হরমুজে নিয়ন্ত্রণে অনড় ইরান, সমঝোতা না মানলে যুদ্ধের হুঁশিয়ারি

Anima Rakhi | আপডেট: ০২ জুলাই ২০২৬ - ০৮:৩৩:০৬ এএম
আন্তর্জাতিক ডেস্ক : পারস্য উপসাগরে প্রবেশ বা বের হওয়া জাহাজ থেকে টোল আদায় এবং হরমুজ প্রণালির ওপর নিজেদের নিয়ন্ত্রণে আন্তর্জাতিকভাবে স্বীকৃতি পাওয়ার বিষয়ে অনড় অবস্থান নিয়েছে ইরান।প্রয়োজনে শক্তি প্রয়োগ করে হলেও এই নিয়ন্ত্রণ বজায় রাখতে তারা দৃঢ়প্রতিজ্ঞ। ইরানের দুজন ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা বার্তা সংস্থা রয়টার্সকে একথা জানিয়েছেন।

ওদিকে, দ্বিতীয় দফার শান্তিবৈঠক কবে হবে, তা নিয়ে এখনও চূড়ান্ত কোনও ঘোষণা না আসার মধ্যেই যুক্তরাষ্ট্রকে হুঁশিয়ারি দিয়ে রেখেছে ইরান। দেশটির পার্লামেন্টের স্পিকার মহম্মদ বাকের কলিবফ জানিয়েছেন, যুক্তরাষ্ট্র যদি সমঝোতা চুক্তি (মউ) বাস্তবায়ন না করে তাহলে তেহরান যুদ্ধের জন্য প্রস্তুত।

তিনি আরও জানান, ওয়াশিংটন যদি প্রতিশ্রুতি রক্ষা করতে ব্যর্থ হয় তবে চূড়ান্ত চুক্তি নিয়ে আলোচনা এগোবে না। যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে তিন মাসের সংঘাতের অবসান ঘটাতে চলতি মাসে ইরান-যুক্তরাষ্ট্র সমঝোতা চুক্তি সই হয়।

এরপর তেল ইরানের তেল রপ্তানির ওপর চাপানো নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহার করেছে যুক্তরাষ্ট্র। বাকের বলেন, ‘‘হরমুজ প্রণালিতে অবরোধ উঠে যাওয়ার পর থেকে ইরান চার কোটি ব্যারেলেরও বেশি অপরিশোধিত তেল রপ্তানি করেছে।’’

তিনি জানান, হরমুজের উপর ইরান এবং ওমানের কর্তৃত্ব রয়েছে। ওই জলপথের ওপর তেহরানের নিয়ন্ত্রণ অব্যাহত থাকবে। 

সমঝোতা স্মারকের কথা উল্লেখ করে বাকের বলেন, ‘‘বিনামূল্যে হরমুজ দিয়ে ৬০ দিন যাতায়াত করতে পারবে পণ্যবাহী জাহাজগুলো। ইরান কোনও অবস্থাতেই হরমুজের উপর নিজেদের অধিকার ছেড়ে দেবে না। এটা আমদের আঞ্চলিক জলসীমা।’’

সমঝোতা চুক্তির অধীনে, ইরান আগামী ৬০ দিন কোনও টোল ছাড়াই জাহাজ চলাচলের অনুমতি দিতে সম্মত হয়েছে। তবে তেহরানের বিশ্বাস, চুক্তির শর্ত অনুযায়ী কোন কোন জাহাজ এই সংকীর্ণ জলপথ দিয়ে যাবে এবং কোন রুট ব্যবহার করবে, তা নির্ধারণের চূড়ান্ত ক্ষমতা তাদের হাতেই রয়েছে।

অন্তর্বর্তীকালীন চুক্তির মেয়াদ শেষ হওয়ার পর এই প্রণালির ওপর স্থায়ী ও আনুষ্ঠানিক নিয়ন্ত্রণ নিশ্চিত করতে চায় তেহরান। দেশটির সূত্রগুলো জানিয়েছে, ওয়াশিংটনের সঙ্গে চলমান শান্তি আলোচনায় এই বিষয়ে কোনো রফা না হওয়া পর্যন্ত ইরানি আলোচকেরা অন্য কোনো বিরোধপূর্ণ বিষয়ে আলোচনা করবেন না।

যদি অন্তর্বর্তীকালীন চুক্তির মেয়াদ না বাড়ে, তবে আগামী অগাস্টের মাঝামাঝি সময় থেকে জাহাজগুলোর কাছ থেকে টোল আদায় শুরু করবে ইরান। তবে কী পরিমাণ টোল নেওয়া হবে বা কীভাবে আদায় করা হবে, সে বিষয়ে এখনো কোনো সুনির্দিষ্ট তালিকা প্রকাশ করা হয়নি।

সংঘাত শুরুর সময় ইরান এই প্রণালি বন্ধ করে দিয়েছিল এবং ইরানি কর্মকর্তাদের দাবি, পারস্য উপসাগর ছাড়ার সময় কিছু জাহাজ থেকে নৌ-চলাচল কিংবা অন্যান্য টোল আদায় করা হয়েছিল।

কিউটিভি/অনিমা/০২ জুলাই ২০২৬,/সকাল ৮:৩২
▎সর্বশেষ

ad