তথ্যপ্রযুক্তি ডেস্ক : লাল গ্রহ মঙ্গলের একটি সাধারণ পাথরে লেজার ছুড়েছিল নাসার অনুসন্ধানী যান বা রোভার ‘পারসিভিয়ারেন্স’। আর তাতেই বেরিয়ে এল অবাক করা এক তথ্য। পাথরের ভেতর লুকিয়ে রয়েছে পৃথিবীর মতো মূল্যবান রত্নপাথরের অস্তিত্ব! এই চমকপ্রদ আবিষ্কারটি বলছে, লাল গ্রহের ভূতাত্ত্বিক ইতিহাস বিজ্ঞানীদের আগের ধারণার চেয়েও অনেক বেশি জটিল ও বৈচিত্র্যময়।
নাসার বিজ্ঞানীরা জেজোরো খাদ এলাকায় এই আবিষ্কারটি করেছেন। রোভারের উন্নত লেজার যন্ত্র ব্যবহার করে একটি পাথর পরীক্ষার সময় তারা অপ্রত্যাশিতভাবে বিপুল পরিমাণ রত্ন-সংশ্লিষ্ট খনিজের সন্ধান পান। লস আলামস ন্যাশনাল ল্যাবরেটরির ভূ-রসায়নবিদ অ্যান ওলিলার নেতৃত্বাধীন একটি দল জানিয়েছে, পাথরের নমুনাটি বিশ্লেষণ করে সেখানে ‘ক্রোমিয়াম-যুক্ত কোরান্ডাম’-এর স্পষ্ট প্রমাণ মিলেছে। এই ধরনের খনিজ সাধারণত এমন জায়গায় পাওয়ার কথা নয়। এই ঘটনা বিজ্ঞানীদের রীতিমতো চমকে দিয়েছে।
মঙ্গলে কীভাবে এই রত্নপাথরের উপাদান তৈরি হলো? গবেষকদের মতে, কোটি কোটি বছর আগে ওই পাথরের ফাটল দিয়ে অত্যন্ত গরম পানি প্রবাহিত হয়েছিল। পৃথিবীতেও ঠিক এই প্রক্রিয়ায় স্ফটিক ও রত্নপাথর তৈরি হয়ে থাকে। ফলে এই আবিষ্কারটি নতুন করে প্রমাণ করছে, মঙ্গলের বর্তমান রুক্ষ ভূপ্রকৃতি তৈরিতে একসময় তরল পানির বিশাল ভূমিকা ছিল।
‘জিওফিজিক্যাল রিসার্চ লেটারস’ জার্নালে বিস্তারিত প্রকাশিত এই গবেষণার তথ্য মঙ্গলের প্রাচীন পরিবেশকে আরও ভালোভাবে বুঝতে সাহায্য করবে। কোটি বছর আগে সেখানে অণুজীবের বসবাসের উপযোগী কোনো পরিবেশ ছিল কি না, তা জানতেও এটি বিজ্ঞানীদের নতুন পথ দেখাবে। সেই সঙ্গে মঙ্গলের পৃষ্ঠের নিচে আগ্নেয়গিরির কার্যকলাপ এবং পানির প্রবাহের ইতিহাস সম্পর্কেও গুরুত্বপূর্ণ ধারণা পাওয়া যাবে।
ভবিষ্যতে পৃথিবীতে এনে আরও বিস্তারিত গবেষণার জন্য পারসিভিয়ারেন্স রোভারটি এখনো মঙ্গলের বুক থেকে এমন রোমাঞ্চকর নমুনা সংগ্রহ করে চলেছে। দেখতে সাধারণ একটি পাথরের ভেতর লুকিয়ে থাকা এই রত্ন-রহস্য আবারও প্রমাণ করল, লাল গ্রহ সম্পর্কে মানুষের এখনো অনেক কিছুই জানার বাকি রয়ে গেছে।
কিউটিভি/অনিমা/১৩ অগাস্ট ২০২৬,/বিকাল ৪:১৫
