
আন্তর্জাতিক ডেস্ক : জেরুজালেমে জাতিসংঘের সংস্থা রিলিফ অ্যান্ড ওয়ার্কস এজেন্সির (ইউএনআরডব্লিউএ) সদর দপ্তর বুলডোজার দিয়ে গুঁড়িয়ে দিয়েছে ইসরাইল। দখলদার দেশটি পশ্চিম তীরের কালান্দিয়ায় জাতিসংঘের একটি কারিগরি বিদ্যালয়ে টিয়ারগ্যাসও ছুঁড়েছে। খবর আল জাজিরার
জাতিসংঘের এই সংস্থাটির বিরুদ্ধে ইসরাইল অভিযোগ করছে, তারা হামাসের সঙ্গে সহযোগিতা করছে। যদিও ইউএনআরডব্লিউএ এটি অস্বীকার করে আসছিল। এই ধ্বংসযজ্ঞ সংস্থাটির বিরুদ্ধে ইসরাইলের সর্বশেষ পদক্ষেপ। সংস্থাটি লাখ লাখ ফিলিস্তিনি শরণার্থীকে সহায়তা দিয়ে থাকে।
দ্য গার্ডিয়ান এক প্রতিবেদনে জানিয়েছে, শুধু সদর দপ্তর গুড়িয়ে থামেনি ইসরাইলি বাহিনী। তারা জাতিসংঘের একটি ভোকেশনাল স্কুলেও টিয়ারগ্যাস ছোঁড়ে। একে আন্তর্জাতিক আইন লঙ্ঘন বলে অভিযোগ করেছে জাতিসংঘ ও ফিলিস্তিনি নেতারা।
মঙ্গলবার (২০ জানুয়ারি) সন্ধ্যা পর্যন্ত পাওয়া প্রতিবেদন অনুযায়ী, ইসরাইলি জাতীয় নিরাপত্তা মন্ত্রী ইতামার বেন-গভিরের নেতৃত্বে নিরাপত্তা বাহিনী বুলডোজার নিয়ে ইউএনআরডব্লিউএ’র প্রাঙ্গণে ঢোকে। এরপর স্থায়ী ও অস্থায়ী ভবনগুলোতে ধ্বংস ও লুটপাট চালায়। ইসরাইলি কর্মকর্তারা একে ‘ঐতিহাসিক দিন’ হিসেবে বর্ণনা করেছেন।
ইউএনআরডব্লিউএ’র কমিশনার-জেনারেল ফিলিপ লাজারিনি বলেছেন, জাতিসংঘের বিরুদ্ধে এমন হামলা আগে কখনো দেখা যায়নি। এটি আন্তর্জাতিক আইনের ওপর সরাসরি আঘাত। তিনি টুইটারে লিখেছেন, ‘আজ ইউএনআরডব্লিউএর সঙ্গে যা হয়েছে, তা আগামীকাল পৃথিবীর অন্য কোনো আন্তর্জাতিক সংস্থা বা কূটনৈতিক মিশনেরও হতে পারে।’
জাতিসংঘ মহাসচিব আন্তোনিও গুতেরেস কঠোর ভাষায় এই ধ্বংসপ্রক্রিয়ার নিন্দা জানিয়েছেন। তিনি ইসরাইলকে অবিলম্বে উচ্ছেদ অভিযান বন্ধ করার আহ্বান জানিয়েছেন। গুতেরেস বলেছেন, এই স্থানগুলো ‘জাতিসংঘের সম্পত্তি এবং আন্তর্জাতিক আইনে সুরক্ষিত’।
ইউএনআরডব্লিউএ’র মুখপাত্র জনাথান ফ্লোয়ার বলেছেন, সকাল ৭টার দিকে ইসরাইলি বাহিনী প্রাঙ্গণে প্রবেশ করে নিরাপত্তাকর্মীদের বের করে দেয়। তারপর বুলডোজার দিয়ে ভবনগুলো ভাঙা শুরু করে। সংস্থাটি একে ‘অসম্প্রদায়িক মানবিক কাজের ওপর এক অনিবার্য ও বেআইনি আক্রমণ’ হিসেবে উল্লেখ করেছে।
ইসরাইলি পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, তারা ২০২৪ সালে পাশ হওয়া আইন অনুযায়ী ইউএনআরডব্লিউএ’র কার্যক্রম পুরোপুরি নিষিদ্ধ করেছে। স্থাপনাগুলোকে নিজেদের বলে বিবেচনা করে। ইসরাইলের দাবি, কিছু ইউএনআরডব্লিউএ’র কর্মী সন্ত্রাসী গোষ্ঠীর সঙ্গে জড়িত। তবে এই অভিযোগ সবসময় অস্বীকার করে আসছে জাতিসংঘ।
আয়শা/২১ জানুয়ারী ২০২৬,/রাত ১০:৪৫





