হত্যাকাণ্ডের প্রসঙ্গ টেনে তিনি এ আহ্বান জানান।

রোববার (২০ সেপ্টেম্বর) সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে দেওয়া এক পোস্টে তিনি এসব কথা বলেন। রাশেদ খান বলেন, সন্তান কোথায় যাচ্ছে, কার সঙ্গে মিশছে, তার বন্ধু সার্কেল কেমন, সেটার খোঁজখবর রাখা আমাদের প্রত্যেক বাবা-মায়ের দায়িত্বও বটে। কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষিকার একমাত্র সন্তান অপ্রতিম হত্যাকাণ্ড সেটি আমাদের আরও স্মরণ করিয়ে দেয়। তিনি বলেন, অপ্রতিম হত্যাকাণ্ডে পুলিশ যে তিনজনকে গ্রেফতার করেছে, তারা এলাকায় কিশোর গ্যাং হিসেবে পরিচিত। সিসিটিভি ফুটেজে হত্যাকাণ্ডের শিকার অপ্রতিমকে ঘাতক তুহিনের সঙ্গে স্বাভাবিকভাবে হাঁটতে দেখা যায়।

রাশেদ খান আরও বলেন, আমি খোঁজ নিয়ে জানতে পেরেছি, অপ্রতিম একটু সিনিয়র ক্লাসের বন্ধুদের সঙ্গে মিশতে পছন্দ করত। সেই জায়গা থেকে তুহিনদের সঙ্গে যোগাযোগ তৈরি হয়। আমরাও ছোটবেলায় এলাকার বড় ভাইদের সঙ্গে ওঠাবসা করেছি। কিন্তু এলাকার খারাপ ছেলেদের থেকে সবসময় দূরে থাকার চেষ্টা করেছি। এক্ষেত্রে বাবা-মায়ের শাসন ও নৈতিক নির্দেশনাও বড় একটি ব্যাপার ছিল।

তিনি বলেন, দেশের সব এলাকাতেই তুহিনদের মতো কিশোর গ্যাংয়ের উৎপাত রয়েছে। তারা ফেসবুকে চটকদার ছবি ও সিনেমাটিক ভিডিও প্রকাশ করে অল্পবয়সী তরুণদের আকৃষ্ট করে নিজেদের দলে ভেড়ানোর চেষ্টা করে। রাশেদ খান বলেন, গণমাধ্যমের খবরে এসেছে, আইফোনের লোভ দেখিয়ে ছবি তোলার কথা বলে তারা শিশু অপ্রতিমকেও বিভ্রান্ত করে ঘর থেকে বের করে আনে। বাবা-মায়ের কর্মব্যস্ততার কারণে হয়তো শিশুটির সঙ্গে তাদের যোগাযোগ তৈরি হওয়ার বিষয়টি বুঝে ওঠা সম্ভব হয়নি।

তিনি বলেন, অপ্রতীমের নির্মম হত্যাকাণ্ডের ঘটনা কিশোর গ্যাং নির্মূলের বার্তা দেয়। আইনশৃঙ্খলা বাহিনীকে বলব, এ বিষয়ে কঠোর পদক্ষেপ গ্রহণ করুন। নতুবা আগামীকাল আপনার-আমার সন্তানের পরিণতিও অপ্রতীমের মতো হতে পারে। এরপর দেশের আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি ও আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর দায়িত্ব নিয়ে মন্তব্য করেন রাশেদ খান। তিনি বলেন, সব ঘটনায় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীকে দায়ী করতে পারেন, যেহেতু আইনশৃঙ্খলা রক্ষার দায়িত্ব তাকে দেওয়া হয়েছে।

কিন্তু আইনশৃঙ্খলা বাহিনী কি বর্তমান বিরোধী দলের দেশব্যাপী নিত্যনতুন কর্মসূচির নিরাপত্তা দিতে ব্যস্ত থাকবে, নাকি ফ্যাসিস্ট আওয়ামী লীগের অপতৎপরতা রোধে মনোযোগ দেবে, নাকি সামাজিক অপরাধ বন্ধে বেশি গুরুত্ব দেবে? কোথায় অগ্রাধিকার থাকা দরকার? কারণ জনসংখ্যার অনুপাতে বাংলাদেশে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্য সংখ্যা পর্যাপ্ত নয়। আর ১৬ বছরে বাহিনীগুলোকে দলীয়করণ করার অপচেষ্টার ইতিহাসও কারও অজানা নয়।

তিনি বলেন, এ কারণে যেখানে বিরোধী দলের দায়িত্ব ছিল ১৬ বছর ধরে তৈরি হওয়া জঞ্জাল, অপসংস্কৃতি, অপরাধ ও আওয়ামী সন্ত্রাসীদের দমনে সরকারকে সহযোগিতা করা, সেখানে উলটো অসহযোগিতার মাধ্যমে আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নাজুক করে ক্ষমতায় যেতে মরিয়া হয়ে উঠেছে। আওয়ামী লীগ-ছাত্রলীগ বাসে আগুন দিচ্ছে, ককটেল মারছে। আবার জামায়াত নেতৃত্বাধীন বিরোধী দল এক দফার হুমকি দিয়ে রাজপথ গরম করছে। রাশেদ খান বলেন,অর্থাৎ বিএনপি সরকারকে একসঙ্গে দুটি বিরোধী দলের অপতৎপরতা সামলিয়ে দেশ চালাতে হচ্ছে। এটা সরকার ও রাষ্ট্রের জন্য বড় একটি চ্যালেঞ্জ। এই চ্যালেঞ্জ মোকাবিলায় সম্মিলিতভাবে সরকারকে সহযোগিতার বিকল্প নেই।

 

 

আয়শা/২০ সেপ্টেম্বর ২০২৬,/সন্ধ্যা ৭:০৩

▎সর্বশেষ

ad