আন্তর্জাতিক ডেস্ক : ভারতের গ্রেটার নয়ডায় চলন্ত বাসে ১৬ বছর বয়সি এক কিশোরীকে সংঘবদ্ধ ধর্ষণের অভিযোগ উঠেছে। এ ঘটনায় বাসচালক ও কন্ডাক্টরকে গ্রেফতার করেছে পুলিশ। চলতি মাসের ৪ আগস্ট এ ঘটনা ঘটে। সোমবার (৩১ আগস্ট) এক প্রতিবেদনে এ তথ্য জানিয়েছে ভারতীয় সংবাদমাধ্যম এনডিটিভি।
প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, গ্রেফতার দুজন হলেন— বাসচালক কুলদীপ (৩৯) ও কন্ডাক্টর সন্দীপ (২৬)। বেসরকারি পরিবহণ প্রতিষ্ঠান বিশ্বনাথ ট্রাভেলসের হয়ে তারা দুই বছরেরও বেশি সময় ধরে কাজ করছিলেন বলে জানিয়েছেন প্রতিষ্ঠানটির এক কর্মী।
পুলিশ জানায়, উত্তরপ্রদেশের মৈনপুরী থেকে নয়ডার উদ্দেশে যাচ্ছিল কিশোরীটি। পরিবারের সদস্যদের না জানিয়েই সে নয়ডায় এক কাজিনের বাড়িতে যাওয়ার জন্য বের হয়। পড়াশোনা নিয়ে মায়ের বকাঝকার পর সে বাড়ি থেকে বের হয়েছিল বলে পুলিশের কাছে দেওয়া অভিযোগে উল্লেখ করেছে কিশোরী।
নয়ডার প্যারী চকে নামার পর প্রচণ্ড বৃষ্টি ও অন্ধকারের মধ্যে সে বুঝতে পারে, এখনও তার গন্তব্যে পৌঁছায়নি। তখন রাত প্রায় ৯টা। কাজিনের বাড়ি ছিল আরও প্রায় ৩৫ কিলোমিটার দূরে। একা ও বৃষ্টিতে ভেজা অবস্থায় সে একটি যানবাহনের অপেক্ষা করছিল।
একপর্যায়ে একটি যাত্রীবিহীন স্লিপার বাস তার কাছে এসে থামে। কন্ডাক্টর তাকে জানান, বাসটিও নয়ডার সেক্টর-৬৩-এর দিকে যাচ্ছে। এরপর কিশোরীটি বাসে ওঠে। তবে পুলিশের দাবি, বাসটি আসলে গ্রেটার নয়ডার সুরজপুরের একটি ওয়ার্কশপ থেকে ফিরছিল।
কিশোরীর অভিযোগ, বাস চলতে শুরু করার পর কন্ডাক্টর তার সঙ্গে অসদাচরণ করেন এবং তাকে যৌন নির্যাতন করেন। এ সময় তাকে বাধা দিলে হত্যার হুমকি দেওয়া হয় বলেও অভিযোগে উল্লেখ করা হয়েছে। অভিযোগ অনুযায়ী,যৌন নির্যাতনের পর কিশোরীকে দিল্লির কাশ্মীরি গেটের কাছে রিং রোড এলাকায় ফেলে রেখে চলে যায় অভিযুক্তরা। পরে কিশোরী পুলিশের কাছে অভিযোগ করলে অভিযুক্তদের ধরতে তাৎক্ষণিকভাবে অভিযান শুরু হয়। পাশাপাশি ঘটনাটি তদন্তে নামে পুলিশ।
পুলিশ জানিয়েছে, বাসটি ছিল ‘স্লিপার’ ধরনের। এর প্রতিটি বার্থ পর্দা দিয়ে ঢাকা থাকায় অভিযুক্তরা সেই সুযোগ নিয়েছিল বলে তদন্তকারীদের ধারণা। ফরেনসিক দল বাসের ভেতর থেকে কিশোরীর চুলের নমুনা সংগ্রহ করেছে। পুলিশ বাসটি জব্দ করেছে। পাশাপাশি বাসটি যে পথে চলেছিল, সেই রুটের বিভিন্ন এলাকার সিসিটিভি ফুটেজও সংগ্রহ করেছেন তদন্তকারীরা।
আয়শা/৩১ অগাস্ট ২০২৬,/বিকাল ৩:৩৪
