ব্রেকিং নিউজ
যেকোনো সময় ইসরায়েলে হামলা, হিজবুল্লাহকে প্রস্তুত থাকতে বললো ইরান যুক্তরাজ্যের প্রধানমন্ত্রী হিসেবে দায়িত্ব নিতে যাচ্ছেন অ্যান্ডি বার্নহ্যাম সরকারের প্রধান লক্ষ্য মানুষের কল্যাণ নিশ্চিত করা : স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী ইট উৎপাদনে পরিবেশবান্ধব বিকল্প প্রযুক্তি ব্যবহারের ওপর গুরুত্বারোপ প্রধানমন্ত্রীর চীনের সাথে বাংলাদেশের সম্পর্ক অবিচ্ছেদ্য : মির্জা ফখরুল শেখ হাসিনাকে প্রত্যর্পণের অনুরোধ খতিয়ে দেখছে ভারত: জয়সওয়াল শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের হত্যাকারী মোজাফফর সেনা হেফাজতে এক সপ্তাহে বিশ্বে তেলের দাম বাড়ল ১২ শতাংশ যুক্তরাষ্ট্রকে চ্যালেঞ্জ করতে চীনের নতুন ‘এআই জোট’ দাপুটে জয়ে সিরিজে সমতা ফেরাল বাংলাদেশ

চট্টগ্রামে বন্যায় ৬১৪ গ্রামীণ সড়ক ও ১৮০ ব্রিজ-কালভার্ট ক্ষতিগ্রস্ত

Ayesha Siddika | আপডেট: ২০ জুলাই ২০২৬ - ০৮:৩৬:২৪ পিএম

ডেস্ক নিউজ : প্রবল বর্ষণ ও পাহাড়ি ঢলে চট্টগ্রামে গ্রামীণ সড়কের ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে। জেলার ১৫ উপজেলায় ৬১৪ গ্রামীণ সড়কের আংশিক কিংবা ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে। সব মিলিয়ে এসব সড়কের দৈর্ঘ ৫০০ কিলোমিটার হবে। ব্রিজ-কালভার্ট ক্ষতি হয়েছে ১৮০ টি।  এতে টাকার অংকে ক্ষতির পরিমাণ নির্ধারণ করা হয়েছে ৩৯০ কোটি টাকার মত। অনেক স্থানে গ্রামীণ সড়ক যোগাযোগ ব্যবস্থার বড় ভরসা অভ্যন্তরীণ সড়কের সিংহভাগই চলাচলের অযোগ্য হয়ে পড়েছে। কোথাও কোথাও ভেঙে পড়েছে সেতু ও কালভার্ট। চট্টগ্রাম স্থানীয় সরকার প্রকৌশল অধিদপ্তর (এলজিইডি) সূত্রে এসব তথ্য জানা গেছে।

এদিকে যোগাযোগ ব্যবস্থা ঠিক রাখার জন্য ইতিমধ্যে নিয়মিত মেরামতের অংশ ক্ষতিগ্রস্ত সড়কগুলোর কাজ শুরু করেছে এলজিইডি। সংশ্লিষ্টরা জানান, এবার টানা এক সপ্তাহেরও বেশি সময় প্রবল বর্ষণ ও পাহাড়ি ঢলের সৃষ্টি হয়। যা ছিল অন্যান্য যেকোন বছরের চেয়ে বেশি। অনেক গ্রামীণ সড়ক পানির প্রবল স্রোতে নিশ্চিহ্ন হয়ে গেছে। অনেক এলাকায় এখনও যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন রয়েছে। পাশাপাশি কালভার্ট ভেঙে পড়েছে। বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে জেলার চার উপজেলায়।

বিশেষ করে সাতকানিয়া, বাঁশখালী, চন্দনাইশ ও লোহাগাড়া উপজেলায়। সেখানে বন্যার পানির তীব্র স্রোতে সড়কগুলোর নিচের মাটি পর্যন্ত ধুয়ে গেছে। এতে অনেক গ্রাম যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন থাকায় দুর্ভোগে রয়েছে মানুষ। বিলের সঙ্গে একাকার হয়ে গেছে রাস্তা।

উপজেলাগুলোর ক্ষয়ক্ষতির চিত্র

স্থানীয় সরকার প্রকৌশল অধিদপ্তরের হিসাব মতে, সাতকানিয়া উপজেলায় ৬১টি গ্রামীণ সড়ক ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। যার দৈর্ঘ্য প্রায় ৪৭ কিলোমিটার। চারটি ব্রিজ  ও কালভার্ট ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে এখানে। চন্দনাইশ উপজেলায় ৫৫টি গ্রামীণ সড়ক ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। যার দৈর্ঘ্য ২৮ কিলোমিটার। এছাড়া গ্রামীণ ব্রিজ ও কালভার্ট ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে ছয়টি।

লোহাগাড়া উপজেলায় ৩৯টি গ্রামীণ সড়ক ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। যার দৈর্ঘ্য ৩৮ কিলোমিটার। এছাড়া গ্রামীণ ব্রিজ ও কালভার্ট ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে সাতটি। বাঁশখালী উপজেলায় ৫৮টি গ্রামীণ সড়ক ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। যার দৈর্ঘ্য ৪৬ কিলোমিটার। এছাড়া গ্রামীণ ব্রিজ ও কালভার্ট ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে ষাটটি।  এ ছাড়া  পটিয়া উপজেলায় ৬২টি গ্রামীণ সড়ক ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। যার দৈর্ঘ্য ৪৭ কিলোমিটার। গ্রামীণ ব্রিজ ও কালভার্ট ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে ৮টি।

