ব্রেকিং নিউজ
শহীদ হাদি হত্যাকাণ্ড নিয়ে মুখ খুললেন মমতা খলিলুর রহমানকে প্রধানমন্ত্রীর অভিনন্দন জাতিসংঘের সাধারণ পরিষদের সভাপতি নির্বাচিত হলেন ড. খলিলুর রহমান আন্তর্জাতিক শ্রম সম্মেলনের সহ-সভাপতি নির্বাচিত বাংলাদেশ রাষ্ট্রীয় মর্যাদায় মা-বাবার পাশে চিরনিদ্রায় শায়িত তোফায়েল আহমেদ রামিসার গোপনাঙ্গ ছুরি দিয়ে ক্ষতবিক্ষত করে পানি দিয়ে ধুয়ে ফেলে সোহেল এলডিসি উত্তরণ প্রস্তুতিকাল ২০২৯ পর্যন্ত বাড়াতে সিডিপির ইতিবাচক সুপারিশ এলপি গ্যাসের দাম কমল, সন্ধ্যা থেকে কার্যকর ‘আপনি পাগল, এখন সবাই আপনাকে ঘৃণা করে’, নেতানিয়াহুকে বললেন ট্রাম্প ব্যাটারিচালিত রিকশা মহানগর এলাকার বাইরে নেওয়ার চিন্তাভাবনা চলছে: স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী

স্পিকারের সঙ্গে যুক্তরাষ্ট্র ও স্পেনের রাষ্ট্রদূতের সাক্ষাৎ

superadmin | আপডেট: ০২ জুন ২০২৬ - ০৯:৫৪:৫৮ পিএম

ডেস্কনিউজঃ জাতীয় সংসদের স্পিকার হাফিজ উদ্দিন আহমেদের সঙ্গে সৌজন্য সাক্ষাৎ করেছেন ঢাকায় নিযুক্ত যুক্তরাষ্ট্রের রাষ্ট্রদূত ব্রেন্ট ক্রিস্টেনসেন ও স্পেনের রাষ্ট্রদূত গ্যাব্রিয়েল মারিয়া সিস্তিয়াগা ওচোয়া দে চিনচেত্রু। মঙ্গলবার জাতীয় সংসদের স্পিকারের কার্যালয়ে পৃথক পৃথকভাবে এই সাক্ষাৎ অনুষ্ঠিত হয়।

মার্কিন রাষ্ট্রদূতের সঙ্গে সাক্ষাতে হাফিজ উদ্দিন আহমেদ বলেন, ১৯৭১ সালের মহান মুক্তিযুদ্ধের সময় থেকে বাংলাদেশ ও আমেরিকার মধ্যকার সম্পর্কের অগ্রযাত্রা সূচিত হয়। মহান মুক্তিযুদ্ধে যুক্তরাষ্ট্রের কূটনীতিক আর্চার কেন্ট ব্লাড বাংলাদেশের পক্ষে গুরুত্বপূর্ণ অবদান রাখেন। বাংলাদেশ ও আমেরিকার সরকার বন্ধুত্বপূর্ণ সম্পর্কের একটি মাইলফলক অতিক্রম করছে।

স্পিকার বলেন, বাংলাদেশে অনুষ্ঠিত সর্বশেষ জাতীয় সংসদ নির্বাচন অবাধ ও সুষ্ঠুভাবে সম্পন্ন হয়েছে। বাংলাদেশের জনগণ সবসময় স্বৈরাচারীর বিরুদ্ধে সংগ্রাম করে আসছে। বাংলাদেশ কেবল গণতন্ত্রের মাধ্যমেই প্রকৃত সমৃদ্ধি অর্জন করতে পারে।

সাক্ষাতকালে তারা উভয়ই যুক্তরাষ্ট্রের বাজারে বাংলাদেশী পণ্যের শুল্কমুক্ত সুবিধার উপর গুরুত্বারোপ করেন। এছাড়াও বাংলাদেশের মধ্যে প্রত্যক্ষ বৈদেশিক বিনিয়োগ সহযোগিতা বৃদ্ধি, জনগণের সঙ্গে জনগণের সম্পর্ক স্থাপন, সংসদীয় ককাস ফোরামে গণতন্ত্র দিবস উদযাপন, বাংলাদেশ থেকে পাচারকৃত অর্থ উদ্ধারে মার্কিন সরকারের সহায়তা এবং চলমান জ্বালানি সংকট নিরসনে বাংলাদেশে তেল ও গ্যাসক্ষেত্র অনুসন্ধানের মাধ্যমে জনদুর্ভোগ নিরসনের জন্য প্রতিনিধিদল মতবিনিময় করেন।

এসময় স্পিকার বাংলাদেশে বিদ্যমান রোহিঙ্গা সংকট নিয়ে মার্কিন রাষ্ট্রদূতকে সারসংক্ষেপ করেন এবং রোহিঙ্গা সংকট নিরসনে যুক্তরাষ্ট্রের গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখার প্রস্তাব করেন। রাষ্ট্রদূত জাতীয় সংসদের ‘স্পিকার’ পদে নির্বাচিত হওয়ার জন্য তাঁকে অভিনন্দন জানান।

