ওজন কমানোর প্রভাবে বদলে যেতে পারে ক্ষুধা, ঘুম ও মানসিক অবস্থা

Ayesha Siddika | আপডেট: ০৪ সেপ্টেম্বর ২০২৬ - ০১:১৬:৩৫ পিএম

লাইফ স্টাইল ডেস্ক : ওজন কমানোর ক্ষেত্রে সাধারণত কী খাবেন, কতটা ব্যায়াম করবেন বা কত দ্রুত ওজন কমানো যাবে—এসব বিষয় নিয়েই বেশি আলোচনা হয়। তবে ওজন কমানোর এই প্রক্রিয়ায় শরীরের ভেতরে আর কী ধরনের পরিবর্তন ঘটে, সে বিষয়ে তুলনামূলকভাবে কম কথা বলা হয়। হিন্দুস্তান টাইমসের এক প্রতিবেদনে বলাহয়েছে, ওজন কমানোর সময় শুধু শরীরের ওজন নয়, ক্ষুধা, ঘুম, শক্তির মাত্রা এবং মানসিক অবস্থাতেও পরিবর্তন দেখা দিতে পারে।

ওজনের ওঠানামা নিয়ে হতাশ হওয়ার কারণ নেই

ওজন কমানোর সময় প্রতিদিন ওজন মেপে ফলাফল বিচার করা সবসময় সঠিক নয়। শরীরে পানি জমে সাময়িকভাবে ওজন কয়েক কেজি পর্যন্ত বেড়ে যেতে পারে। অতিরিক্ত লবণযুক্ত খাবার, মানসিক চাপ কিংবা নতুন করে ব্যায়াম শুরু করার মতো কারণেও শরীর পানি ধরে রাখতে পারে। তাই শরীরে চর্বি কমতে থাকলেও তার প্রভাব সঙ্গে সঙ্গে ওজন মাপার যন্ত্রে দেখা নাও যেতে পারে।

দ্রুত ওজন কমানোর ঝুঁকি

অল্প সময়ে অনেকটা ওজন কমানোর চেষ্টা শরীরের জন্য সবসময় উপকারী নয়। এতে চর্বির পাশাপাশি পেশিও কমে যেতে পারে। তাই শুধু ওজনের সংখ্যা কমানোর দিকে মনোযোগ না দিয়ে শরীরের সামগ্রিক স্বাস্থ্য ও শক্তি বজায় রাখাও গুরুত্বপূর্ণ।

বিশেষজ্ঞদের মতে, ধীরে ধীরে ওজন কমানোকে ব্যর্থতা হিসেবে দেখার কোনো কারণ নেই। বরং দীর্ঘমেয়াদে সুস্থ থাকা এবং ওজন ধরে রাখার মতো অভ্যাস তৈরি করাই বেশি গুরুত্বপূর্ণ।

ওজন কমলে ক্ষুধা কেন বাড়তে পারে?

দীর্ঘদিন ধরে ওজন কমানোর চেষ্টা করলে ক্ষুধা নিয়ন্ত্রণের সঙ্গে জড়িত হরমোনে পরিবর্তন আসতে পারে। এ সময় ঘ্রেলিনের মাত্রা বাড়তে এবং লেপটিনের মাত্রা কমতে পারে। এর ফলে আগের তুলনায় বেশি ক্ষুধা অনুভূত হতে পারে।

এটি কেবল ইচ্ছাশক্তির দুর্বলতার বিষয় নয়; শরীরের স্বাভাবিক জৈবিক প্রক্রিয়াও এর জন্য দায়ী হতে পারে। এ কারণেই ওজন কমানোর পর তা ধরে রাখা অনেকের কাছে কঠিন হয়ে ওঠে।

তাই দ্রুত ওজন কমানোর বদলে দীর্ঘমেয়াদে অনুসরণ করা যায়—এমন স্বাস্থ্যকর খাদ্যাভ্যাস ও জীবনযাপন গড়ে তোলার ওপর গুরুত্ব দেওয়া প্রয়োজন।

ঘুমও হতে পারে গুরুত্বপূর্ণ বিষয়

ওজন কমানোর সময় অনেকেই খাবার ও ব্যায়ামকে সবচেয়ে বেশি গুরুত্ব দেন। কিন্তু পর্যাপ্ত ঘুমও এই প্রক্রিয়ার একটি গুরুত্বপূর্ণ অংশ।

ঘুমের ঘাটতি ক্ষুধা নিয়ন্ত্রণকারী হরমোন এবং মানসিক চাপের ওপর প্রভাব ফেলতে পারে। এর ফলে স্বাস্থ্যকর খাবার খাওয়ার চেষ্টা করলেও ক্ষুধা কিংবা বিভিন্ন খাবারের প্রতি আকাঙ্ক্ষা নিয়ন্ত্রণ করা কঠিন হয়ে যেতে পারে। তাই সঠিক খাদ্যাভ্যাস ও নিয়মিত ব্যায়ামের পাশাপাশি পর্যাপ্ত ও নিয়মিত ঘুমের অভ্যাস করাও জরুরি।

সাফল্য শুধু ওজনের সংখ্যায় নয়

ওজন কমানোর ক্ষেত্রে শুধু ওজন মাপার যন্ত্রে কত কেজি কমেছে, সেটিকে সাফল্যের একমাত্র মাপকাঠি হিসেবে দেখা উচিত নয়। শরীরের শক্তি ও কর্মক্ষমতা, ঘুমের মান, খাদ্যাভ্যাস এবং সামগ্রিক সুস্থতার দিকেও নজর দেওয়া প্রয়োজন।

বিশেষজ্ঞদের পরামর্শ, দ্রুত ফল পাওয়ার জন্য কঠোর পদ্ধতি অনুসরণ না করে ধীরে ধীরে স্বাস্থ্যকর ও টেকসই অভ্যাস গড়ে তোলা ভালো। প্রয়োজন অনুযায়ী চিকিৎসক বা যোগ্য পুষ্টিবিদের পরামর্শ নেওয়াও উপকারী হতে পারে।

 

 

 

আয়শা/০৪ সেপ্টেম্বর ২০২৬,/দুপুর ১:১২

▎সর্বশেষ

ad