
স্পোর্টস ডেস্ক : পুরো টুর্নামেন্টের লড়াই পর্যালোচনায় বলা যায়, এবারের ফাইনাল বেশ প্রতিদ্বন্দ্বিতাপূর্ণই হতে যাচ্ছে। আসরে ভারত মাত্র একবার হেরেছে, নিউজিল্যান্ড হেরেছে দুটি ম্যাচ। যদি ফাইনালে ভারত জেতে, তবে তারা তৃতীয়বারের মতো টি-২০ বিশ্বকাপ ট্রফি জিতবে। আর কিউইরা যদি জিতলে প্রথমবার বিশ্বকাপ ট্রফির স্বাদ পাবে।
ভারতের শক্তি ও দুর্বলতা
র্যাঙ্কিংয়ের শীর্ষ দল ভারতের বড় শক্তি ঘরের মাঠের সুবিধা আর দর্শকদের সমর্থন। অবশ্য ফেবারিট হওয়ায় তাদের চাপটাও বেশি। এই টুর্নামেন্টে ভারত পুরোপুরি সাবলীল ক্রিকেট খেলতে পারেনি। দলীয় পারফরম্যান্সের চেয়ে ব্যক্তিগত পারফরম্যান্সেই বেশি নির্ভর করতে হয়েছে তাদের। সাঞ্জু স্যামসনের দুটি কার্যকরী ইনিংসে ভর করে সেমিফাইনাল ও পরবর্তীতে ফাইনাল নিশ্চিত করেছে স্বাগতিকরা। ৫০ বলে ৯৭ রানের পর ৪২ বলে ৮৯ রানের দুটি দানবীয় ইনিংস খেলেছেন তিনি। এর আগে ব্যাটিংয়ে ইশান কিশান ছিলেন দলের মূল সহায়ক। বোলিংয়ে বরুণ চক্রবর্তী গুরুত্বপূর্ণ উইকেট নিয়েছেন, তবে তুলনামূলকভাবে রানটা একটু বেশি খরচ করেছেন।
নিউজিল্যান্ডের শক্তি ও দুর্বলতা
প্রথমবার বিশ্বকাপ জয়ের হাতছানি নিউজিল্যান্ডের সামনে। তাই শিরোপা ঘরে তুলতে তাদের থাকবে বাড়তি তাড়না। বিশেষ করে অপরাজিত দক্ষিণ আফ্রিকাকে সেমিফাইনালে বিধ্বস্ত করার পর আরও আত্মবিশ্বাসী তারা। ব্ল্যাক ক্যাপস শক্তিশালী ব্যালান্সড দল। ওপেনিং জুটি ফিন অ্যালেন-টিম সেইফার্ট টুর্নামেন্টের সবচেয়ে ধারাবাহিক জুটি। বোলিংয়ে উইকেট ভাগাভাগি হয়েছে, রাচিন রবীন্দ্র উল্লেখযোগ্য সাফল্য পেয়েছেন।
নিউজিল্যান্ডের জন্য চ্যালেঞ্জ আহমেদাবাদ স্টেডিয়াম
আহমেদাবাদের নরেন্দ্র স্টেডিয়াম কিছুটা অস্বস্তি নিউজিল্যান্ডের জন্য। ১ লাখ ৩২ হাজার ধারণক্ষমতার এ স্টেডিয়ামে স্বাগতিকদের রেকর্ড বেশ ভালো। ১০ ম্যাচের মধ্যে ৭ জয় রয়েছে তাদের। তাছাড়া এ ম্যাচে ভারতের বিপক্ষে খেলা একমাত্র টি-টোয়েন্টিতেও বাজে স্মৃতি রয়েছে কিউইদের। ২০২৩ ফেব্রুয়ারির ওই ম্যাচে ভারতের ২৩৪ রানের জবাবে মাত্র ৬৬ রানে অলআউট হয়েছিল তারা।
তবে ফাইনালের এক পূর্বাভাস আশা দেখাচ্ছে নিউজিল্যান্ডকে
ইতিহাস বলে, টি-টোয়েন্টিতে কোনো দল টানা চ্যাম্পিয়ন হতে পারেনি। আর স্বাগতিক দলও কখনো চ্যাম্পিয়ন হয়নি। তাছাড়া টি-টোয়েন্টি ক্রিকেট বেশ অপ্রত্যাশিত একটি ফরম্যাট। নিজেদের দিনে যেকোনো দল যে কাউকে হারিয়ে দিতে পারে। যদি নিউজিল্যান্ড শুরু থেকেই আক্রমণাত্মক হয় এবং ভারতের ১ লাখেল বেশি দর্শককে চুপ করাতে পারে, তাহলে সেটা সূর্যকুমারদের উপর চাপ সৃষ্টি করতে পারে। সেক্ষেত্রে ফাইনাল নিজেদের করে নিতে পারে কিউইরা।
আয়শা/০৬ মার্চ ২০২৬,/রাত ১১:০০






