ব্রেকিং নিউজ
সমঝোতার পর হরমুজ প্রণালি পাড়ি দিল ইরানের ১১ বাণিজ্যিক জাহাজ সেনাবাহিনী দেশের গণ্ডি পেরিয়ে বিশ্বপরিসরেও অবদান রাখছে : সেনাপ্রধান নিরাপত্তার ঘেরাটোপ যেন সরকার প্রধানকে জনগণ থেকে দূরে ঠেলে না দেয় : প্রধানমন্ত্রী রিজার্ভ চুরির মামলার খসড়া চার্জশিট: আতিউরসহ অভিযুক্ত ৬৪ জন সংসদের অধিবেশন শুরু শরীরে নেই পোশাক, ব্রাজিলীয় সুন্দরীর কান্ড কানাডায় মুখোমুখি ঘানা ও পানামা বিশ্ব সংবাদ ইরান চুক্তিতে বিশ্ববাজারে উচ্ছ্বাস: ট্রাম্প যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে বাণিজ্য চুক্তি বাংলাদেশের অবস্থান শক্তিশালী করতে ভূমিকা রাখবে: পররাষ্ট্রমন্ত্রী ‘সুগন্ধি আসছে’ সন্দেহে মৃত্যুর ১৮ দিন পর তরুণীর কবর খুঁড়লেন স্বজনরা

খালি পায়ে খেলা সেই ছেলেই এখন মেক্সিকোর বিশ্বকাপ নায়ক

Ayesha Siddika | আপডেট: ১৮ জুন ২০২৬ - ০৬:০২:১০ পিএম

স্পোর্টস ডেস্ক : ২০২৬ বিশ্বকাপের উদ্বোধনী ম্যাচে গোল করার পর শুধু মেক্সিকোতেই নয়, কলম্বিয়াতেও আলোচনার কেন্দ্রে জুলিয়ান কুইনোনোস। দক্ষিণ আফ্রিকার বিপক্ষে গোল করে তিনি ইতিহাস গড়েছেন। কারণ, কুইনোনোসই প্রথম কলম্বিয়ান ফুটবলার যিনি অন্য কোনো দেশের হয়ে বিশ্বকাপে গোল করেছেন।

জন্ম তার কলম্বিয়ার মাগুই পাইয়ানে। কিন্তু ফুটবলার হিসেবে গড়ে উঠেছেন মেক্সিকোতে। যে দেশ তাকে শুধু একটি ক্লাবের চুক্তিই দেয়নি, দিয়েছে ভবিষ্যৎ, পরিবার, পরিচয় এবং শেষ পর্যন্ত জাতীয় দলের জার্সিও। সেই পাওয়ার প্রতিদানও দিয়েছেন কুইনোনোস।

খালি পায়ে ফুটবল খেলা এক শিশুর গল্প

বিশ্বকাপের সেই গোলের অনেক আগে, আজটেকার গর্জনেরও আগে, কুইনোনেস ছিলেন মাগুই পাইয়ানের এক সাধারণ ছেলে। যে খালি পায়ে ফুটবল খেলত। প্রায়ই বাবা-মায়ের অনুমতি ছাড়াই খেলতে বেরিয়ে যেতেন। ঘণ্টার পর ঘণ্টা মাঠে কাটাতেন, কখনও কখনও খাওয়ার জন্যও বাড়ি ফিরতেন না। শর্টস ছিঁড়ে গেলে তার মা সেটি সেলাই করে দিতেন, আর তিনি আবার মাঠে নেমে যেতেন।

মাগুই পাইয়ানে কোনো আধুনিক একাডেমি ছিল না। সেখানে ফুটবল ছিল স্বতঃস্ফূর্ততা, বেঁচে থাকার লড়াই এবং স্বপ্ন দেখার একমাত্র পথ। সেই ছোটবেলাতেই ফুটবল ইঙ্গিত দিয়েছিল যে কুইনোনেসের মধ্যে বিশেষ কিছু আছে।

তার শৈশবের কোচদের একজন চেসার ভ্যালেন্সিয়া বলেন, খালি পায়ে খেলার অভ্যাস তার শরীরকে ভিন্নভাবে গড়ে তুলেছিল। গোড়ালির শক্তি, বল মারার ধরন, ভারসাম্য ও গতিশক্তি—সবকিছুর পেছনেই ছিল সেই কঠিন শৈশব।

‘প্যান্থার’ থেকে বিশ্বকাপের নায়ক

ক্যালির ফুটবল পাজ একাডেমিতে কুইনোনেস শুধু প্রতিভাবান খেলোয়াড় হিসেবেই পরিচিত ছিলেন না। তার নিরলস পরিশ্রমের জন্য সতীর্থরা তাকে ডাকত ‘প্যান্থার’ নামে। তবে কোচ ভ্যালেন্সিয়ার মতে, সেই নামও যথেষ্ট ছিল না। তার ভাষায়, সে আসলে সিংহের মতো। গোলমুখে আক্রমণ করার ধরনটা ছিল অসাধারণ।

মেক্সিকো বদলে দেয় জীবন

২০১৬ সালে টাইগার্স উয়ানল ক্লাবে যোগ দেওয়ার মাধ্যমে মেক্সিকো অধ্যায় শুরু হয় কুইনোনেসের। তবে তার পথ মোটেও সহজ ছিল না। শুরুতেই সাফল্য আসেনি, কিন্তু মেক্সিকো তাকে এমন কিছু দিয়েছে যা তিনি কলম্বিয়ায় পাননি—সময়, সুযোগ এবং বিশ্বাস।

দক্ষিণ আফ্রিকার বিপক্ষে মেক্সিকোর ২-০ জয়ের পর তার চাচা জেভারসন কুইনোনোস বলেন, ‘জুলিয়ান সবসময় এমন একজন, যে অসম্ভবকে সম্ভব করতে পারে। আজ সে তার সবচেয়ে বড় স্বপ্ন পূরণ করছে—প্রথম বিশ্বকাপে খেলার স্বপ্ন।’

মাত্র ৯ মিনিটেই ইতিহাস

মেক্সিকো দলে ফরোয়ার্ডের অভাব নেই। এই শতকে গুইলের্মো ফ্রাঙ্কো এবং রোগেলিও ফুনেস মোরির মতো খেলোয়াড়রা মেক্সিকোর জার্সি পরেছেন। তবে তাদের কেউই বিশ্বকাপে মেক্সিকোর হয়ে গোল করতে পারেননি।

তবে জুলিয়ান কুইনোনেসের জন্য অপেক্ষা করতে হয়েছে মাত্র নয় মিনিট। আর সেই এক গোলেই খালি পায়ে ফুটবল খেলা কলম্বিয়ার এক শিশুর গল্প পৌঁছে গেছে বিশ্বকাপের ইতিহাসে।

 

 

আয়শা/১৮ জুন ২০২৬,/সন্ধ্যা ৬:০০

▎সর্বশেষ

ad