আন্তর্জাতিক ডেস্ক : রাশিয়ার ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন হামলায় ইউক্রেনের রাজধানী কিয়েভ ও আশপাশের এলাকায় অন্তত ১৪ জন নিহত এবং আরও ২২ জন আহত হয়েছেন। চলতি বছরে রাজধানীজুড়ে সংঘটিত সবচেয়ে প্রাণঘাতী হামলাগুলোর একটি হিসেবে একে বর্ণনা করছে ইউক্রেন।
মঙ্গলবার (৪ আগস্ট) মধ্যরাতের পর শুরু হওয়া এ হামলায় দীর্ঘ সময় বিমান হামলার সতর্কতা জারি ছিল। কিয়েভের সামরিক প্রশাসনের প্রধান তিমুর তকাচেঙ্কো বলেন, রাশিয়া আবারও ব্যাপক পরিসরে কিয়েভ অঞ্চলে ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন হামলা চালিয়েছে।
ইউক্রেনের সামরিক প্রশাসনের তথ্য অনুযায়ী, হামলায় বরিসপিল জেলায় ৯ জন, বুচা জেলায় ৪ জন এবং ফাস্তিভ জেলায় একজন নিহত হন। হামলায় আবাসিক ভবন ও গুদামসহ বিভিন্ন বেসামরিক স্থাপনা ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে।
কিয়েভের মেয়র ভিতালি ক্লিচকো জানান, শহরের কেন্দ্রীয় অংশে হামলার পর ধ্বংসস্তূপের নিচে মানুষ আটকা পড়ে থাকতে পারেন বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে। আহতদের মধ্যে অন্তত চারজনের অবস্থা গুরুতর। হামলার বিষয়ে রাশিয়া তাৎক্ষণিকভাবে কোনো মন্তব্য করেনি।
সাম্প্রতিক সপ্তাহগুলোতে কিয়েভে হামলার মাত্রা বাড়িয়েছে রাশিয়া। একই সময়ে ইউক্রেনও রাশিয়ার বিদ্যুৎ স্থাপনা ও অন্যান্য বেসামরিক অবকাঠামোতে ড্রোন হামলা জোরদার করেছে।
মঙ্গলবার সকালে মস্কো অঞ্চলে রাশিয়ার বৃহৎ ই-কমার্স প্রতিষ্ঠান ওয়াইল্ডবেরিজ-এর একটি গুদামে ইউক্রেনীয় ড্রোন হামলায় পাঁচজন নিহত ও ১০ জন আহত হয়েছেন। এর আগের দিন রাশিয়ার ক্রাসনোদার অঞ্চলের একটি সমুদ্রসৈকতে ড্রোন হামলায় সাতজন নিহত এবং ৫৮ জন আহত হওয়ার তথ্য জানিয়েছিল রুশ কর্তৃপক্ষ।
এদিকে খেরসনে এক ব্যক্তিকে ড্রোন দিয়ে তাড়া করার একটি ভিডিও প্রকাশের পর ক্ষোভ জানিয়েছে ইউক্রেন। তারা ঘটনাটিকে বেসামরিক মানুষের ওপর ইচ্ছাকৃত ‘শিকার’ বা ‘সাফারি’ অভিযান বলে অভিযোগ করেছে। তবে দুই পক্ষই বেসামরিক মানুষকে ইচ্ছাকৃতভাবে লক্ষ্যবস্তু করার অভিযোগ অস্বীকার করে আসছে।
এ ঘটনার পর রাশিয়ার ব্যালিস্টিক হামলা প্রতিরোধে যুক্তরাষ্ট্রের তৈরি আরও প্যাট্রিয়ট ক্ষেপণাস্ত্র প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা সরবরাহের জন্য মিত্র দেশগুলোর প্রতি আবারও আহ্বান জানিয়েছে ইউক্রেন।
তথ্য সূত্র- বিবিসি।
কিউটিভি/অনিমা/০৫ অগাস্ট ২০২৬,/সকাল ১১:৪৯
