আগামী এক দশকে তাপমাত্রা সর্বোচ্চ সীমা পেরোনোর সম্ভাবনা

Ayesha Siddika | আপডেট: ২১ জানুয়ারী ২০২৬ - ১০:৪৮:৫০ পিএম

আন্তর্জাতিক ডেস্ক : জীবাশ্ম জ্বালানি পোড়ানোর ফলে গত ২০ লাখ বছরের মধ্যে এখন বায়ুমণ্ডলে কার্বন ডাই-অক্সাইডের পরিমাণ সর্বোচ্চ।  আগামী এক দশকের মধ্যেই বৈশ্বিক তাপমাত্রা শিল্প-পূর্ব সময়ের তুলনায় ১ দশমিক ৫ ডিগ্রি সেলসিয়াসের সীমা ছাড়িয়ে যেতে পারে।  জাতিসংঘ পরিবেশ কর্মসূচি (ইউএনইপি) থেকে প্রকাশিত এমিশনস গ্যাপ রিপোর্ট ২০২৫-এ এ আশঙ্কার কথা বলা হয়েছে।  বিশেষজ্ঞরা বলছেন, বিষয়টি প্রত্যাশিত হলেও এটি খুবই উদ্বেগজনক।

রিপোর্টে বলা হয়, ২০২৪ সালে গ্রিনহাউস গ্যাস নিঃসরণ দুই শতাংশের বেশি বেড়েছে।  জীবাশ্ম জ্বালানি পোড়ানোর ফলে বায়ুমণ্ডলে কার্বন ডাই-অক্সাইডের পরিমাণ এখন অন্তত ২০ লাখ বছরের মধ্যে সর্বোচ্চ।  এই গ্যাসগুলো পৃথিবীর চারপাশে চাদরের মতো তাপ আটকে রাখে, ফলে তাপমাত্রা বাড়ছে।

ইউএনইপি বলছে, দেশগুলো যদি তাদের প্রতিশ্রুতি পুরোপুরি বাস্তবায়নও করে, তবুও শতাব্দীর শেষে পৃথিবীর গড় তাপমাত্রা ২ দশমিক ৩ থেকে ২ দশমিক ৫ ডিগ্রি সেলসিয়াস পর্যন্ত বাড়তে পারে।  সীমা অতিক্রম করার ফলস্বরূপ জলবায়ু পরিবর্তনের ভয়াবহ প্রভাব পড়বে।  প্রকৃতিতে খরা, বন্যা, তাপপ্রবাহ ও ঝড় অনেক বেড়ে যাবে।  

প্যারিস জলবায়ু চুক্তির লক্ষ্য ছিল, বৈশ্বিক উষ্ণতা ১ দশমিক ৫ ডিগ্রির মধ্যে সীমাবদ্ধ রাখা।  কিন্তু রিপোর্ট অনুযায়ী, গ্রিনহাউস গ্যাস নিঃসরণ কমানোর ক্ষেত্রে বিশ্ব এখনো প্রয়োজনীয় অগ্রগতি দেখাতে পারেনি।

ইউএনইপির জলবায়ু পরিবর্তন বিভাগ প্রধান মার্টিন ক্রাউসে বলেন, সব সতর্কতার পরও বিশ্ব রেকর্ড পরিমাণে গ্রিনহাউস গ্যাস নিঃসরণ করছে।  তাই এ ফলাফল অপ্রত্যাশিত নয়। তবে এটি সবার জন্য একটি বড় সতর্কবার্তা।

বিশেষজ্ঞরা জানান, একক কোনো বছরে ১ দশমিক ৫ ডিগ্রি তাপমাত্রা ছাড়ানো চূড়ান্ত ব্যর্থতা নয়।  দীর্ঘমেয়াদি গড় তাপমাত্রা গুরুত্বপূর্ণ।  নতুন প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, এই দীর্ঘমেয়াদি গড় তাপমাত্রাই আগামী ১০ বছরের মধ্যে ১ দশমিক ৫ ডিগ্রি ছাড়াতে পারে।

রিপোর্টে আরও বলা হয়, তাপমাত্রা ১ দশমিক ৫ ডিগ্রির মধ্যে রাখতে হলে ২০৩৫ সালের মধ্যে বৈশ্বিক নিঃসরণ প্রায় ৫৫ শতাংশ কমাতে হবে, যা বর্তমান প্রতিশ্রুতির চেয়ে অনেক বেশি।  তুলনামূলকভাবে ২ ডিগ্রি সীমা ধরে রাখতে হলেও নিঃসরণ কমাতে হবে প্রায় ৩৫ শতাংশ।

ইউএনইপি সতর্ক করে বলেছে, এখন মূল লক্ষ্য হওয়া উচিত এই সীমা অতিক্রম যত অল্প সময়ের জন্য হয়, তা নিশ্চিত করা।  কারণ উষ্ণতার মাত্রা কমাতে পারলে মানুষের জীবন, অর্থনীতি ও প্রকৃতি রক্ষা করা সম্ভব।

বিশেষজ্ঞদের মতে, এই সংকট মোকাবিলায় জীবাশ্ম জ্বালানির ওপর নির্ভরতা কমিয়ে নবায়নযোগ্য জ্বালানির ব্যবহার দ্রুত বাড়াতে হবে।  একই সঙ্গে উন্নয়নশীল দেশগুলোর জন্য আর্থিক সহায়তা এবং বৈশ্বিক অর্থনৈতিক কাঠামোর সংস্কার জরুরি।

আশার খবর হলো, প্যারিস চুক্তির পর গত এক দশকে নবায়নযোগ্য জ্বালানির ব্যবহার দ্রুত বেড়েছে এবং এর খরচও কমেছে।  ইউএনইপি বলছে, প্রযুক্তি ও জ্ঞান আমাদের হাতে আছে।  এখন এ সংকট নিরসণে প্রয়োজন শুধু রাজনৈতিক সদিচ্ছা।

 

 

আয়শা/২১ জানুয়ারী ২০২৬,/রাত ১০:৪৫

▎সর্বশেষ

ad