যুক্তরাষ্ট্রের ‘অর্থনৈতিক যুদ্ধে’ অংশ নিলে শত্রু ভাববে ইরান

Ayesha Siddika | আপডেট: ২৩ আগস্ট ২০২৬ - ০৯:৪৭:৩৮ পিএম

আন্তর্জাতিক ডেস্ক : যেসব দেশ যুক্তরাষ্ট্রের ‘অর্থনৈতিক যুদ্ধে’ ইরানের বিরুদ্ধে অংশ নেবে, তাদের শত্রু হিসেবে গণ্য করা হবে বলে সতর্ক করেছেন দেশটির সুপ্রিম ন্যাশনাল সিকিউরিটি কাউন্সিলের (এসএনএসসি) সচিব মোহসেন রেজাই। তিনি বলেন, কোনো দেশ ইরানের বিরুদ্ধে তথাকথিত ‘অর্থনৈতিক যুদ্ধে’ অংশ নিলে ইরান হরমুজ প্রণালি ও পারস্য উপসাগর দিয়ে ‘এক ফোঁটা তেলও’ বের হতে দেবে না।

ইরানের এই কর্মকর্তা আরও বলেন, পরিস্থিতির পরিপ্রেক্ষিতে দেশটি তার যুদ্ধকৌশল ও কূটনৈতিক আচরণে পরিবর্তন আনবে। তাঁর দাবি, সামরিক হামলায় ব্যর্থ হওয়ার পর যুক্তরাষ্ট্র এখন অবরোধ ও অর্থনৈতিক চাপের মাধ্যমে পরিস্থিতি নিজেদের অনুকূলে নেওয়ার চেষ্টা করছে।

এর আগে ইরান ওই অঞ্চলের যেসব দেশে মার্কিন সামরিক ঘাঁটি রয়েছে, সেগুলোকে লক্ষ্যবস্তু বানিয়েছিল। বর্তমানে ইরান ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে আলোচনা স্থগিত রয়েছে। তবে শুক্রবার ইরানের প্রেসিডেন্ট মাসুদ পেজেশকিয়ান বলেন, গত ছয় মাসের বিরোধের অবসানের সময় এসেছে।

যুক্তরাষ্ট্র ইরানের ওপর কঠোর অর্থনৈতিক নিষেধাজ্ঞা আরোপ করেছে। পাশাপাশি অন্যান্য দেশকেও ইরানের সঙ্গে অর্থনৈতিক সম্পর্ক ছিন্ন করার আহ্বান জানিয়েছে। এদিকে ইরানের ওপর যুক্তরাষ্ট্রের হামলার কারণে বিভিন্ন দেশের মধ্যে পারমাণবিক অস্ত্র অর্জনের ‘আকাঙ্ক্ষা’ বেড়েছে বলে মন্তব্য করেছেন মোহসেন রেজাই।

এক সাক্ষাৎকারে তিনি বলেন, আন্তর্জাতিক নিয়মকানুন মেনে চলার পরও যদি কোনো দেশ হামলা থেকে নিজেদের রক্ষা করতে না পারে, তাহলে প্রশ্ন ওঠে—‘আমরা কেন পারমাণবিক বোমা অর্জন করব না?’

রেজাইয়ের মতে, ইরানের ওপর যুক্তরাষ্ট্রের হামলার কারণে কিছু দেশ এই সিদ্ধান্তে পৌঁছেছে যে, পারমাণবিক অস্ত্র অর্জন করাই হয়তো আরও কার্যকর প্রতিরোধব্যবস্থা গড়ে তোলার উপায়।

তিনি বলেন, ইরান যখন পরমাণু অস্ত্রের বিস্তার রোধ চুক্তি (এনপিটি) বা নিউক্লিয়ার নন-প্রলিফারেশন ট্রিটির সদস্য ছিল এবং আন্তর্জাতিক পরমাণু শক্তি সংস্থার (আইএইএ) সঙ্গে ব্যাপকভাবে সহযোগিতা করছিল, তখনই দেশটিকে লক্ষ্যবস্তু বানানো হয়েছিল।

রেজাই দাবি করেন, এর ফলে এখন বিশ্বজুড়ে এমন ধারণা তৈরি হয়েছে যে, এনপিটি বা আন্তর্জাতিক পরমাণু শক্তি সংস্থার সদস্যপদ—কোনোটিই কার্যকর নিরাপত্তা নিশ্চয়তা দিতে পারে না। এতে বিভিন্ন দেশের মধ্যে পারমাণবিক অস্ত্র অর্জনের আকাঙ্ক্ষা আরও বেড়ে গেছে।

সাক্ষাৎকারে হরমুজ প্রণালি নিয়েও সতর্কবার্তা দেন ইরানের সুপ্রিম ন্যাশনাল সিকিউরিটি কাউন্সিলের সচিব। তিনি বলেন, ইরানের বিরুদ্ধে কোনো দেশ অর্থনৈতিক চাপ বা অবরোধে অংশ নিলে এর প্রতিক্রিয়ায় গুরুত্বপূর্ণ এই জলপথ দিয়ে তেল পরিবহণ বন্ধ করে দেওয়ার মতো পদক্ষেপ নিতে পারে তেহরান।

 

 

আয়শা/২৩ অগাস্ট ২০২৬,/রাত ৯:২২

▎সর্বশেষ

ad