আন্তর্জাতিক ডেস্ক : পরবর্তী চন্দ্র অভিযানের লক্ষ্যে প্রস্তুতি সম্পন্ন করেছে চীন। এরই মধ্যে চাঁদে পানির অস্তিত্ব খোঁজার লক্ষ্যে তৈরি রোবটচালিত যানটি বাহক রকেটের ওপর বসানোর কাজ শেষ হয়েছে।
বুধবার (১৯ আগস্ট) চায়না ম্যানড স্পেস এজেন্সি এ তথ্য জানায়।
সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে জানা গেছে, ‘চাং’ই-৭’-এর উৎক্ষেপণের সব প্রস্তুতি প্রায় সম্পন্ন। দক্ষিণ চীনের হাইনান প্রদেশের ওয়েনচাং মহাকাশ উৎক্ষেপণ কেন্দ্রে লং মার্চ-৫ বাহক রকেটের ওপর অনুসন্ধান যানটি বসানো হয়েছে।
সংস্থাটি জানিয়েছে, আগামী কয়েকদিনের মধ্যেই রকেটটি উৎক্ষেপণ করা হবে। তবে ঠিক কোন তারিখ ও সময়ে তা উড়বে, তা এখনো চূড়ান্তভাবে ঘোষণা করা হয়নি।
‘চাং’ই-৭’ একটি মনুষ্যবিহীন রোবটিক অভিযান। এর প্রধান উদ্দেশ্য চাঁদের মাটিতে পানির অস্তিত্ব খুঁজে বের করা। বিজ্ঞানীরা দীর্ঘদিন ধরে ধারণা করে আসছেন, চাঁদের দক্ষিণ মেরুর স্থায়ী ছায়াঢাকা গহ্বরগুলোতে বরফ আকারে পানি থাকতে পারে। এই অভিযানের মাধ্যমে সেই সম্ভাবনা যাচাই করা হবে।
ওয়েনচাং উৎক্ষেপণ কেন্দ্র সূত্রে জানা গেছে, ‘চাং’ই-৭’-কে গত এপ্রিলে বিমানপথে উৎক্ষেপণ কেন্দ্রে আনা হয়। আর লং মার্চ-৫ রকেটটি পৌঁছায় গত জুলাইয়ে জাহাজপথে। এরপর সেখানেই যান ও রকেট একত্রিত করে প্রয়োজনীয় পরীক্ষা-নিরীক্ষা চালানো হয়। বুধবার সকালে সফলভাবে সেগুলো উৎক্ষেপণ টাওয়ারে স্থানান্তর করা হয়েছে।
চীন এর আগে ‘চাং’ই-৪’ ও ‘চাং’ই-৫’ মিশন সফলভাবে সম্পন্ন করলেও, ‘চাং’ই-৭’-কে আরও জটিল ও চ্যালেঞ্জিং বলে মনে করছেন বিশেষজ্ঞরা। কারণ এই অভিযানে চাঁদের এমন একটি অংশে নামতে হবে, যেখানে আগে কখনো কোনো যান অবতরণ করেনি। এ ছাড়া সেখানে তাপমাত্রা অত্যন্ত নিম্ন এবং সৌর আলো প্রায় অনুপস্থিত।
আন্তর্জাতিক মহাকাশ গবেষকদের মতে, চাঁদে পানি পাওয়া গেলে তা ভবিষ্যতে সেখানে মানব বসতি স্থাপন, অক্সিজেন উৎপাদন ও জ্বালানি তৈরিতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে। বর্তমানে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র, ভারত, রাশিয়াসহ একাধিক দেশ চাঁদের দক্ষিণ মেরুতে গবেষণা অভিযান পরিচালনা করছে বা করছে পরিকল্পনা।
উল্লেখ্য, চাং’ই প্রকল্প বা মহাকাশযানগুলোর নামকরণ করা হয়েছে প্রাচীন চীনা উপকথার চন্দ্রদেবী চাং’ই-এর নামানুসারে।
সূত্র: সিসিটিভি, চায়না ডেইলি
কিউটিভি/অনিমা/২০ অগাস্ট ২০২৬,/সকাল ১১:০৭
