
আন্তর্জাতিক ডেস্ক : ফিলিস্তিনের গাজায় প্রস্তাবিত শান্তি পরিষদ তথা বোর্ড অব পিসে যোগ দিতে আমন্ত্রণ পেয়েছেন ঘোষিত যুদ্ধাপরাধী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু। গাজায় গণহত্যা চালানো ইসরাইলের প্রধানমন্ত্রী ওই পরিষদে যোগ দেওয়ার সম্মতিও দিয়েছেন। বুধবার (২১ জানুয়ারি) সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে এক বিবৃতিতে নেতানিয়াহুর দপ্তর বিষয়টি নিশ্চিত করে। এই সিদ্ধান্ত এমন এক সময়ে এলো, যখন গাজায় যুদ্ধাপরাধের অভিযোগে আন্তর্জাতিক অপরাধ আদালত (আইসিসি) নেতানিয়াহুর বিরুদ্ধে গ্রেফতারি পরোয়ানা জারি করেছে। খবর আল জাজিরার
বোর্ড অব পিসে যোগ দিতে বিশ্বের ৬০টি দেশের প্রেসিডেন্ট অথবা প্রধানমন্ত্রীকে আমন্ত্রণ জানিয়েছেন ডোনাল্ড ট্রাম্প। মার্কিন প্রেসিডেন্টের চাওয়া এই সংস্থার মাধ্যমে প্রথমে গাজায় এরপর বিশ্বের বাকি সংঘাতপূর্ণ অঞ্চলে শান্তি প্রতিষ্ঠা করা। তবে যুদ্ধাপরাধী নেতানিয়াহু আমন্ত্রণ পাওয়ায় এই বোর্ডের বিশ্বাসযোগ্যতা ও নিরপেক্ষতা নিয়ে নতুন করে উদ্বেগ তৈরি হয়েছে।
‘বোর্ড অব পিস’ মূলত ফিলিস্তিনের স্বাধীনতাকামী সংগঠন হামাসের সঙ্গে দখলদার ইসরাইলের যুদ্ধবিরতির দ্বিতীয় ধাপের একটি অংশ। ট্রাম্পের পরিকল্পনা অনুযায়ী, এই বোর্ড গাজার শাসনব্যবস্থা গঠন, আঞ্চলিক সম্পর্ক উন্নয়ন, পুনর্গঠন, বিনিয়োগ আকর্ষণ ও বড় পরিসরে অর্থায়ন তদারক করবে। তবে বোর্ডটির নেতৃত্ব ও সদস্য নির্বাচন সরাসরি ট্রাম্পের নিয়ন্ত্রণে থাকায়, এতে নেতানিয়াহুর অন্তর্ভুক্তি বোর্ডটির নিরপেক্ষ ভূমিকা নিয়ে বড় প্রশ্ন তুলেছে।
নেতানিয়াহু একমাত্র আইসিসি-অভিযুক্ত নেতা নন, যাকে এই বোর্ডে আমন্ত্রণ জানানো হয়েছে। রাশিয়ার প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিনকেও বোর্ডে যোগ দেওয়ার প্রস্তাব দেওয়া হয়েছে। ইউক্রেন যুদ্ধে যুদ্ধাপরাধের অভিযোগে পুতিনের বিরুদ্ধেও আইসিসির পরোয়ানা রয়েছে। এর আগে নেতানিয়াহুর কার্যালয় বোর্ডের নির্বাহী কমিটির গঠন নিয়ে আপত্তি জানায়। বিশেষ করে ইসরাইলের আঞ্চলিক প্রতিদ্বন্দ্বী তুরস্ককে অন্তর্ভুক্ত করায় অসন্তোষ প্রকাশ করা হয়। তবে দেশটির কট্টর ডানপন্থি অর্থমন্ত্রী বেজালেল স্মোটরিচ বোর্ডটির কড়া সমালোচনা করে গাজার ভবিষ্যৎ নিয়ে ইসরাইলের একতরফা নিয়ন্ত্রণ প্রতিষ্ঠার আহ্বান জানিয়েছেন।
এই বোর্ডে ইতোমধ্যে সংযুক্ত দেশগুলোর মধ্যে রয়েছে সংযুক্ত আরব আমিরাত, মরক্কো, ভিয়েতনাম, বেলারুশ, হাঙ্গেরি, কাজাখস্তান ও আর্জেন্টিনা। যুক্তরাজ্য ও ইউরোপীয় ইউনিয়নের নির্বাহী শাখা আমন্ত্রণ পেলেও এখনও চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত জানায়নি। ইউরোপের কিছু দেশ এতে অংশ নিতে চায়নি। রাশিয়া ও চীনও তাদের অবস্থান জানায়নি। নির্বাহী বোর্ডে রয়েছেন মার্কিন পররাষ্ট্রমন্ত্রী মার্কো রুবিও, ট্রাম্পের বিশেষ দূত স্টিভ উইটকফ, ট্রাম্পের জামাতা জ্যারেড কুশনার, সাবেক ব্রিটিশ প্রধানমন্ত্রী টনি ব্লেয়ার, অ্যাপোলো গ্লোবাল ম্যানেজমেন্টের সিইও মার্ক রোয়ান এবং বিশ্বব্যাংকের প্রেসিডেন্ট অজয় বঙ্গা।
আয়শা/২১ জানুয়ারী ২০২৬,/সন্ধ্যা ৬:৩৩