আনোয়ারা উপজেলায় ৫৩টি গ্রামীণ সড়ক ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। যার দৈর্ঘ্য ২৮ কিলোমিটার। গ্রামীণ ব্রিজ ও কালভার্ট ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে ৪টি।  বোয়ালখালী উপজেলায় ৩৫টি গ্রামীণ সড়ক ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। যার দৈর্ঘ্য ৪৩ কিলোমিটার। গ্রামীণ ব্রিজ ও কালভার্ট ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে  ১১টি। মিরসরাই উপজেলায় ৩০টি গ্রামীণ সড়ক ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে।

যার দৈর্ঘ্য ২৮ কিলোমিটার। এখানে গ্রামীণ ব্রিজ ও কালভার্ট ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে ৫টি।  সীতাকুন্ড উপজেলায় ১৪টি গ্রামীণ সড়ক ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। যার দৈর্ঘ্য ১১ কিলোমিটার। গ্রামীণ ব্রিজ ও কালভার্ট ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে একটি। রাঙ্গুনিয়া উপজেলায় ৩৩টি গ্রামীণ সড়ক ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। যার দৈর্ঘ্য ৫৯ কিলোমিটার। গ্রামীণ ব্রিজ ও কালভার্ট ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে ১৪টি। সন্দ্বীপ উপজেলায় ৩৪টি গ্রামীণ সড়ক ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। যার দৈর্ঘ্য ২২ কিলোমিটার। গ্রামীণ ব্রিজ ও কালভার্ট ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে ১৩টি।

হাটহাজারী উপজেলায় ২০টি গ্রামীণ সড়ক ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। যার দৈর্ঘ্য ৪২ কিলোমিটার। এখানে গ্রামীণ ব্রিজ ও কালভার্ট ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে ৪টি।  ফটিকছড়ি উপজেলায় ৫৬টি গ্রামীণ সড়ক ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। যার দৈর্ঘ্য ২৯ কিলোমিটার। গ্রামীণ ব্রিজ ও কালভার্ট ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে ১৮টি। রাউজান উপজেলায় ৫২টি গ্রামীণ সড়ক ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। যার দৈর্ঘ্য ২৭ কিলোমিটার। গ্রামীণ ব্রিজ ও কালভার্ট ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে ১৬টি। কর্ণফুলী উপজেলায় ১২টি গ্রামীণ সড়ক ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। যার দৈর্ঘ্য ১১ কিলোমিটার।

এলজিইডির তথ্য অনুযায়ী, সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত উপজেলার মধ্যে রয়েছে সাতকানিয়া, বাঁশখালী, চন্দনাইশ, লোহাগাড়া। অনেক উপজেলায় ছোট ছোট সেতু ও কালভার্ট ক্ষতিগ্রস্ত  হয়েছে। অনেক স্থানে সড়কের ধসে পড়া অংশ, হেলে পড়া কালভার্ট সেতু, গ্রামীণ সড়কের উপড়ে থাকা ইট ও ক্ষতিগ্রস্ত সড়ক চলাচল অনুপযোগী হয়ে পড়েছে। বন্যায় পানি নেমে যাওয়ার পর জেলার সড়ক যোগাযোগ ও যাতায়াত নিয়ে চরম ভোগান্তির মধ্যে পড়েছেন এসব অঞ্চলের মানুষ।

চট্টগ্রাম এলজিইডির নির্বাহী প্রকৌশলী মোহাম্মদ জামাল উদ্দীন জানান, বন্যায় চট্টগ্রাম জেলায় এলজিইডির আওতাভুক্ত সড়ক ও ব্রিজ কালভার্টসহ অন্যান্য অবকাঠামোর সম্ভাব্য ক্ষয় ক্ষতির পরিমাণ প্রায় ৩৯০ কোটি টাকা। যেহেতু চট্টগ্রাম জেলায় জুলাই ও অগাস্ট এই দুই মাস বন্যা প্রবণ সেহেতু আগামী সেপ্টেম্বর মাসে এই বছরের বন্যায় মোট ক্ষয়ক্ষতির প্রকৃত পরিমাণ নিরূপণ করা সম্ভব হবে।

তাছাড়া এলজিইডি থেকে ২০২৬-২৭ অর্থ বছরে এলজিইডির আওতাভুক্ত সড়ক ও সেতু মেরামতের জন্য পর্যায়ক্রমিক সংস্কারের প্রায় ৯০ কোটি টাকা বরাদ্দ রয়েছে। যা দিয়ে বন্যায় ক্ষতিগ্রস্ত কিছু সড়ক মেরামত করা যাবে। কিন্তু বন্যায় ক্ষতিগ্রস্ত সড়ক, সেতু-কালভার্ট মেরামতের জন্য আরো অতিরিক্ত প্রায় ৩০০ কোটি টাকা প্রয়োজন রয়েছে।

 

 

আয়শা/২০ জুলাই ২০২৬,/রাত ৮:২৪

▎সর্বশেষ

ad