ওদিকে স্পেনের রাষ্ট্রদূতের সঙ্গে সাক্ষাতে হাফিজ উদ্দিন আহমেদ বলেন, বাংলাদেশের সঙ্গে স্পেনের দ্বিপাক্ষিক সম্পর্ক অত্যন্ত চমৎকার ও বন্ধুত্বপূর্ণ। ইউরোপীয় ইউনিয়ন বাংলাদেশের দ্বিতীয় বৃহত্তম রপ্তানি গন্তব্য। স্পেন সরকার বাংলাদেশে বৈদেশিক বিনিয়োগ বৃদ্ধির মাধ্যমে বাংলাদেশের অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধিতে গুরুত্বপূর্ণ অবদান রাখতে পারে। তিনি বলেন, বাংলাদেশে ইতিহাসে সর্বশেষ অনুষ্ঠিত জাতীয় সংসদ নির্বাচন অবাধ, অংশগ্রহণমূলক ও সুষ্ঠুভাবে সম্পন্ন হয়েছে। ইউরোপীয় ইউনিয়নসহ বিশ্বের বিভিন্ন দেশ নির্বাচনী পর্যবেক্ষক দল পাঠিয়ে এই নির্বাচনকে গ্রহণযোগ্য করে গণতন্ত্র পুন:প্রতিষ্ঠার অগ্রযাত্রায় অবদান রেখেছে।

সাক্ষাতে তারা উভয়ই বাংলাদেশের মধ্যম আয়ের দেশে উত্তরণ পরবর্তী বাংলাদেশে ইউরোপীয় ইউনিয়নের বৈদেশিক বিনিয়োগ বৃদ্ধির প্রয়োজনীয়তার ওপর বিশেষ গুরুত্বারোপ করেন। এছাড়াও দুই দেশের জনগণের সাথে জনগণের সম্পর্ক স্থাপন, তৈরি পোশাক রপ্তানি, এলএনজি এবং জ্বালানি সংকট নিয়ে মতবিনিময় করেন।

এসময় স্পিকার জাতিসংঘের সাধারণ পরিষদের ৮১তম অধিবেশনে সভাপতি পদে বাংলাদেশ সরকারের পররাষ্ট্রমন্ত্রীকে মনোনয়ন দেয়ার জন্য স্পেন সরকারের সমর্থন কামনা করেন। সাক্ষাতে জাতীয় সংসদ সচিবালয়ের সংশ্লিষ্ট ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।

অন্যদিকে জাতীয় সংসদের ডেপুটি স্পিকার ব্যারিস্টার কায়সার কামালের সৌজন্য সাক্ষাৎ করেছেন০ ইউনিসেফ বাংলাদেশের সোশ্যাল পলিসি চিফ স্ট্যানলি গুয়াভুইয়ার নেতৃত্বে একটি প্রতিনিধিদল। মঙ্গলবার জাতীয় সংসদের ডেপুটি স্পিকারের কার্যালয়ে এ সাক্ষাৎ অনুষ্ঠিত হয়।

সাক্ষাতে ডেপুটি স্পিকার বলেন, আমাদের সবার সন্তান থাকলেও তাদের সুরক্ষা বিষয়ে আমরা যথেষ্ট সচেতন নই। সংসদীয় ককাস গঠনের পূর্ব থেকেই শিশুবান্ধব বাজেট ও নীতি প্রণয়নে ইউনিসেফের প্রচেষ্টাকে তিনি সাধুবাদ জানান। যে সকল সংসদ সদস্যরা শিশুবান্ধব নীতি প্রণয়নের বিষয়ে সংসদে বক্তব্য রাখবেন, তাদের নিয়ে গোলটেবিল বৈঠকের আয়োজনের মাধ্যমে একটি ফলপ্রসূ আলোচনা করা সম্ভব।

ইউনিসেফের প্রতিনিধি বলেন, সংসদ সদস্যদের সঙ্গে অ্যাডভোকেসির অংশ হিসেবে প্রাক-বাজেট ব্রিফিং ও গোলটেবিল আলোচনার প্রয়োজন রয়েছে। এর মাধ্যমে শিশুরা সরাসরি নীতিনির্ধারকদের সঙ্গে মতবিনিময়ের সুযোগ পায়। শুধু বাজেটে বরাদ্দ বৃদ্ধি নয়, বরং তার বাস্তবায়নে স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতা নিশ্চিত করাও অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।
সাক্ষাতে শিশু অধিকার, শিশুবান্ধব নীতি প্রণয়ন, বাজেট বরাদ্দ বৃদ্ধি, সামাজিক সুরক্ষা এবং বিভিন্ন দ্বিপক্ষীয় সহযোগিতার বিষয় নিয়ে আলোচনা হয়।

এসময় ইউনিসেফ প্রতিনিধিদলের সদস্য সোশ্যাল পলিসি অ্যান্ড ইকোনমিক স্পেশালিস্ট মো. আশিক ইকবাল, কমিউনিকেশন স্পেশালিস্ট ফারিয়া সেলিম, কমিউনিকেশন অফিসার কারিশমা আহমেদ এবং জাতীয় সংসদ সচিবালয়ের সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।

বিপুল/০২.০৬.২০২৬/রাত ৯.৪৯

▎সর্বশেষ

ad